পৃথিবীতে লক্ষাধিক প্রজাতির ফুল রয়েছে। যার মধ্যে গোলাপ, টিউলিপ, সূর্যমুখী, পদ্ম, শাপলা, জবা, বেলি, চন্দ্রমল্লিকা, লিলি, গাঁদা, ডেইজি এবং অর্কিড অন্যতম। এসব ফুলের পাশাপাশি রয়েছে আরও কিছু ফুল, যাদের নাম শুনলে মনে হয় না যে এটি কোনো ফুলের নাম। মনে হয় প্রেম-বিরহ-ভালোবাসা নিয়ে লেখা কোনো উপন্যাসের নাম।
ভালোবাসার গল্পে ‘ফরগেট মি নট’ ফুলের কথা বেশ পরিচিত। ভুলো না আমায় কিংবা ‘ফরগেট মি নট’ ফুলের নামের উৎপত্তি থেকে শুরু করে ব্যবহার- সবটা জুড়ে স্থান করে আছে ভালোবাসা। এখনো অনেকে মনে করেন কোনো যুগল যদি এ ফুলের মালা পরেন, তবে তাকে কখনো তার ভালোবাসার মানুষ ভুলবে না।
ভিন্ন নামের লতানো গুল্মজাতীয় এই ফুলগাছটি Lamiaceae পরিবারের। ইউরেশিয়া ও উত্তর আমেরিকায় এর উৎপত্তি। ফরগেট মি নটের বৈজ্ঞানিক নাম Myosotis sylvatica। সাধারণত ১২ ইঞ্চি উচ্চতা হয় এই গাছের। এই ফুলগাছের পাতাগুলো লম্বাটে ও কিছুটা রোমশ হয়। ফুলের সবচেয়ে বেশি রং হয় নীল। কেন্দ্রে একটু কালচে রং আর পাপড়িগুলোর মাঝ বরাবর থাকে সাদা রেখা। তবে নীল ছাড়াও গোলাপি ও বেগুনি রঙের হতে পারে ফরগেট মি নট।
.jpg)
পাঁচ পাপড়ির এই ফুল দেখতে অনেকটা তারার মতো মনে হয়। আলাদাভাবে পাপড়িগুলো প্রত্যেকটি ইঁদুরের কানের মতো আকৃতির। সম্ভবত এ কারণেই এ ফুলের আরেকটি নাম মায়োসোটিস (myositis)। এটি একটি গ্রিক শব্দ, যার অর্থ ‘ইঁদুরের কান’।
মথ, মৌমাছি, মাছি ও প্রজাপতি এই ফুলের প্রতি আকৃষ্ট হয়। ফুলের পরাগায়ন হয় এদের মাধ্যমেই। বীজ, কাটিং ও অন্য কারও সাহায্যে এদের বিস্তার হয়। দিনের বেলা সেভাবে ফুলের গন্ধ না বোঝা গেলেও রাতের বেলা মিষ্টি সুগন্ধ ছড়ায় ফুল থেকে। জলবায়ু ও প্রজাতির ওপর নির্ভর করে এটি বার্ষিক বা বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ হিসেবে বৃদ্ধি পায়।
ভুলো না আমায় ফুলটি ভালোবাসা, বিশ্বাস আর স্মৃতির প্রতীক। তবে এই ফুলটি বিষাক্ত। ঔষধি হিসেবে এর ব্যবহার রয়েছে। এর শেকড়, পাতা ও ফুল নাক দিয়ে রক্ত পড়া সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়াও শ্বাসযন্ত্রের নানা ব্যাধিতেও এর ব্যবহার আছে।
তারেক/
.jpg)