ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
এমবাপ্পের সমালোচনা ‘অতিরিক্ত ও অন্যায়’ দেড় দশকের জ্বালানিনীতি ছিল আমদানিনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের অনুশীলন মাঠের পাশে মরদেহ উদ্ধার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ ইমার্জিংদের ঝিলিকের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার স্বামী রক্তদান মহৎ কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা? রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানীতে প্রান্তিক গ্রামের ফুটবল উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল ম্যাচ একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী
Nagad desktop

ভাঙচুরের দেড় বছরেও মেরামত হয়নি ভাষা আন্দোলন-মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, ভাস্কর্য ও স্থাপনা

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:০১ এএম
ভাঙচুরের দেড় বছরেও মেরামত হয়নি ভাষা আন্দোলন-মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, ভাস্কর্য ও স্থাপনা
ছবি: খবরের কাগজ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর দেশজুড়ে সংগঠিতভাবে হামলা চালিয়ে মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও স্মৃতিস্তম্ভে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। রাজধানী থেকে বিভাগীয় শহর, সর্বত্র শিল্প-সংস্কৃতির প্রতীকী স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে। দেড় হাজারেরও বেশি ভাস্কর্য-ম্যুরাল ধ্বংস করা হয়েছে। ঘটনার পর এক বছরের বেশি সময় পার হয়েছে। মেরামত করা হয়নি জাতির ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর নেমে এসেছে গভীর ‘শোকের ছায়া’।

স্বাধীনতা-সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত নানা স্থাপনায় আগুন লাগানো, হাতুড়ি–শাবল দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং উপড়ে ফেলার বহু ঘটনা ঘটেছে। সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়- কোথাও ভাস্কর্য মাটির সঙ্গে মিশে গেছে, কোথাও পোড়া অবশেষ পড়ে আছে।

রাজধানীসহ সারা দেশেই একই চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর এলাকায় ২০টি স্থানে প্রায় ১৩০টির বেশি ভাস্কর্য, ম্যুরাল এবং রিলিফ ভাস্কর্য নষ্ট করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর পূর্ণ অবয়বের কমপক্ষে সাতটি ভাস্কর্য পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। বিভাগের মধ্যে- ঢাকা বিভাগে ২৭৩টি, চট্টগ্রামে ২০৪টি, রাজশাহীতে ১৬৬টি, খুলনায় ৪৭৯টি, বরিশালে ১০০টি, রংপুরে ১২৯টি, সিলেটে ৪৯টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৫টি ভাস্কর্য-ম্যুরাল ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ অথবা উপড়ে ফেলা হয়েছে। ৬০ জেলায় ধ্বংস হয়েছে প্রায় দেড় হাজারের বেশি ভাস্কর্য-ম্যুরাল ও স্থাপনা। যার অধিকাংশ হামলাই সংঘটিত হয় ২০২৪ সালের ৫, ৬ ও ৭ আগস্ট।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িটিতেও একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে। শুধু ভাঙচুরই নয়, সেখানে জাদুঘরের ভেতরের মূল্যবান সংগ্রহ লুটপাট করা হয়েছে। বাড়ির অভ্যন্তরীণ অংশে আগুন ধরিয়ে তিনতলা অংশ পুরোপুরি পুড়িয়ে ফেলা হয়। পরে বুলডোজার দিয়ে বাড়ির অংশবিশেষ গুঁড়িয়ে দেওয়া। 

ধ্বংসস্তূপ স্বাধীনতা জাদুঘর, নেই কোনো উদ্যোগ
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বীরত্বগাথা ধারণ করে গড়ে উঠেছে রাজধানীর সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে ‘স্বাধীনতা জাদুঘর’। তবে গত বছর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই জাদুঘরটি এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই, এর ভেতরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কতখানি অবহেলিত হয়ে পড়ে আছে। একসময় এই জাদুঘরই ছিল বাঙালির বীরত্ব ও সংগ্রামের জীবন্ত দলিল। তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের পরিচয় তুলে ধরার এক আধুনিক কেন্দ্র ছিল এই জাদুঘরটি। কিন্তু আজ এটি শুধুই ধ্বংসস্তূপের স্তব্ধ স্মৃতি বহন করছে।

দায়িত্বরত কর্মচারীদের ভাষ্য, জাদুঘরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ অনেক আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন শুধু অফিস খোলা রাখার আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দিনের কিছু সময় দরজা খোলা এবং বন্ধ করে রাখা হয়।
জাদুঘরসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ট্যাংক-কামানের অংশ, যুদ্ধকালীন অস্ত্র, সংবাদপত্রের কাটিং, বিদেশি সমর্থনের পোস্টার- সব মিলিয়ে স্বাধীনতা জাদুঘর ছিল তরুণ প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানার এক অনন্য কেন্দ্র। এ জাদুঘরে একসময় ১৪৪টির মতো ঐতিহাসিক আলোকচিত্র ঝুলত, যেখানে মুঘল আমল থেকে শুরু করে ১৯৭১ এর বিজয় পর্যন্ত নানা সময়ের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন ছবি সংরক্ষিত ছিল। সরকার পতনের দিন হামলা ও অগ্নিসংযোগে সেসবের অধিকাংশই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। 

মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত মুক্তিযোদ্ধাদের চারটি অস্ত্র চুরি হয়ে গেছে। হামলাকারীরা নষ্ট করেছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের বিরল চিত্রাবলি, ২৫ মার্চ কালরাত্রির ভয়াবহতার আলোকচিত্র, ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের বড় বড় ছবি। এ ছাড়াও জাদুঘরে ছিল পাকিস্তানি কমান্ডার নিয়াজির আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষরের টেবিলের রেপ্লিকা, কামানের অংশসহ বহু দুর্লভ নিদর্শনও আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধকালীন বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও যান্ত্রিক নিদর্শনে আগুন দেওয়া হয়েছে, চুরিও হয়েছে অনেক। 

ঘটনাস্থলে জাদুঘর পুনরুদ্ধার বা পুনর্নির্মাণের কোনো পরিকল্পনার ছাপ দেখা যায়নি। বরং বারবার হামলার চিত্রই ধরা পড়বে যে কারও চোখে। সর্বশেষ ১৩ নভেম্বর ভাঙচুর করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের টেরাকোটা ভাস্কর্যটিও। যেখানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের দৃশ্য এবং ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ উক্তিটি খোদাই করা ছিল। পাশাপাশি বাঙালির মুক্তির সনদ ‘ছয় দফা’ সম্পর্কিত খোদাইকর্মটিও ভাঙা হয়েছে। এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোটা দেওয়া হয়নি। মনিটরিং রুম রয়েছে বেহাল। প্রতিদিন অফিস খোলা হলেও ভেতরে কোনো মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হয় না। 

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছর পার হলেও জাদুঘর পুনরুদ্ধার বা পুনর্নির্মাণের দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর সচিব মো. সাদেকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘স্বাধীনতা জাদুঘর নিয়ে কোনো বাজেট বা পরিকল্পনা এখনো পাস হয়নি। তাই আমি কিছু বলতে পারছি না। স্বাধীনতা জাদুঘর তিনটি মন্ত্রণালয় দেখে। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর রয়েছে।’ তিনি জানান, এখন জুলাই জাদুঘরের কাজ চলছে। কিছুদিনের মধ্যে কাজ শেষে হবে। সেটি শেষ হলে হয়তো স্বাধীনতা জাদুঘরের উন্নয়নকাজ শুরু হতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধের গবেষকদের মতে, এত স্বল্প সময়ে এমন ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। সেখানেই ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। সেখানেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, জন্ম হয় বাংলাদেশের। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর যে নৃশংস লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ঘটে, তার সবচেয়ে বড় বলি হয় এই জাদুঘর। দেখে মনে হয় এ যেন সচেতনভাবে একটি জাতির গর্ব মুছে দেওয়ার প্রচেষ্টা। 

লেখক ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক সালেক খোকন খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রথমত মুক্তিযুদ্ধ তো বাংলাদেশ নামক জাতির শিকড়ের ইতিহাস, স্বাধীনতা অর্জনে লাখো মানুষের আত্মত্যাগ ও বীরত্বের ইতিহাস। সেই ইতিহাস রক্ষা ও প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেটি না হওয়া অবশ্যই দুঃখজনক। জাদুঘরগুলো সংস্কারসহ চালু করা উচিত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস পালন করছি। বলছি মহান বিজয় দিবস, বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশ স্বাধীন করেছেন। কিন্তু সেটির প্রতিফলন তো বাস্তবে দেখছি না। একটি দেশের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু দেশ ও দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে তো রাষ্ট্রের অবস্থান অটল ও পরিষ্কার থাকতে হবে। আমরা মনে করি সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ ভেঙে হচ্ছে ‘গণমিনার’
রাজধানীর বিজয় সরণিতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে সরকার পতনের দিন। চলতি বছরের ২৭ জুন ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণে’ ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ম্যুরাল ঘেরা সাতটি দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়। এই দেয়ালগুলোতে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সংগ্রামের ইতিহাসের ছিল। ভাস্কর্যে বিভিন্ন চিত্রকর্ম ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। এই ভাঙচুরের পর তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং সাংস্কৃতিক আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। সিটি করপোরেশন থেকে জানানো হয়, বিজয় সরণির ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ স্থানে তৈরি হবে জুলাই স্মরণে ‘গণমিনার’। 

ঢাবির শতাধিক ভাস্কর্য এখনো ভাঙা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফুলার রোডের ভাস্কর্যসমষ্টি ভাঙচুর করা হয় গত বছর সরকার পরিবর্তনের পর। ভাস্কর শামীম সিকদারের বিখ্যাত ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ ভাস্কর্যসমষ্টির শতাধিক ভাস্কর্য ভাঙচুর করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। ভেঙে ফেলা হয়েছে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, লালন, ইয়াসির আরাফাত, জগদীশচন্দ্র বসুসহ বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, বিপ্লবী ও রাজনৈতিক নেতাদের বহু আবক্ষ ভাস্কর্য।

এ বিষয়ে সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম সাংবাদিকদের (বিবিসি) বলেন, ‘অবহেলা মোটেও নেই। সরকারি কাজগুলো যেভাবে ঢিমেতালে হয়, এটা ওই রকমই একটা ব্যাপার আরকি। তবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার মতে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে বিতর্ক নানা মহল সৃষ্টি করছে সেগুলো রাজনৈতিক এবং তাদেরকেই এর দায় নিতে হবে।’

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও ইতিহাস নিয়ে প্রতিটি সরকার রাজনীতি করেছে। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার ‘একটা দোদুল্যমান’ অবস্থায় আছে।

তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১ জুন। ১৯৬৯ সালের এ দিনে প্রাতিষ্ঠানিক কাজে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

১৯১১ সালে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া গ্রামে মানিক মিয়ার জন্ম। বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৩৫ সালে বিএ পাস করে পিরোজপুর মহকুমা হাকিমের আদালতে সহকারী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়।

১৯৪৭ সালে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী কর্তৃক কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার পরিচালনা বোর্ডের সেক্রেটারি পদে যোগ দেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং সাপ্তাহিক ইত্তেফাকের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৫৩ সালে তার সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ইত্তেফাক ‘দৈনিক ইত্তেফাক’-এ রূপান্তরিত হয়।

মানিক মিয়ার সম্পাদনায় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামরিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯৫৯ সালে তিনি এক বছর কারাভোগ করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি আবারও গ্রেপ্তার হন। এ সময় দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশনা নিষিদ্ধ এবং নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস বাজেয়াপ্ত করা হয়।

ফলে তার প্রতিষ্ঠিত অন্য দুটি পত্রিকা ঢাকা টাইমস ও পূর্বাণী বন্ধ হয়ে যায়। গণ-আন্দোলনের মুখে সরকার ইত্তেফাকের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। ফলে ১৯৬৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পত্রিকাটি ফের প্রকাশিত হয়।

‘রাজনৈতিক ধোঁকাবাজি’, ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ আর ‘রঙ্গমঞ্চ’ শিরোনামে কলাম লিখে বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতাকামী করে তোলেন মানিক মিয়া। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি আমৃত্যু নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

আজ বিশ্ব কচ্ছপ দিবস

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ২৩ মে ২০২৬, ১০:২৯ এএম
আজ বিশ্ব কচ্ছপ দিবস
ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৩ মে বিশ্ব কচ্ছপ দিবস। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন জীবগুলোর মধ্যে অন্যতম কচ্ছপ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি, এই প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি এবং এর সংরক্ষণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেই প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়।

আমেরিকান টরটয়েজ রেসকিউ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ২০০০ সাল থেকে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়। এরপর থেকেই প্রতি বছর ২৩ মে সারাবিশ্বে পালিত হয়ে আসছে ‘বিশ্ব কচ্ছপ দিবস’। বিশ্বজুড়ে কচ্ছপ ও তাদের বিলুপ্তপ্রায় আবাসস্থল রক্ষায় মানুষকে উৎসাহিত করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।

সরীসৃপ শ্রেণির উভচর প্রাণী কচ্ছপ পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন জীব হিসেবে পরিচিত। শান্ত স্বভাবের এই প্রাণীর আয়ু মানুষের চেয়েও বেশি। তবে জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ ও আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে প্রাণীটি আজ বিলুপ্তির হুমকিতে পড়েছে।

বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৩০০ প্রজাতির কচ্ছপ রয়েছে বলে জানা যায়। বাংলাদেশে রয়েছে প্রায় ২০ প্রজাতির কচ্ছপ। নদী, খাল-বিল, ডোবা, গভীর সমুদ্র, মাটির গর্ত, গাছের গুড়ি কিংবা বালুময় স্থানে এদের বসবাস। একসময় দেশের নদী-নালা, পুকুর-ডোবা ও গ্রামীণ পরিবেশে সহজেই কচ্ছপ দেখা গেলেও এখন তাদের উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী-নালা ও জলাশয় ভরাট, ঝোপঝাড় ধ্বংস, পানি দূষণ, খাদ্যাভাব এবং মানুষের নির্বিচার আক্রমণের কারণে কচ্ছপ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর প্রায় ৩০০ প্রজাতির কচ্ছপের মধ্যে প্রায় একশ’ প্রজাতি বর্তমানে বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

কচ্ছপ সাধারণত রাতের বেলা ডিম পাড়ে। স্ত্রী কচ্ছপ মাটিতে গর্ত করে সেখানে ১ থেকে ৩০টি পর্যন্ত ডিম দেয়। ডিম পাড়ার পর সেগুলো মাটি, বালি বা জৈব পদার্থ দিয়ে ঢেকে রেখে যায়। এরপর ডিমগুলো প্রকৃতির ওপরই নির্ভরশীল থাকে। প্রজাতিভেদে ৬০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।

দীর্ঘায়ুর জন্যও কচ্ছপ বিশেষভাবে পরিচিত। তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জীবিত সবচেয়ে বয়স্ক কচ্ছপের নাম ‘জোনাথন’। সেন্ট হেলেনা দ্বীপে বসবাসকারী এই কচ্ছপটির বয়স প্রায় ১৯০ বছর বলে ধারণা করা হয়। সত্য হলে এটি পৃথিবীর দীর্ঘায়ু জীবিত প্রাণীদের অন্যতম।

পরিবেশবিদরা বলছেন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কচ্ছপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই প্রাণী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অবৈধ শিকার বন্ধ এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সূত্র: ডেইজ অব দ্য ইয়ার

আমান/

গৌরীপুরে ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর জন্মদিন উদযাপন

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
আপডেট: ১৩ মে ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
গৌরীপুরে ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর জন্মদিন উদযাপন
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে রাজেন্দ্র কিশোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের (আর কে হাই স্কুল) প্রতিষ্ঠাতা ও গৌরীপুরের ৫ম জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর ১৫৩তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে।

এসিক অ্যাসোসিয়েশন, ক্রিয়েটিভ অ্যাসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরি, ক্রিয়েটিভ সন্ধানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্লাব এবং দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচিতে ছিল, কেক কাটা ও আলোচনা সভা।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১২ মে) কেক কাটা হয়। এরপর বুধবার (১৩ মে) বেলা ১১টায় ধানমহালে ক্রিয়েটিভ অ্যাসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরির আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাস ঐতিহ্যের গবেষক খায়রুল আলম তুহিন, দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স-এর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স এর সহসভাপতি ও এসিক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরি সদস্য হিউবার্ড চক্রবর্তী, গৌরীপুর আর কে সরকারি স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও প্রতিভা কোচিং সেন্টারের পরিচালক অমল চন্দ্র দাস।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সহসভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিলসহ সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, গৌরীপুর আর কে সরকারি স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্ররা।

সমাপনী বক্তব্য দেন ক্রিয়েটিভ অ্যাসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক, গবেষক ও  ইতিহাস সন্ধানী মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার। 

আলোচনা সভায় গৌরীপুর রাজবাড়ির ৫ম পুরুষ জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর কর্মময় জীবন, গৌরীপুরে উচ্চ বিদ্যালয়, ১৯২৭ সালে গৌরীপুর পৌরসভা, ১৯১২-১৮ সালে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন ইত্যাদি গঠনে তার অবদান এবং বিভিন্ন সামাজিক অবদান তুলে ধরা হয়।

অমিয়/

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ১০:০১ এএম
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য

‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়/ পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’- অনাচার আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে কলম ধরে বাংলা সাহিত্যে বিপ্লবের সুর তোলা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৭৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৩ মে। ১৯৪৭ সালের আজকের এই দিনে ২১ বছর বয়সে কলকাতার একটি ক্লিনিকে নিভে গিয়েছিল এই প্রতিভাধর কবির জীবনদীপ।

যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অকালে ঝরে গেলেও মাত্র কয়েক বছরের সাহিত্যচর্চায় তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ‘গণমানুষের কবি’ হিসেবে। পরাধীন ভারতের বঞ্চনা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা আর তেতাল্লিশের মন্বন্তর তার লেখায় ফুটে উঠেছে শ্রেণিবৈষম্যহীন এক পৃথিবীর স্বপ্ন হয়ে।

১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটে জন্মগ্রহণ করা সুকান্তের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়। বেলেঘাটা দেশবন্ধু স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও জীবনের পাঠশালায় তিনি ছিলেন অনন্য। ১৯৪৪ সালে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভের পর থেকে তার সাহিত্য ও রাজনীতি একাকার হয়ে যায়।

কবির উল্লেখযোগ্য সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে ‘ছাড়পত্র’; যা তাকে বাংলা সাহিত্যে কালজয়ী আসন দিয়েছে। 

অন্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘পূর্বাভাস’, ‘মিঠেকড়া’, ‘ঘুম নেই’, ‘হরতাল’। ‘আকাল’ তার সম্পাদিত বিখ্যাত ফ্যাসিবাদবিরোধী কাব্যগ্রন্থ।

সুকান্ত কেবল কবিতাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, কিশোর বয়সেই তিনি লিখেছিলেন গীতিনাট্য ‘রাখাল ছেলে’ এবং ব্যঙ্গাত্মক নাটিকা ‘দেবতাদের ভয়’। এ ছাড়া গল্প, গান এবং প্রবন্ধেও ছিল তার সাবলীল বিচরণ। আকাশবাণী কলকাতার ‘গল্প দাদুর আসরে’ তার লেখা গান গেয়েছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী পঙ্কজ মল্লিক।

রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী হরিপূজা

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
আপডেট: ০২ মে ২০২৬, ১০:০০ এএম
রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী হরিপূজা
ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ী শহরের ঐতিহ্যবাহী হরিতলা মন্দিরে অনুষ্ঠিত হলো শতবর্ষের পুরনো হরিপূজা। এই নিয়ে টানা ১৪৮ বার আয়োজন করা হয় এই পূজা।

প্রতিবছরের মতো এবারও ১৮ বৈশাখ এই পূজা উদযাপিত হয়।

শুক্রবার (১ মে) দুপুর থেকে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। বিকেলে পূজা শেষে ভক্তরা অঞ্জলি দেন। পরে বিতরণ করা হয় প্রসাদ। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় মনোমুগ্ধকর পদাবলি কীর্তন। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো হরিতলা এলাকা।

রাজবাড়ী শহরের বড়পুল এলাকায় অবস্থিত হরিতলা মন্দির শহরের প্রাচীন মন্দিরগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতিবছর হরিপূজা অনুষ্ঠিত হয় বলে মন্দিরটি হরিতলা মন্দির নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এই পূজার নাম অনুসারে পুরো এলাকাটিও হরিতলা নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। হরিতলা মন্দির এই অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন।

হরিতলা এলাকার বাসিন্দা ও আইনজীবী অভিজিৎ সোম অভি বলেন, ‘এই হরিপূজা আমাদের এলাকার শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী পূজা। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি এই পূজা। এটি শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের এলাকার পরিচয়, আমাদের শিকড়ের সঙ্গে বাঁধনের উৎসব’।

প্রতি বছরের মতো এবারও এই পূজাকে কেন্দ্র করে হরিতলা এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে পূজায় অংশ নেন।

সুমন/আমান