সার্ভিক্যাল স্পনডালাইসিস বা ঘাড়ের ও জয়েন্টের বাত একটি বয়সজনিত রোগ, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে।
কেন হয়
বয়স: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ক্ষয়জনিত পরিবর্তনে হয়ে থাকে।
ঘাড়ের চাপ: একইভাবে দীর্ঘক্ষণ ঘাড় বাঁকিয়ে কোনো কাজ করলে ইন্টার ভারটিব্রাল ডিস্কের ওপর চাপ পড়ে ডিস্কের গঠনগত পরিবর্তনের ফলে এই রোগ দেখা দেয়।
অস্বাভাবিক হাড়ের বৃদ্ধি: ডিস্কের আর্দ্রতা কমে গেলে দুটি কশেরুকার মাঝে ঘর্ষণের ফলে নতুন হাড় তৈরি হয়, যাকে স্পার বলে। এই স্পারের সার্ভিক্যাল স্পনডালাইসিসের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
জেনেটিক কারণ: নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিদের বংশগত কারণে কম বয়সে এই রোগ হতে পারে।
পেশাগত কারণ: যে পেশাগুলোতে বারবার ঘাড়কে একইভাবে নাড়াতে হয় বা দীর্ঘক্ষণ ঘাড়কে একইভাবে রাখতে হয়, তাদের এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। যেমন- কম্পিউটারে অনেক সময় ধরে কাজ করলে।
পূর্ববর্তী আঘাত: অনেক ক্ষেত্রে পূর্বে আঘাত পেয়ে থাকলেও সেখান থেকে সার্ভিক্যাল স্পনডালাইসিস হতে পারে।
অভ্যাসগত কারণ: ঘুমানোর সময় অধিক শক্ত অথবা অধিক নরম বালিশ ব্যবহার করলেও এই রোগ হতে পারে।
অন্য রোগ: কিছু সিস্টেমিক রোগ, যেমন- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অটোইমিউন আর্থ্রাইটিসের কারণে এই রোগটি হতে পারে।
লক্ষণসমূহ
ঘাড় ব্যথাসহ ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
পিঠের মাংসপেশিতে ব্যথা হওয়া
ঘাড়ের ব্যথা হাতে এসে পড়া
হাত অবশ অথবা ঝিম ঝিম করা (সার্ভিক্যাল রেডিকুলোপ্যাথি)
মাথাব্যথা ও মাথা ঘুরানো এবং বমি ভাব হওয়া
রোগ নির্ণয়
সর্বপ্রথম রোগীর কাছ থেকে ভালোভাবে রোগ সম্পর্কে জানা (history)। তার পর নির্দিষ্ট কিছু ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করার মাধ্যমে রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
চিকিৎসা
মেডিকেল এডুকেশন: সর্বপ্রথম রোগীকে তার রোগ সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে হবে।
মেডিকেল কাউন্সেলিং: দ্বিতীয়ত জীবনযাত্রার পরিবর্তন সম্পর্কে রোগীকে ভালো করে বলতে হবে অর্থাৎ কী করলে এই রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে আর কি করলে রোগের তীব্রতা বাড়বে।
ফিজিওথেরাপি
সার্ভিক্যাল স্পনডালাইসিসের চিকিৎসার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।
এর মাধ্যমে রোগীকে ঘাড় ও এর আশপাশের মাংসের কিছু নির্দিষ্ট ব্যায়াম করানো হয় প্রতিদিন। যার ফলে হাড়ের কার্যক্ষমতা বাড়ে ও ব্যথা কমে।
ইলেক্ট্রোথেরাপির মাধ্যমে ঘাড় পিঠ এবং হাতে গরম তাপ দেওয়া হয়। যার ফলে মাংসপেশিতে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পেয়ে ব্যথা কমে যায়।
সার্ভিক্যাল ট্র্যাকশনের মাধ্যমে ঘাড়ের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর হাড়/স্পার দিয়ে যে চাপের সৃষ্টি হয়, তা কমিয়ে ফেলা যায়। এতে হাতের অবশ কিংবা শিন শিন ভাবটা কমে আসে।
শল্য চিকিৎসা কখন করতে হবে
মেডিকেল চিকিৎসা অকার্যকর হয়ে পড়লে
নার্ভের সমস্যার কারণে হাত-পায়ের মাংস সংকুচিত হয়ে পড়লে
হাঁটা-চলা করতে অথবা হাতের সাহায্যে দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে অসুবিধা হলে
মলমূত্র ত্যাগের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে
স্পাইনাল কর্ডের কোনো সমস্যা তৈরি হলে।
পরিশেষে বলা চলে, সার্ভিক্যাল স্পনডালাইসিস সাধারণত একটি বয়সজনিত ঘাড়ের সমস্যা, যেটা একেবারে ভালো হয় না। তবে রোগী যদি সঠিক নিয়ম মেনে জীবনযাপন করতে পারেন, তবে তিনি এই রোগ থেকে অনেকটাই পরিত্রাণ পেতে পারেন।
লেখক: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা


