ব্রঙ্কিওলাইটিস হলো শিশুদের ফুসফুসের খুব ছোট শ্বাসনালির ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। এতে শ্বাসনালি ফুলে যায় এবং ভেতরে কফ জমে। ফলে শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এ রোগটি সাধারণত ২ বছরের কম বয়সি, বিশেষ করে ৬ মাসের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
ব্রঙ্কিওলাইটিসের কারণ
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি ভাইরাসের কারণে হয়। আরএসভি বা রেসপিরেটোরি সিনসিটিয়াল ভাইরাস সবচেয়ে সাধারণ কারণ। এব পাশাপাশি রাইনোভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস এবং অ্যাডেনো ভাইরাসের কারণেও ব্রঙ্কিওলাইটিস হয়।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
৬ মাসের কম বয়সি শিশু
প্রিম্যাচিউর (সময়ের আগে জন্মানো) শিশু
যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম
জন্মগত হৃদরোগ বা ফুসফুসের সমস্যা আছে
যেসব শিশু ধূমপানের ধোঁয়া বা রান্নার ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকে
ব্রঙ্কিওলাইটিসের লক্ষণ
সাধারণত সর্দি-কাশি দিয়ে শুরু হয়, এরপর—
নাক বন্ধ বা নাক দিয়ে পানি পড়া
হালকা থেকে মাঝারি জ্বর
দ্রুত শ্বাস নেওয়া
শ্বাস নিতে কষ্ট
শ্বাসের সময় শিসের মতো শব্দ
খেতে বা দুধ পান করতে না চাওয়া
কাশি বেড়ে যাওয়া
শিশুর ক্লান্ত বা দুর্বল লাগা
নোট: শিসের মতো শব্দ না থাকলেও ব্রঙ্কিওলাইটিস হতে পারে।
গুরুতর লক্ষণ (জরুরি অবস্থা)
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে নিতে হবে—
ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে যাওয়া
খুব দ্রুত বা কষ্ট করে শ্বাস নেওয়া
বুক ভেতরের দিকে দেবে যাওয়া
দুধ বা খাবার একেবারেই খেতে না পারা
অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব বা অচেতনতা
ব্রঙ্কিওলাইটিসের চিকিৎসা
ব্রঙ্কিওলাইটিস সাধারণত ভাইরাসজনিত। তাই অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসার ধরন মূলত সহায়ক। এ সময় নাকে সাধারণ স্যালাইন ড্রপ, পর্যাপ্ত দুধ ও তরল খাওয়ানো, জ্বর হলে প্যারাসিটামল দেওয়া জরুরি। এ ছাড়া শিশুর মাথা একটু উঁচু করে রাখতে হবে। শ্বাসকষ্ট বেশি হলে হাসপাতালে নিয়ে অক্সিজেন দেওয়া লাগতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে আইভি ফ্লুইড এবং নেবুলাইজেশন দরকার হতে পারে। বেশির ভাগ শিশু ৩-৭ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তবে কাশি ২-৩ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।
বাড়িতে শিশুর যত্ন
নিয়মিত নাকে স্যালাইন ড্রপ দিন
ঘর পরিষ্কার ও ধুলোমুক্ত রাখুন
ধোঁয়া (সিগারেট/রান্না) থেকে দূরে রাখুন
বারবার অল্প অল্প করে দুধ/পানি দিন
শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস লক্ষ্য করুন
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুন
ব্রঙ্কিওলাইটিস প্রতিরোধ
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস
ঠাণ্ডা-কাশি আছে এমন ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা
ধূমপান ও ধোঁয়া সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা
উচ্চ ঝুঁকির শিশুদের আরএসভি প্রতিরোধে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দেওয়া হতে পারে।
সচেতনতা বার্তা
ব্রঙ্কিওলাইটিস সাধারণত নিজে নিজেই ভালো হয়, কিন্তু গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নেওয়াই উত্তম। সবাই সচেতন হোন এবং অন্যদেরও সচেতন করুন।
লেখকের চেম্বার: আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর-৬, ঢাকা


