দীর্ঘ ছয় বছর পর আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ঢাকা ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল স্টুডেন্টস ইউনিয়নকে সংক্ষেপে ডাকসু নামে ডাকা হয়। এটি ১৯২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে পূর্বনাম পরিবর্তন করে বর্তমান নাম ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’ করা হয়। ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংসদ বলা হয়।
১৯২৪ সালে ডাকসুর প্রথম ভিপি নির্বাচিত হন মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। জিএস ছিলেন যোগেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত। আর ২০১৯ সালে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর ও জিএস নির্বাচিত হন ছাত্রলীগের গোলাম রব্বানী।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও স্বাধিকার আন্দোলনের অন্যতম সূতিকাগার হলো এই ছাত্র সংসদ। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই বাংলাদেশের সামগ্রিক ইতিহাসে গৌরবময় ভূমিকা রাখে এই ছাত্র সংসদ। ৫২'র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ অভ্যুত্থান, ৭১-এর স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম এবং পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশে স্বৈরাচার ও সামরিকতন্ত্রের বিপরীতে দাঁড়িয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সাহায্য করেছে ডাকসু।
২০১৯ সালে নির্বাচনের সময় ডাকসুর গঠনতন্ত্রে কিছু সংশোধন আনা হয়েছিল। সেই গঠনতন্ত্রে ডাকসুর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল পাঁচটি। তবে এবারের নির্বাচন সামনে রেখে গঠনতন্ত্রে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাতে ডাকসুর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের অংশে চব্বিশের ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে প্রতিষ্ঠা করার বিষয়টি নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে।
সবশেষ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ডাকসুর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো হলো- স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ধারণ ও লালন করা, বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের চেতনা এবং দেশের ইতিহাসে সংঘটিত বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনা প্রতিষ্ঠিত করা, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও সহপাঠ কার্যক্রমে সর্বোচ্চ উৎকর্ষে পৌঁছানো।
নির্বাচনের পর ডাকসুর গঠনতন্ত্রে উল্লিখিত ভিপি-জিএসসহ ২৮ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি ও পদাধিকারবলে উপাচার্য এবং উপাচার্য মনোনীত কোষাধ্যক্ষকে নিয়ে ৩০ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে। তারা দায়িত্বগ্রহণের পর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাজ শুরু করবেন।
ডাকসুর ভিপি-জিএস পদ দুটি সম্মান ও ক্ষমতার দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ দুটি বডি ‘সিনেট’ এবং সিন্ডিকেট’ এর সদস্য হবেন তারা। সেখানে তারা ঢাবির হাজার হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করে ছাত্রদের বিভিন্ন দাবির কথা তুলে ধরতে পারবেন। পাশাপাশি ছাত্রদের স্বার্থপরিপন্থী যে কোনো বিষয়ে তারা সেখানে প্রতিবাদ করতে পারবেন।
জানা গেছে, ডাকসুর ভিপি এবং জিএস এর আলাদা কোনো বেতন নেই। তবে এক বছর ক্যাম্পাসে নিজের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এককালীন টাকা পেয়ে থাকেন তারা। এ অর্থ চা-নাশতা এবং অন্যান্য খাতে ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। ভিপি এবং জিএসের জন্য সাধারণত মোট ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকে।
তারেক/
.jpg)
.jpg)