অ্যাংকাইলোজিং শব্দের অর্থ হলো শক্ত হয়ে যাওয়া বা ফিউজ হয়ে যাওয়া। অন্যদিকে স্পন্ডিলাইটিস শব্দের অর্থ মেরুদণ্ডের প্রদাহ। এক কথায় মেরুদণ্ড শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যাই হলো অ্যাংকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস। সঠিকভাবে চিকিৎসা না করা হলে এই রোগটি যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা, শক্ত হয়ে যাওয়া এবং গতিশীলতা মাত্রা কমে যেতে থাকে। একটি সময় স্যাক্রোইলিয়াক জয়েন্টগুলোর প্রদাহ শুরু হয়। যা মেরুদণ্ডের গোড়ার সঙ্গে পেলভিসের সংযুক্ত থাকে।
অ্যাংকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস কোন বয়সে বেশি হয়?
সাধারণত ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের অ্যাংকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস হয়ে থাকে। নারীদের তুলনায় পুরুষদের বেশি হয়ে থাকে।
অ্যাংকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস কেন হয়?
এ রোগটির সঠিক কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে গবেষকরা জেনেটিক এবং পরিবেশগত কারণ শনাক্ত করেছেন।
লক্ষণ
◉ পুরো মেরুদণ্ডে ব্যথা
◉ নিতম্বের ব্যথা
◉ সকালে ব্যথা বেশি হওয়া
◉ অবিরাম ক্লান্তি
◉ অন্য জয়েন্টগুলোর ব্যথা, যেমন—হাঁটু, কাঁধ এবং গোড়ালি
◉ এনথেসাইটিসের ব্যথা
◉ বুকের ব্যথা (পাঁজর এবং বুকের হাড়ের মধ্যবর্তী জয়েন্টগুলোর ব্যথা)
◉ চোখের প্রদাহ
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা
◉ মেরুদণ্ড ও অন্য জয়েন্টগুলো নমনীয় রাখতে মোশন এক্সারসাইজ করতে হবে। পাশাপাশি স্ট্রেচিং ব্যায়াম করতে হবে।
◉ অ্যারোবিক ব্যায়াম করতে হবে যেমন—হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো।
◉ স্পাইন মোবিলিটি এক্সারসাইজ করুন।
◉ ক্যাট-ক্যামেল এক্সারসাইজ করতে হবে।
◉ পোস্টার কারেকশন এক্সারসাইজ।
◉ জল থেরাপির ফলে পেশি শিথিল হয়।
◉ তাপ ও ঠাণ্ডা থেরাপি: আমাদের শরীরে প্রদাহ ও পেশির ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
◉ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম: নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়তে হবে। এতে বুকের মাংসপেশি শুকিয়ে যাবে না।
আলোক ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে প্রথমে একটি বিস্তারিত ফিজিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট করা হয়। এতে রোগীর মেরুদণ্ড ও সংশ্লিষ্ট জয়েন্টগুলোর গতি, শক্তি, ব্যথার মাত্রা ও দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয় এরপর রোগীর অবস্থার ভিত্তিতে বিশেষ টেকনিক প্রয়োগ করা হয়। এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেরুদণ্ডের নমনীয়তা ও ভঙ্গিমা উন্নত হয়।
পরামর্শ
◉ ধূমপান সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করা।
◉ নিয়মিত সাঁতার কাটা।
◉ নরম বিছানা ব্যবহার করা।
◉ নিয়মিত ব্যায়াম করা।
◉ ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া।
◉ পরিমিত পানি পান করা।
লেখক: ফিজিওথেরাপিস্ট, আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর, ঢাকা।


