ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে রাতে বিজিবির সঙ্গে আনসার-ভিডিপির টহল কুমিল্লায় হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু জিপিএসের নির্দেশ মেনে সোজা রেললাইনে গাড়ি, ভাইরাল বৃদ্ধার গাড়িচালনা এসএসসি পাসে চাকরির সুযোগ, নেবে ২৮০ জন কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব: যা জানা জরুরি কোটচাঁদপুরে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, খুলনার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ কষ্টকর হবে জীবন, সব জিনিসের দাম বাড়বে বিশ্বের অন্যতম প্রশস্ত সড়ক ‘মনুমেন্টাল অ্যাক্সিস’ বিশ্বকাপ স্কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের ক্ষোভ সন্ধ্যার মধ্যে ৭ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত হরিপুর সীমান্তে ৩২ ঘণ্টা পরও শূন্যরেখায় ১১ জন রোনালদো গোল না পেলেও জিতল পর্তুগাল মিরসরাইয়ে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ সমাজকর্মের মূল্যবোধ ও নীতিমালা অধ্যায়ের ১৭টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ১ম পত্র শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড অনূর্ধ্ব-১৫ ডেভেলপমেন্ট কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জমকালো উদ্বোধন নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে এক দিনে ২ নির্দেশনা, প্রশাসনে বিভ্রান্তি শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় পড়া চলছে রাতারগুলে প্ল্যাস্টিক বর্জ্য ধ্বংস করে বৃক্ষরোপণ রায় শুনতে আদালতে রামিসার বাবা মেসিকে ছাড়াই হন্ডুরাসকে হারাল আর্জেন্টিনা পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা, রাতভর পাহাড়ায় গ্রামবাসী বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ সাংবাদিক দল বদলের উৎসব, ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনায় যোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২১ কক্সবাজারে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মিসরকে হারিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শেষ করল ব্রাজিল শরীয়তপুরে উচ্ছ্বাসে মাতলেন আর্জেন্টাইন সমর্থকরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই নতুন উপ-উপাচার্য নিয়োগ দুই দিনেও সিদ্ধান্ত হলো না শূন্যরেখায় আটকে থাকা ১০ জনের
Nagad desktop

সাক্ষাৎকার নীতি হতে হবে বিনিয়োগবান্ধব

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৫:৪৩ পিএম
আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
নীতি হতে হবে বিনিয়োগবান্ধব
রেনকন মোটরবাইকস লিমিটেড (সুজুকি)-এর নির্বাহী পরিচালক কাজী আসিক উর রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

কাজী আশিক উর রহমান, নির্বাহী পরিচালক, রেনকন মোটরবাইকস লিমিটেড (সুজুকি)। দীর্ঘ সময় ধরে অটোমোবাইলশিল্পের সঙ্গে জড়িত। এ শিল্পের যাত্রা, নীতিগত বিষয়, বিনিয়োগ পরিকল্পনা, সমস্যা-সম্ভাবনাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে।

খবরের কাগজ: বাংলাদেশের মোটরসাইকেলের যাত্রা সম্পর্কে কিছু বলুন? 
কাজী আসিক উর রহমান: বাংলাদেশে অটোমোবাইলশিল্পের যাত্রা শুরু হয় মূলত ২০১৬ বা ২০১৭ সালের দিকে। প্রথম একটি আদেশ (এসআরও) জারি করা হলো। সেখানে মোটরসাইকেলশিল্পে বিনিয়োগের জন্য উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা হয়। এর পর একটি বিজনেস পলিসি (নীতি) তৈরি করা হলো। এর পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। শিল্প মন্ত্রণালয় এই পলিসি তৈরির ক্ষেত্রে মূল যে লক্ষ্য রেখেছিল তা হচ্ছে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে প্রায় ১০ লাখ মোটরসাইকের বাজার তৈরি করা। এজন্য প্রথম দিকে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা রেখে পলিসি তৈরি করা হয়। তখন থেকেই মূলত দেশে মোটরসাইকেলশিল্প প্রসারের উদ্যোগটি সামনে আসে। এ খাতের নতুন বিনিয়োগের জন্য উদ্যোক্তারা নিজের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে। 

/আবরার জাহিন

খবরের কাগজ: আপনারা যখন শুরু করলেন তখন কী ধরনের সম্ভাবানা দেখেছিলেন? 
কাজী আসিক উর রহমান: মোটরসাইকেলশিল্পতে যখন উৎপাদন পর্যায়ে দেশীয় বাজার দখলের উদ্যোগ নেওয়া হলো তখন আমরা অনেক সম্ভাবনা দেখেছি। গত ১০ বছরের কিছু কম সময়ে দেশের মোটরসাইকেলশিল্পটি অগ্রগামী শিল্প হিসেবে দৃশ্যমান হওয়ার কথা। আমি না হওয়ার পেছনে কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। তবে সাদা চোখে যেটা মনে হয়েছে, এ খাতের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আগ্রহী করার জন্য প্রথম দিকে যেসব পলিসি নেওয়া হয়েছিল পরে তা আর থাকেনি। ফলে সম্ভাবনার জায়গাটিও এখন অনেকটা মলিন। 

খবরের কাগজ: বাধাগুলো কী কী? 
কাজী আসিক উর রহমান: এ খাতটিকে প্রথমে লাইট ইঞ্জিনিয়ানিং খাত হিসেবে দেখা হয়েছিল। ২০২০ সালকে অটোমোবাইল ‘প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করা হয়েছিল। তার পরও কেন এ খাতটি পিছিয়ে গেল? এক কথায় যদি বলি, তা হচ্ছে দ্রুত কিছু পলিসি পরিবর্তন হয়েছে। আমরা যারা ব্যবসায়ী আছি, তারা নতুন একটি প্রকল্প নেওয়ার সময় ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করি। যখন দেখা গেল ১০ বছরের মধ্যে এ খাতের বিনিয়োগ হবে এমন পলিসিগুলোর পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, তখন আর এটি বিনিয়োগের পর্যায়ে থাকেনি। উদ্যোক্তা হিসেবে তখন আমরা ধাক্কা খেয়েছি। ফলে এই মার্কেটটি যখন মুভিং পর্যায়ে যাওয়ার কথা, সেখানে আমরা পিছিয়ে গেছি। বাধাগুলোর মধ্যে এ সেক্টরে নতুন বিনিয়োগে কর অব্যাহতি ছিল, ভ্যাট সহনীয় পর্যায়ে ছিল, পর্যায়ক্রমে এগুলো সবই উঠে গেছে এখন।

খবরের কাগজ: কর অব্যাহতি আরও কিছু দিন রাখা উচিত ছিল কি না? 
কাজী আসিক উর রহমান: নতুন যেকোনো শিল্পকে স্বাবলম্বী করার জন্য অবশ্যই এ খাতের শিল্পোদ্যোক্তাদের কিছু না কিছু সুযোগ-সুবিধা দিতেই হবে। প্রথম পর্যায়ে দেশের মোটরসাইকেল বাজারকে ২০৩০ সালের মধ্যে যে ১০ লাখে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেই ধারাটি অব্যাহত থাকলেই কেবল এ শিল্প পরিপূর্ণতা পেত। কিন্তু পলিসিগত জটিলতার কারণে উদ্যোক্তারাও নতুন করে আসেনি, ফলে এ বাজারটি ছোট হয়ে গেছে। পণ্যের দাম বেড়ে গেছে, ক্রেতারাও চলে গেছে। 

কর অব্যাহতি সুবিধা বন্ধের কারণে শিল্পোউদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সময়ে যে পলিসিগত পরিবর্তন এসেছে সেগুলো করার সময়ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে করা হয়নি। এখানে বিনিয়োগের একটা বিষয় আছে। কর অব্যাহতি থাকলে স্বাভাবিকভাবেই মোটরসাইকের দাম কম থাকত। কিন্তু উল্টো হওয়ায় এখন পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে ভলিউম অব প্রোডাকশন কমে গেছে। এখন আমাদের প্রোডাকশন কমে গেলে সরকার তো আর আগের মতো কর পাবে না, ফলে সরকার যে উদ্দেশ্যে এ পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে কর বসিয়েছিল, তার সুফল কিন্তু পায়নি। 
গত ৫ বছরে পলিসির ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের কারণে বিজনেস প্ল্যানটা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ভ্যাট মওকুফ ছিল। এর পর ১৫ শতাংশ ভ্যাট চলে এল। বলা হয়েছিল, ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভ্যাট ফ্রি থাকবে, সেটিও হয়নি। কাস্টমস ডিউটিগুলো সহনীয় হবে। কিন্তু এর মধ্যে হঠাৎ করে ভ্যাট বসল। ২০২০ সালের পর থেকে ভ্যাট মওকুফের বিষয়টি উঠে গেল। 

খবরের কাগজ: বর্তমানে মোটরসাইকেলের বাজার কেমন? 
কাজী আসিক উর রহমান: আমরা বিজনেস চালাতে গিয়ে যে সমস্যাটি মোকাবিলা করেছি তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাজস্ব আহরণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত। আমরা ২০১৮ সালে মোটরসাইকেল তৈরির লাইসেন্স পেয়েছি। এই সাত ও আট বছরে অসংখ্যবার এই পলিসি পরিবর্তন হয়েছে। পলিসিগুলো আমাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে খুব বেশি এগিয়ে নিতে পারেনি। এর ফল কিন্তু ভয়ংকর। ২০১৮ সালে আমাদের বাজারের সাইজ ছিল ৫ লাখ পিস মোটরসাইকেল। কোভিড-১৯-এর সময় ২০২০ সালে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার, ২০২১-২২-এ এই সংখ্যা ৬ লাখে উঠে এল। কিন্তু ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এটি ৪ লাখের বেশি হতে পারেনি। 

এখন এই ৪ লাখের নিচে নেমে আসার ফলে, এই শিল্পের জন্য যে বিনিয়োগটা সেটা নিরাপদ হয়নি। আমি যদি বলি, একটি শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া মানে শুধু সেই সেক্টরে উদ্যোক্তাকে সুবিধা দেওয়া নয়। এ শিল্পের অন্যান্য বিষয়গুলোকেও এগিয়ে নেওয়া বোঝায়। এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষ জড়িত। 

খবরের কাগজ: ডলারসংকটরে কারণে আমদানি জটিলতা কি এখন আছে? 
কাজী আসিক উর রহমান: ডলারসংকটের বিষয়টি আমরা ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে মোকাবিলা করছি। এখন এ সমস্যাটি অনেকটা কেটে গেছে। আমরা এখন আমাদের কর্ম-পলিকল্পনা পরিবর্তন করেছি। আগে যে পণ্য আমদানি করার জন্য সাত দিন আগে পরিকল্পনা করতাম, এখন সেটি এক মাস আগে করি। ফলে ডলারসংকট আমরা এখন খুব বেশি মোকাবিলা করছি না। 

খবরের কাগজ: এ শিল্পে প্রযুক্তি ব্যবহার কেমন, যেসব মোটরসাইকেল তৈরি হয় সেগুলো কি আন্তর্জাতিক মানের কি না? 
কাজী আসিক উর রহমান: এ শিল্প যতটুকু সম্প্রসারিত হয়েছে পুরোটাই আন্তর্জাতিকমানের পণ্য তৈরি করেই এগিয়েছে। দেশের বাজারে যে ব্র্যান্ডগুলো আছে, সবগুলোই আন্তর্জাতিকমানের। প্রতিনিয়তই আমরা নতুন নতুন মডেলের বাইক ক্রেতাদের দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা নতুন মডেলের বাইক তৈরি করতে চাইলে প্রথমে সেটি তৈরি করে জাপানে পাঠাতে হয়। সেখানে বিশ্বের সব নতুন মডেলের বাইক পরীক্ষা করা হয়। সব বাইকের মান একই রেখে আমাদের কাছে পাঠানো হয়। সুজুকি নতুন বাইকটিকে ন্যূনতম তিন থেকে ছয় মাস সময় নিয়ে এর মান পরীক্ষা করে। তাদের পক্ষ থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পরই আমরা সেটি দেশের বাজারের জন্য উৎপাদনে যেতে পারি। 

এ ছাড়া দেশীয়ভাবে যেসব বাইক তৈরি হচ্ছে সেগুলোর মান পরীক্ষার জন্য বিআরটিএ, বুয়েট থেকে লাইসেন্স দেওয়া হয়। ফলে এখানে যে কয়টিই বাইক তৈরি হোক না কেন সবই আন্তর্জাতিকমানের। 

খবরের কাগজ: মোটরসাইকেলশিল্পের কতটুকু সম্ভাবনা আছে? 
কাজী আসিক উর রহমান: ১৮ কোটি মানুষের দেশ। সেখানে আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়ছে। আমরা খুবই আশাবাদী। একটি মোটরসাইকেল তৈরির জন্য শুধু যে একটি কারখানা প্রয়োজন তা কিন্তু নয়। এ শিল্পের সঙ্গে অনেকগুলো ‘ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ ইন্ডাস্ট্রি’ জড়িত। 

এখানে কেউ লাইট বানাবে, কেউ সিট বানাবে, কেউ বিয়ারিং বানাবে। এর সঙ্গে অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প যুক্ত। সেখানে কর্মসংস্থান হবে- সেই উদ্দেশ্যেই এ শিল্পটাকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পলিসিগত জটিলতার কারণে এখন মূল শিল্পই ক্ষতিগ্রস্ত। ফলে ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ ইন্ডাস্ট্রিগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

খবরের কাগজ: ইকোনমিক জোনগুলো এ শিল্পের অগ্রগতিতে কতটা সহায়ক হবে?
কাজী আসিক উর রহমান: এ ব্যাপারে আরও উৎসাহিত করা উচিত। আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। ইকোনমিক জোনগুলো যারা নতুন বিনিয়োগে আসবে তাদের জন্য খুবই ভালো হবে। কিন্তু যারা এরই মধ্যে ইকোনমিক জোনের বাইরে বিনিয়োগ করে ফেলেছে তাদের জন্য তাহলে কী হবে? তাদের জন্যও সরকারকে ভাবতে হবে। ফলে এখানে সর্বপ্রথম কথা হচ্ছে- সরকারের পলিসিগত সুবিধাটা বিনিয়োগবন্ধব করতে হবে। 

দীর্ঘ ভ্রমণের আগে গাড়ির প্রস্তুতি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
দীর্ঘ ভ্রমণের আগে গাড়ির প্রস্তুতি
ছবি: সংগৃহীত

পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার আনন্দ অন্যরকম হয়ে থাকে। তবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার আগে গাড়ির অবস্থা পরীক্ষা করা জরুরি। মাঝপথে গাড়ি বিকল হলে পুরো আনন্দ মাটি হতে পারে। তাই যাত্রার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করে নিলে ভ্রমণ হতে পারে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক।

ভ্রমণের শুরুতে গাড়ির ইঞ্জিন অয়েল, ব্রেক ফ্লুইড, কুল্যান্ট এবং উইন্ডশিল্ড ওয়াইপার ওয়াটার পরীক্ষা করুন। ইঞ্জিন অয়েল কম থাকলে বা পরিবর্তনের সময় হলে তা বদলে নিন। দীর্ঘ যাত্রায় ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়া রোধ করতে কুল্যান্টের ভূমিকা অপরিসীম। রেডিয়েটরে কুল্যান্টের পরিমাণ ঠিক আছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি।

গাড়ির টায়ার যাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সব টায়ারের এয়ার প্রেশার বা বাতাসের চাপ পরীক্ষা করুন। টায়ারে কোনো লিক, ফাটল বা ক্ষয় আছে কি না, তা ভালোভাবে দেখে নিন। দীর্ঘ ভ্রমণের সময় গাড়িতে অতিরিক্ত মালামাল থাকে, তাই সঠিক টায়ার প্রেশার বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে গাড়ির অতিরিক্ত চাকা বা স্পেয়ার টায়ারটি ব্যবহারের উপযোগী আছে কি না এবং চাকা পরিবর্তনের টুলসগুলো গাড়িতে আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।

নিরাপদ যাত্রার জন্য ব্রেকের কার্যকারিতা যাচাই করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্রেক চাপার সময় কোনো অস্বাভাবিক শব্দ হলে বা ব্রেক কম ধরলে দ্রুত মেকানিকের শরণাপন্ন হোন। এছাড়া গাড়ির হেডলাইট, ব্যাকলাইট, ইন্ডিকেটর এবং ফগলাইটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করুন। রাতের বেলা বা কুয়াশায় পরিষ্কার দেখার জন্য সব লাইট ঠিক থাকা আবশ্যক।

গাড়ির ব্যাটারির সংযোগস্থলগুলো পরিষ্কার আছে কি না এবং সেখানে কোনো মরিচা পড়েছে কি না, তা খেয়াল করুন। ব্যাটারির চার্জের অবস্থা দুর্বল মনে হলে তা পরিবর্তন করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। দীর্ঘ যাত্রায় গাড়ির এসি বা এয়ার কন্ডিশনার ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তাও দেখে নিন।

যাত্রার আগে গাড়ির প্রয়োজনীয় সব বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন। এর মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন এবং ফিটনেস সার্টিফিকেট অন্যতম। বর্তমান সময়ে ডিজিটাল বা অনলাইন কপির পাশাপাশি মূল কাগজপত্রের প্রিন্ট কপি গাড়িতে রাখা নিরাপদ।
সবশেষে গাড়িতে একটি ফার্স্ট এইড বক্স, টর্চলাইট, ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার এবং কিছু জরুরি ওষুধ রাখুন। রাস্তায় ব্যবহারের জন্য বোতলজাত পানি এবং শুকনা খাবার সঙ্গে নেওয়া ভালো। এই ছোট ছোট প্রস্তুতি আপনার দীর্ঘ ভ্রমণকে নিরাপদ, আরামদায়ক ও দুশ্চিন্তামুক্ত রাখবে। সঠিক প্রস্তুতিই একটি সফল ভ্রমণের মূল চাবিকাঠি।

চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা
বৈদ্যুতিক গাড়ি অভিন্ন

ভারতের টাটা মোটরস চীনের জনপ্রিয় বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্র্যান্ড চেরির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাদের প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড ‘অভিন্ন’ ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরি করতে যাচ্ছে। 
গণমাধ্যমের তথ্যমতে, চেরি ও জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘ফ্রিল্যান্ডার’ প্লাটফর্মটি ব্যবহার করবে টাটা। গাড়িগুলো দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর নতুন কারখানায় তৈরি হবে। 
২০২৭ সালে অভিন্ন’র প্রথম মডেলটি বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে টাটার। এটি চীন থেকে সরঞ্জাম এনে ভারতে সংযোজন করা হবে। 
মূলত ২০২৫ সালের মধ্যে জেএলআর-এর নিজস্ব আর্কিটেকচার ব্যবহারের আগের পরিকল্পনাটি ভেস্তে যাওয়ার পর, টাটা চীনের এই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। এই চুক্তির ফলে টাটা অত্যন্ত দ্রুত এবং কম খরচে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির জগতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে টাটা। 

সূত্র: সিএমজি

ভলভোর নতুন ইলেকট্রিক এসইউভি ‘ইএক্স৬০’

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
ভলভোর নতুন ইলেকট্রিক এসইউভি ‘ইএক্স৬০’
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অটোমোবাইল শিল্প এখন দ্রুত সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। এই ধারাবাহিকতায় সুইডিশ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভলভো তাদের নতুন ২০২৭ মডেলের ‘ইএক্স৬০’ এসইউভি গাড়ি উন্মোচন করেছে। সম্প্রতি স্পেনের বার্সেলোনায় গাড়িটির পরীক্ষামূলক চালনা সম্পন্ন হয়। ভলভোর জনপ্রিয় জ্বালানিচালিত এক্সসি৬০ মডেলের বিকল্প হিসেবে তৈরি এই বৈদ্যুতিক গাড়িটি মূলত প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ ডিজিটাল প্রযুক্তির সক্ষমতা তুলে ধরছে।

গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ভলভোর নিজস্ব ‘হাগিনকোর’ সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম। গুগল, এনভিডিয়া ও কোয়ালকমের যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি এই সিস্টেম গাড়িটিকে একটি চলন্ত কম্পিউটারে রূপান্তর করেছে। এর ফলে গাড়িটি নিয়মিত ওভার দ্য এয়ার (ওটিএ) আপডেট পাবে। একই সঙ্গে এর সক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালকের আচরণ ও চারপাশের পরিস্থিতি দ্রুত বিশ্লেষণ করতে পারবে। ভলভোর নতুন ‘এসপিএ৩’ প্ল্যাটফর্মে তৈরি এই গাড়ির চ্যাসিস ও ব্যাটারি সংযুক্ত অবস্থায় থাকায় এর ওজন অনেক কমে এসেছে।

চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসতে যাওয়া ইএক্স৬০ গাড়িটি কয়েকটি সংস্করণে পাওয়া যাবে। এর প্রারম্ভিক সংস্করণ ‘পি৬’ একক মোটরের রিয়ার-হুইল ড্রাইভ প্রযুক্তিসম্পন্ন, যা ৩৬৯ হর্সপাওয়ার উৎপাদন করতে পারে। এতে রয়েছে ৮০ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি, যা একবার পূর্ণ চার্জে ৩০৭ মাইল পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। অন্যদিকে, শক্তিশালী ‘পি১০’ সংস্করণটি দ্বৈত মোটরের অল-হুইল ড্রাইভসমৃদ্ধ। এটি ৫০৩ হর্সপাওয়ার উৎপাদন করে এবং এর ৯১ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি সর্বোচ্চ ৩২২ মাইল রেঞ্জ দেয়। ৮০০ ভোল্টের ইলেকট্রিক আর্কিটেকচারের কারণে মাত্র ১০ মিনিটে গাড়িটিতে ১৬০ মাইলেরও বেশি রেঞ্জ যুক্ত করা সম্ভব। এছাড়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৬৭০ হর্সপাওয়ারের একটি ‘পি১২’ সংস্করণ বাজারে আসবে।

গাড়িটির ভেতরে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান শৈলীর চমৎকার ও ছিমছাম নকশা চোখে পড়ে। ড্যাশবোর্ডে রয়েছে ১৫ ইঞ্চির ওএলইডি টাচস্ক্রিন, যা গুগলের অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমে চলে। এতে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘জেমিনাই’ যুক্ত করা হয়েছে, যা চালকের সাধারণ কথার উত্তর দিতে পারে। গাড়িটির কেবিন বেশ প্রশস্ত এবং এর আসনগুলো অত্যন্ত আরামদায়ক। তবে ভেন্টিলেশন ও এসির মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণগুলো সম্পূর্ণ টাচস্ক্রিননির্ভর হওয়ায় চলন্ত অবস্থায় তা পরিচালনা করা কিছুটা জটিল মনে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভলভো ইএক্স৬০-এর প্রাথমিক দাম ধরা হয়েছে ৫৯ হাজার ৭৯৫ মার্কিন ডলার। পারফরম্যান্স ও প্রযুক্তির তুলনায় এই দাম জার্মান প্রতিযোগী অডি কিউ৬ ই-ট্রন বা বিএমডব্লিউ আইএক্স৩-এর চেয়ে বেশ সাশ্রয়ী। শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতি তুলতে পি৬ সংস্করণের সময় লাগে ৫ দশমিক ৭ সেকেন্ড এবং পি১০ সংস্করণের লাগে মাত্র ৪ দশমিক ৪ সেকেন্ড। আধুনিক প্রযুক্তি, আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং চমৎকার রাইডিং কমফোর্টের কারণে ভলভোর এই প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক গাড়ি বাজারে বেশ ভালো সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঝুঁকিমুক্ত যাতায়াতে গাড়ির সাসপেনশন ও স্টিয়ারিংয়ের যত্ন

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
আপডেট: ২২ মে ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
ঝুঁকিমুক্ত যাতায়াতে গাড়ির সাসপেনশন ও স্টিয়ারিংয়ের যত্ন
ছবি: সংগৃহীত

গাড়ির চাকা ও ব্রেক যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই জরুরি এর সাসপেনশন ও স্টিয়ারিং সিস্টেম। নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াতের জন্য এই দুটি অংশ সব সময় সচল রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সড়কের বর্তমান অবস্থায় গাড়ির এই গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশগুলোর ওপর বেশ বাড়তি চাপ পড়ে। একটু সচেতন হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

গাড়ির সাসপেনশন মূলত রাস্তা থেকে আসা ঝাঁকুনি শোষণ করে। এটি গাড়িকে সড়কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে স্টিয়ারিং সিস্টেম গাড়ির দিক নিয়ন্ত্রণ করে। চালকের নির্দেশ অনুযায়ী গাড়িকে ডানে বা বামে মোড় নিতে সাহায্য করে এটি। এই দুটি সিস্টেমের একটিতে সমস্যা হলে অন্যটির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে।

সাসপেনশন নষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ অতিরিক্ত ঝাঁকুনি। গাড়ি চালানোর সময় যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কম্পন অনুভূত হয়, তবে বুঝতে হবে শক অ্যাবজর্বার ও স্প্রিং দুর্বল হয়ে গেছে। এছাড়া মোড় নেওয়ার সময় গাড়ি একদিকে হেলে পড়লে বা ব্রেক করার সময় সামনের দিকে বেশি ঝুঁকে গেলেও সাসপেনশন পরীক্ষা করা জরুরি।

স্প্রিং বা বল জয়েন্ট ঢিলে হয়ে গেলে স্টিয়ারিংয়ে সমস্যা দেখা দেয়। গাড়ি সোজা চালানোর সময়ও যদি স্টিয়ারিং হুইল একদিকে টেনে ধরে, তবে চাকার অ্যালাইনমেন্টে সমস্যা রয়েছে। আবার স্টিয়ারিং ঘোরাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শক্তির প্রয়োজন হলে বুঝতে হবে পাওয়ার স্টিয়ারিং ফ্লুইড কমে গেছে। অনেক সময় ফ্লুইড লিকেজ হওয়ার কারণেও এমনটি হতে পারে।

নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এই দুটি সিস্টেম দীর্ঘদিন ভালো রাখা যায়। প্রতি ১০ হাজার কিলোমিটার পরপর চাকার ব্যালান্সিং এবং হুইল অ্যালাইনমেন্ট পরীক্ষা করা উচিত। এটি চাকার অসমান ক্ষয় রোধ করে এবং স্টিয়ারিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নিখুঁত রাখে। ভাঙাচোরা বা খানাখন্দে ভরা রাস্তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। দ্রুতগতিতে গর্তে পড়লে সাসপেনশনের বল জয়েন্ট, বুশিং ও স্ট্রাট দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গাড়ি সার্ভিসিং করার সময় চ্যাসিসের নিচের অংশ ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কাদা ও বালু জমে বুশিংয়ের রাবার নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া পাওয়ার স্টিয়ারিংয়ের তেলের স্তর নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর তা পরিবর্তন করা উচিত।

গাড়ির সাসপেনশন ও স্টিয়ারিংয়ে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা ত্রুটি লক্ষ করলে অবহেলা করা ঠিক নয়। সময়মতো ছোটখাটো মেরামত না করলে পরবর্তী সময়ে পুরো সিস্টেমটি পরিবর্তন করতে হতে পারে। এতে মেরামতের খরচ অনেক বেড়ে যায়। নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের জন্য গাড়ির এই দুটি প্রধান অংশের নিয়মিত যত্ন নেওয়া প্রত্যেক গাড়িচালকের দায়িত্ব।

কিয়ার ভিশন মেটা ট্যুরিজমো ভবিষ্যতের স্পোর্টস কার

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
কিয়ার ভিশন মেটা ট্যুরিজমো ভবিষ্যতের স্পোর্টস কার
ছবি: সংগৃহীত

অটোমোবাইল জগতে প্রথাগত বৈদ্যুতিক গাড়ির ধারণা বদলে দিতে নতুন এক কনসেপ্ট কার উন্মোচন করেছে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠান কিয়া। সম্প্রতি মিলান ডিজাইন উইকে তারা প্রদর্শন করেছে ‘ভিশন মেটা ট্যুরিজমো’। এটি কেবল একটি গাড়ি নয়, বরং ডিজিটাল প্রযুক্তি ও যান্ত্রিক দক্ষতার এক অনন্য সমন্বয়।

কিয়া এই গাড়িটিকে তাদের ‘অপোজিটস ইউনাইটেড’ দর্শনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল ডিজাইন প্রধান করিম হাবিব জানিয়েছেন, ভিশন মেটা ট্যুরিজমো কিয়ার ভবিষ্যৎ যাত্রার একটি মাইলফলক। এটি মূলত মানুষের আবেগ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণে তৈরি এক বৈদ্যুতিক বাহন।

বাহিরের নকশা
গাড়িটির বাহ্যিক রূপ দেখতে বেশ গতিশীল। এর নিচু ও চওড়া কাঠামো একে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্পোর্টস কারের রূপ দিয়েছে। এর পেছনের অংশটি তীক্ষ্ণভাবে কাটা এবং এতে রয়েছে অতি সরু আলোকসজ্জা, যা বাতাসের বাধা কমিয়ে গতি বাড়াতে সাহায্য করে। ডিজাইনাররা জানান, গাড়িটির কাঠামো তৈরিতে তারা যুদ্ধবিমান বা অ্যাভিয়েশন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন।

অভ্যন্তরীণ রূপান্তর
প্রথাগত গাড়ির ভেতরের সজ্জার তুলনায় ভিশন মেটা ট্যুরিজমো অনেক বেশি বৈপ্লবিক। এর কেবিনকে গতিশীল ড্রাইভিং, ডিজিটাল মিথস্ক্রিয়া ও আরামদায়ক বিশ্রামের জন্য তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। গাড়িটি যখন স্থির অবস্থায় থাকে, তখন এর আসন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে একে অপরের মুখোমুখি বসা যায়। এমনকি এতে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে ভার্চুয়াল জগতের সুবিধাও নেওয়া সম্ভব।

ডিজিটাল প্রযুক্তি ও গেমিং
এই কনসেপ্ট কারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক এর স্টিয়ারিং ব্যবস্থা, যা অনেকটা গেমিং কন্ট্রোলারের মতো। এতে স্পিডস্টার, ড্রিমার ও গেমার–তিনটি মোড রয়েছে। চালক চাইলে গাড়িটিকে পারফরম্যান্স মোডে চালাতে পারেন; আবার গেমার মোডে গাড়িটি একটি সামাজিক আড্ডার কেন্দ্রে পরিণত হয়। বৈদ্যুতিক গাড়ি হওয়া সত্ত্বেও এতে কৃত্রিম ইঞ্জিনের শব্দ এবং ভাইব্রেশন যোগ করা হয়েছে, যাতে চালক যান্ত্রিক অনুভব করতে পারেন।

যদিও ভিশন মেটা ট্যুরিজমো এখনই সড়কে নামছে না, তবে এটি ভবিষ্যতের যাতায়াত ব্যবস্থার এক স্পষ্ট ইঙ্গিত। কিয়া প্রমাণ করতে চাইছে, একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি কেবল গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যম নয়, এটি বিনোদন ও বিশ্রামের একটি বহুমুখী ডিজিটাল স্থান হতে পারে।