ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বাজেট অধিবেশন বসছে আজ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল মধুখালীতে জাল সনদে মাদরাসায় চাকরির অভিযোগ তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর গাইবান্ধায় ট্রেন থেকে পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু দৈনিক খবরের কাগজের শাকিলা ববিসহ সিলেটের ৬ সাংবাদিকে প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান নড়াইলে বাস উল্টে আহত ১৫ দক্ষিণ এশিয়ার মুকুট হারাল বাংলাদেশ নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২ সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল ১২০০ ফুট লম্বা পতাকা নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের র‍্যালি কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায়
Nagad desktop

সাক্ষাৎকার চাই সমন্বিত নীতিমালা

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:২৪ পিএম
আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:২৫ পিএম
চাই সমন্বিত নীতিমালা
আকিজ মোটরসের সিইও শেখ আমিনুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

অন্যান্য শিল্পের পাশাপাশি অটোমোবাইলশিল্প নিয়েও কাজ করছে আকিজ গ্রুপ। এই শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, সংকট, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে খবরের কাগজ কথা বলেছে আকিজ মোটরসের সিইও শেখ আমিনুদ্দিনের সঙ্গে।

খবরের কাগজ: অটোমোবাইল শিল্প সম্পর্কে কিছু বলুন।
শেখ আমিনুদ্দিন: দেশের ১৮ কোটি জনগণের জন্য অটোমোবাইল একটি অপরিহার্য যন্ত্র। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ হওয়ায় নতুন গাড়ির চাহিদা কমে গেছে। তবে এই শিল্পের সম্ভাবনা অনেক বেশি। আগামী দিনে এর চাহিদা আরো কয়েকগুণ বাড়বে বলে আমি মনে করছি। 

খবরের কাগজ: এই শিল্পের শুরু এবং বিকাশ নিয়ে কিছু বলুন।
শেখ আমিনুদ্দিন: অটোমোবাইল শিল্পের শুরু তো ব্রিটিশ আমল থেকেই। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান আমলে এর বিকাশ ঘটে। সার্বিকভাবে আমাদের দেশে ৮০-এর দশকে এর প্রসার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে অটোমোবাইল শিল্পের বাজার ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছে। অদূর ভবিষ্যতে এটা আরও বাড়বে। 

খবরের কাগজ: অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশে কোনো বাধা আছে কি? 
শেখ আমিনুদ্দিন: এই শিল্পের বিকাশে অন্যতম বাধা হচ্ছে শুল্ক। এখানে আমরা শুধু অ্যাম্বেলিং (তৈরি) করতে পারছি। তাও সম্পূর্ভাবে হচ্ছে না। সরকারের যে নীতিমালা আছে, সেটা মেনে তৈরি করা সম্ভব না। কারণ এখানে শুল্কহারের পরিমাণ অনেক বেশি। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ক্ষেত্রে এই শুল্কহারের পরিমাণ অত্যধিক বেশি। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ক্ষেত্রে শুল্কহার নাই বললেই চলে। অনেক দেশে আবার ভর্তুকিও দেয়। কিন্তু আমাদের দেশে ভর্তুকি তো দেয়ই না, উল্টো শুল্কহারও অনেক বেশি। প্রযুক্তির এই যুগে উন্নত বিশ্বে অধিকাংশ যানবাহনই বৈদ্যুতিক। আগামী দিন হবে বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিন। ফলে আমাদের দেশেও এই যানবাহনের ব্যবহার দিনে দিনে বাড়বে। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি সরকারের এই অটোমোবাইল খাতের স্টেকহোল্ডার এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে সমন্বিতভাবে ভালো একটা নীতিমালা তৈরি করা দরকার। 

খবরের কাগজ: সম্প্রতি সরকার অধিকাংশ পণ্যে ভ্যাট বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এতে অটোমোবাইল শিল্পে কী ধরনের প্রভাব পড়বে?
শেখ আমিনুদ্দিন: আমি শুনেছি, সেবার উপরেও ভ্যাট বাড়িয়েছে। অবশ্যই সরকারের টাকার প্রয়োজন। আমরা যদি সরকারকে সঠিকভাবে কর না দিই, তাহলে সরকার দেশটা চালাবে কীভাবে? তবে ভ্যাট বাড়ানোর একটা যৌক্তিক কাঠামো থাকতে হবে। যেমন বিলাসদ্রব্যে অবশ্যই ভ্যাট বেশি বাড়াতে পারে। যদি ডিজেলচালিত যন্ত্রে কর দিতে হয় ৩৭ থেকে ৫৭ শতাংশ তবে বৈদ্যুতিক যানবাহনে কর ৮৯ শতাংশ হওয়া উচিত না। এক্ষেত্রে সরকারকে সমন্বয় করা উচিত। ডিজেল গাড়িকে কম উৎসাহিত করতে এর ওপর একটু বেশি হারে কর আরোপ করতে পারে। বিপরীতে বৈদ্যুতিক যানবাহনে করহার কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে। যেহেতু আগামী দিনে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার অনেক বাড়বে। আর সেবার ক্ষেত্রে আমি মনে করি ১০ শতাংশ শুল্কহার হলে ভালো হতো। 

খবরের কাগজ: আপনি বলছেন, আগামী দিনে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়বে। সেক্ষেত্রে আমাদের দেশেই সেটা উৎপাদনের সুযোগ আছে কি না।
শেখ আমিনুদ্দিন: সুযোগ আছে। তবে, এজন্য এখনই এ খাতের সব স্টক হোল্ডার এবং ব্যবসায়ীদের মতামতের ভিত্তিতে যথাযথ এবং যুগোপযোগী একটা নীতিমালা করা দরকার। তাহলে অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠানও এই খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে। সেই সঙ্গে স্থানীয়রাও উৎপাদনে আগ্রহী হবেন। 

খবরের কাগজ: আমাদের দেশে অটোমোবাইল শিল্পে কোন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়? আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে এর পার্থক্য কী? 
শেখ আমিনুদ্দিন: বৈদ্যুতিক যান এবং হাইব্রিড একটি উন্নত প্রযুক্তির যান। এখানে আরও বেশি প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। সামনে আমাদের অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারের এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কীভাবে আমরা পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নত প্রযুক্তির হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক যান আমদানি করতে পারি এবং এর ব্যবহারে বিস্তৃতি ঘটাতে পারি। আমরা যদি ভালোভাবে এর সেবা না দিতে পারি, তাহলে অনেক গাড়ি বসে যাবে। যেহেতু আমাদের প্রায় সব যানবাহনই বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই আমরা আন্তর্জাতিক মানের যানবাহন আমদানি করি। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের যানবাহন আমদানি করলাম কিন্তু এসব যানে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যদি আন্তর্জাতিক মানের সেবা না দিতে পারি, তাহলে তো কোনো লাভ হবে না। তাই এখনই আন্তর্জাতিক মানের একটা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা দরকার। 

খবরের কাগজ: আমাদের দেশে কোন ধরনের যানবাহনের চাহিদা বেশি?
শেখ আমিনুদ্দিন: আমাদের দেশে তো এখনো ডিজেলচালিত যানবাহনের চাহিদাই বেশি। তবে আমি মনে করি অদূর ভবিষ্যতে সবকিছুই বৈদ্যুতিক যানে চলে আসবে। বিদেশে বৈদ্যুতিক বাস, ট্রাক এবং মোটরসাইকেলের ব্যবহার অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে আমাদের দেশেও এর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক বাসগুলো আমাদের দেশে আসা উচিত। আমাদের দেশে ডিজেলচালিত যে বাস-ট্রাকগুলো চলে সেগুলো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে আমাদের এখানে দুর্ঘটনার হারও বেশি। এখন যদি আমরা বৈদ্যুতিক যানে মনোযোগ দিই এবং আন্তর্জাতিক মানের যানবাহন ব্যবহারে আগ্রহী হই, তাহলে মানুষের জীবনের নিরাপত্তাও অনেক বাড়বে। তবে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মান যাচাই-বাছাই করেই আমদানি করতে হবে। 

বর্তমানে আমাদের দেশে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ হওয়ায় নতুন গাড়ি বিক্রি অনেকটাই কমে গেছে। তবে সারা বিশ্বে ইঞ্জিনচালিত মোটরসাইকেলের ব্যবহার অর্ধেকে নেমে গেছে। এর পরিবর্তে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের চাহিদা বাড়ছে। ২০১৬-১৭ সালে আমরা মাত্র ১০টি বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল আমদানি করে যাত্রা শুরু করেছিলাম। তখন অনেকেই খেলনা মোটরসাইকেল বলে আমাদের সমালোচনা করেছিলেন। আকিজ গ্রুপের জন্য এটা কোনো ভালো পদক্ষেপ নয় বলেও অনেকে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু এখন আমরা প্রতি মাসেই অনেক বেশি পরিমাণে মোটরসাইকেল বিক্রি করছি। দিনে দিনে এর চাহিদা অনেক বেশি বাড়ছে। 

খবরের কাগজ: আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে দেশেই যদি বৈদ্যুতিক-যানবাহনের উৎপাদন এবং বাজারজাত বাড়াতে চান, তাহলে সরকারের কোন ধরনের নীতি সহায়তা দরকার?
শেখ আমিনুদ্দিন: বৈদ্যুতিক যানবাহন তৈরির জন্য আমাদের পরিকল্পনা আছে। এজন্য দেশেই প্লাস্টিকের যন্ত্রাংশ উৎপাদন করব। এর জন্য যেসব উপকরণ দরকার সেখানে ডিউটি কমিয়ে দিতে হবে। এ ছাড়া যেসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই ধরনের কারখানা তৈরি করা হবে, তাদের প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে দর কমিয়ে দিতে পারে। সরকার যদি এসব সহায়তা দেয়, তাহলে অনেক উদ্যোক্তাই এই খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন। ফলে দেশেই বৈদ্যুতিক যানবাহনের উৎপাদন এবং ব্যবহার বাড়বে। এতে গ্রাহকরা অনেক কম দামেই এসব যান কিনতে পারবেন। তবে সরকারকে অবশ্যই আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে হবে। সরকারের শুল্ক নীতিমালা এবং প্রণোদনা যতদিন পর্যন্ত যুগোপযোগী না হবে ততদিন পর্যন্ত উৎপাদনকারীরা এই খাতে বিনিয়োগে আসবে না। কেননা এই খাতে বিনিয়োগে যারা আসবে তাদের যদি সরকার সুযোগ-সুবিধা না দেয় তাহলে এই অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশ ঘটবে না। 

এখন পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে সরকারের সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়নি। সরকার যদি ডিজেল গাড়িতে ৫ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে দেয় ঠিক সেই পরিমাণ ই-ভিতে ছাড় দিতে পারেন। এক্ষেত্রে একটা অসমতাও নিশ্চিত হয়। কিছু সুযোগ সুবিধা দিলেই এই শিল্পটি ভবিষ্যতে বিকশিত হবে। একদিন যদি ঢাকা শহরে তেল ছাড়া গাড়ি চলে তাহলে কত টাকার সাশ্রয় হবে- এটা একটু চিন্তা করে দেখবেন। সেই সঙ্গে পরিবেশের ওপর কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটা বাস্তবায়ন হলে স্বাস্থ্য খাতের অনেক খরচ কমে যাবে। এটাকে সামগ্রিকভাবে চিন্তা করতে হবে। কারণ, সারা পৃথিবীতেই আজ বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে আছি। 

খবরের কাগজ: আকিজ ছাড়া আর কোন কোন কোম্পানি বৈদ্যুতিক যান নিয়ে কাজ করছে?
শেখ আমিনুদ্দিন: আমরাই প্রথমদিকে বৈদ্যুতিক ভ্যান আমদানি করেছি। এবং আমরা খুব ভালো সাড়াও পেয়েছি। বৈদ্যুতিক যানের ক্ষেত্রে থ্রি হুইলার বা আমরা যেটাকে সিএনজি বলতাম, সেটা যেমন আমাদের পরিবেশের জন্য উপকার করেছে, ঠিক একই জিনিস পেট্রলের পরিবর্তে আমরা বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার আমদানি করেছি। এখানেই আমরা সেগুলো সংযোজন করছি।

এখন নতুন অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানই এই বৈদ্যুতিক যান নিয়ে কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে আগামীতে আরও অনেক কোম্পানি এই খাতে এগিয়ে আসবে। তারা সংযোজনের পাশাপাশি উৎপাদনও করবে। আমরা ২০১৭ সালে বৈদ্যুতিক যানের একটা মাত্র মোটরসাইকেলের মডেল নিয়ে শুরু করেছিলাম, এখন আমাদের প্রায় সাত থেকে আটটি মডেল রয়েছে। শুধু তাই নয়, এখন আমরা মোটরসাইকেলের পাশাপাশি থ্রি-হুইলার, পিকআপ ভ্যানসহ আরও কিছু যান আমদানি করছি। আগামীতে তা আরও বাড়বে বলে আশা করছি। 

খবরের কাগজ: বৈদ্যুতিক যানের ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান কেমন?
শেখ আমিনুদ্দিন: খুবই নগণ্য। তবে বাজারে যে ইজিবাইক চালু রয়েছে, সেগুলোর কথা ভিন্ন। তবে সত্যিকার অর্থে যেটাকে বৈদ্যুতিক যানবাহন বলি সেটা বাংলাদেশে একেবারেই নগণ্য। 

খবরের কাগজ: অটোমোবাইল শিল্পের রপ্তানির কোনো সম্ভাবনা আছে কি না।
শেখ আমিনুদ্দিন: স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন না হলেও আমাদের এখানে সংযোজনের মাধ্যমে রপ্তানির সুযোগ আছে। আমরা এখানে রাইট হ্যান্ড ড্রাইভ করি। এটা পৃথিবীর অনেক দেশেই করে থাকে। আমরাও সে অনুযায়ী, অনেককেই বলেছি। তোমরা আমাদের দেশে সংযোজনে করে উন্নত বিশ্বে সেগুলো রপ্তানি করলে সেখানে শুল্ক সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি আমরা নিজেরাও পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল ও ভুটানে রপ্তানির চিন্তাভাবনা করছি। এই ব্যাপারে চলতি বছরই কাজ শুরু করবো বলে আশা করছি।

বর্তমানে আমাদের দেশে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ হওয়ায় নতুন গাড়ি বিক্রি অনেকটাই কমে গেছে। তবে সারা বিশ্বে ইঞ্জিনচালিত মোটরসাইকেলের ব্যবহার অর্ধেকে নেমে গেছে। এর পরিবর্তে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের চাহিদা বাড়ছে।

দীর্ঘ ভ্রমণের আগে গাড়ির প্রস্তুতি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
দীর্ঘ ভ্রমণের আগে গাড়ির প্রস্তুতি
ছবি: সংগৃহীত

পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার আনন্দ অন্যরকম হয়ে থাকে। তবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার আগে গাড়ির অবস্থা পরীক্ষা করা জরুরি। মাঝপথে গাড়ি বিকল হলে পুরো আনন্দ মাটি হতে পারে। তাই যাত্রার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করে নিলে ভ্রমণ হতে পারে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক।

ভ্রমণের শুরুতে গাড়ির ইঞ্জিন অয়েল, ব্রেক ফ্লুইড, কুল্যান্ট এবং উইন্ডশিল্ড ওয়াইপার ওয়াটার পরীক্ষা করুন। ইঞ্জিন অয়েল কম থাকলে বা পরিবর্তনের সময় হলে তা বদলে নিন। দীর্ঘ যাত্রায় ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়া রোধ করতে কুল্যান্টের ভূমিকা অপরিসীম। রেডিয়েটরে কুল্যান্টের পরিমাণ ঠিক আছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি।

গাড়ির টায়ার যাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সব টায়ারের এয়ার প্রেশার বা বাতাসের চাপ পরীক্ষা করুন। টায়ারে কোনো লিক, ফাটল বা ক্ষয় আছে কি না, তা ভালোভাবে দেখে নিন। দীর্ঘ ভ্রমণের সময় গাড়িতে অতিরিক্ত মালামাল থাকে, তাই সঠিক টায়ার প্রেশার বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে গাড়ির অতিরিক্ত চাকা বা স্পেয়ার টায়ারটি ব্যবহারের উপযোগী আছে কি না এবং চাকা পরিবর্তনের টুলসগুলো গাড়িতে আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।

নিরাপদ যাত্রার জন্য ব্রেকের কার্যকারিতা যাচাই করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্রেক চাপার সময় কোনো অস্বাভাবিক শব্দ হলে বা ব্রেক কম ধরলে দ্রুত মেকানিকের শরণাপন্ন হোন। এছাড়া গাড়ির হেডলাইট, ব্যাকলাইট, ইন্ডিকেটর এবং ফগলাইটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করুন। রাতের বেলা বা কুয়াশায় পরিষ্কার দেখার জন্য সব লাইট ঠিক থাকা আবশ্যক।

গাড়ির ব্যাটারির সংযোগস্থলগুলো পরিষ্কার আছে কি না এবং সেখানে কোনো মরিচা পড়েছে কি না, তা খেয়াল করুন। ব্যাটারির চার্জের অবস্থা দুর্বল মনে হলে তা পরিবর্তন করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। দীর্ঘ যাত্রায় গাড়ির এসি বা এয়ার কন্ডিশনার ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তাও দেখে নিন।

যাত্রার আগে গাড়ির প্রয়োজনীয় সব বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন। এর মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন এবং ফিটনেস সার্টিফিকেট অন্যতম। বর্তমান সময়ে ডিজিটাল বা অনলাইন কপির পাশাপাশি মূল কাগজপত্রের প্রিন্ট কপি গাড়িতে রাখা নিরাপদ।
সবশেষে গাড়িতে একটি ফার্স্ট এইড বক্স, টর্চলাইট, ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার এবং কিছু জরুরি ওষুধ রাখুন। রাস্তায় ব্যবহারের জন্য বোতলজাত পানি এবং শুকনা খাবার সঙ্গে নেওয়া ভালো। এই ছোট ছোট প্রস্তুতি আপনার দীর্ঘ ভ্রমণকে নিরাপদ, আরামদায়ক ও দুশ্চিন্তামুক্ত রাখবে। সঠিক প্রস্তুতিই একটি সফল ভ্রমণের মূল চাবিকাঠি।

চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা
বৈদ্যুতিক গাড়ি অভিন্ন

ভারতের টাটা মোটরস চীনের জনপ্রিয় বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্র্যান্ড চেরির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাদের প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড ‘অভিন্ন’ ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরি করতে যাচ্ছে। 
গণমাধ্যমের তথ্যমতে, চেরি ও জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘ফ্রিল্যান্ডার’ প্লাটফর্মটি ব্যবহার করবে টাটা। গাড়িগুলো দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর নতুন কারখানায় তৈরি হবে। 
২০২৭ সালে অভিন্ন’র প্রথম মডেলটি বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে টাটার। এটি চীন থেকে সরঞ্জাম এনে ভারতে সংযোজন করা হবে। 
মূলত ২০২৫ সালের মধ্যে জেএলআর-এর নিজস্ব আর্কিটেকচার ব্যবহারের আগের পরিকল্পনাটি ভেস্তে যাওয়ার পর, টাটা চীনের এই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। এই চুক্তির ফলে টাটা অত্যন্ত দ্রুত এবং কম খরচে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির জগতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে টাটা। 

সূত্র: সিএমজি

ভলভোর নতুন ইলেকট্রিক এসইউভি ‘ইএক্স৬০’

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
ভলভোর নতুন ইলেকট্রিক এসইউভি ‘ইএক্স৬০’
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অটোমোবাইল শিল্প এখন দ্রুত সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। এই ধারাবাহিকতায় সুইডিশ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভলভো তাদের নতুন ২০২৭ মডেলের ‘ইএক্স৬০’ এসইউভি গাড়ি উন্মোচন করেছে। সম্প্রতি স্পেনের বার্সেলোনায় গাড়িটির পরীক্ষামূলক চালনা সম্পন্ন হয়। ভলভোর জনপ্রিয় জ্বালানিচালিত এক্সসি৬০ মডেলের বিকল্প হিসেবে তৈরি এই বৈদ্যুতিক গাড়িটি মূলত প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ ডিজিটাল প্রযুক্তির সক্ষমতা তুলে ধরছে।

গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ভলভোর নিজস্ব ‘হাগিনকোর’ সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম। গুগল, এনভিডিয়া ও কোয়ালকমের যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি এই সিস্টেম গাড়িটিকে একটি চলন্ত কম্পিউটারে রূপান্তর করেছে। এর ফলে গাড়িটি নিয়মিত ওভার দ্য এয়ার (ওটিএ) আপডেট পাবে। একই সঙ্গে এর সক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালকের আচরণ ও চারপাশের পরিস্থিতি দ্রুত বিশ্লেষণ করতে পারবে। ভলভোর নতুন ‘এসপিএ৩’ প্ল্যাটফর্মে তৈরি এই গাড়ির চ্যাসিস ও ব্যাটারি সংযুক্ত অবস্থায় থাকায় এর ওজন অনেক কমে এসেছে।

চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসতে যাওয়া ইএক্স৬০ গাড়িটি কয়েকটি সংস্করণে পাওয়া যাবে। এর প্রারম্ভিক সংস্করণ ‘পি৬’ একক মোটরের রিয়ার-হুইল ড্রাইভ প্রযুক্তিসম্পন্ন, যা ৩৬৯ হর্সপাওয়ার উৎপাদন করতে পারে। এতে রয়েছে ৮০ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি, যা একবার পূর্ণ চার্জে ৩০৭ মাইল পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। অন্যদিকে, শক্তিশালী ‘পি১০’ সংস্করণটি দ্বৈত মোটরের অল-হুইল ড্রাইভসমৃদ্ধ। এটি ৫০৩ হর্সপাওয়ার উৎপাদন করে এবং এর ৯১ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি সর্বোচ্চ ৩২২ মাইল রেঞ্জ দেয়। ৮০০ ভোল্টের ইলেকট্রিক আর্কিটেকচারের কারণে মাত্র ১০ মিনিটে গাড়িটিতে ১৬০ মাইলেরও বেশি রেঞ্জ যুক্ত করা সম্ভব। এছাড়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৬৭০ হর্সপাওয়ারের একটি ‘পি১২’ সংস্করণ বাজারে আসবে।

গাড়িটির ভেতরে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান শৈলীর চমৎকার ও ছিমছাম নকশা চোখে পড়ে। ড্যাশবোর্ডে রয়েছে ১৫ ইঞ্চির ওএলইডি টাচস্ক্রিন, যা গুগলের অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমে চলে। এতে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘জেমিনাই’ যুক্ত করা হয়েছে, যা চালকের সাধারণ কথার উত্তর দিতে পারে। গাড়িটির কেবিন বেশ প্রশস্ত এবং এর আসনগুলো অত্যন্ত আরামদায়ক। তবে ভেন্টিলেশন ও এসির মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণগুলো সম্পূর্ণ টাচস্ক্রিননির্ভর হওয়ায় চলন্ত অবস্থায় তা পরিচালনা করা কিছুটা জটিল মনে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভলভো ইএক্স৬০-এর প্রাথমিক দাম ধরা হয়েছে ৫৯ হাজার ৭৯৫ মার্কিন ডলার। পারফরম্যান্স ও প্রযুক্তির তুলনায় এই দাম জার্মান প্রতিযোগী অডি কিউ৬ ই-ট্রন বা বিএমডব্লিউ আইএক্স৩-এর চেয়ে বেশ সাশ্রয়ী। শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতি তুলতে পি৬ সংস্করণের সময় লাগে ৫ দশমিক ৭ সেকেন্ড এবং পি১০ সংস্করণের লাগে মাত্র ৪ দশমিক ৪ সেকেন্ড। আধুনিক প্রযুক্তি, আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং চমৎকার রাইডিং কমফোর্টের কারণে ভলভোর এই প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক গাড়ি বাজারে বেশ ভালো সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঝুঁকিমুক্ত যাতায়াতে গাড়ির সাসপেনশন ও স্টিয়ারিংয়ের যত্ন

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
আপডেট: ২২ মে ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
ঝুঁকিমুক্ত যাতায়াতে গাড়ির সাসপেনশন ও স্টিয়ারিংয়ের যত্ন
ছবি: সংগৃহীত

গাড়ির চাকা ও ব্রেক যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই জরুরি এর সাসপেনশন ও স্টিয়ারিং সিস্টেম। নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াতের জন্য এই দুটি অংশ সব সময় সচল রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সড়কের বর্তমান অবস্থায় গাড়ির এই গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশগুলোর ওপর বেশ বাড়তি চাপ পড়ে। একটু সচেতন হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

গাড়ির সাসপেনশন মূলত রাস্তা থেকে আসা ঝাঁকুনি শোষণ করে। এটি গাড়িকে সড়কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে স্টিয়ারিং সিস্টেম গাড়ির দিক নিয়ন্ত্রণ করে। চালকের নির্দেশ অনুযায়ী গাড়িকে ডানে বা বামে মোড় নিতে সাহায্য করে এটি। এই দুটি সিস্টেমের একটিতে সমস্যা হলে অন্যটির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে।

সাসপেনশন নষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ অতিরিক্ত ঝাঁকুনি। গাড়ি চালানোর সময় যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কম্পন অনুভূত হয়, তবে বুঝতে হবে শক অ্যাবজর্বার ও স্প্রিং দুর্বল হয়ে গেছে। এছাড়া মোড় নেওয়ার সময় গাড়ি একদিকে হেলে পড়লে বা ব্রেক করার সময় সামনের দিকে বেশি ঝুঁকে গেলেও সাসপেনশন পরীক্ষা করা জরুরি।

স্প্রিং বা বল জয়েন্ট ঢিলে হয়ে গেলে স্টিয়ারিংয়ে সমস্যা দেখা দেয়। গাড়ি সোজা চালানোর সময়ও যদি স্টিয়ারিং হুইল একদিকে টেনে ধরে, তবে চাকার অ্যালাইনমেন্টে সমস্যা রয়েছে। আবার স্টিয়ারিং ঘোরাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শক্তির প্রয়োজন হলে বুঝতে হবে পাওয়ার স্টিয়ারিং ফ্লুইড কমে গেছে। অনেক সময় ফ্লুইড লিকেজ হওয়ার কারণেও এমনটি হতে পারে।

নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এই দুটি সিস্টেম দীর্ঘদিন ভালো রাখা যায়। প্রতি ১০ হাজার কিলোমিটার পরপর চাকার ব্যালান্সিং এবং হুইল অ্যালাইনমেন্ট পরীক্ষা করা উচিত। এটি চাকার অসমান ক্ষয় রোধ করে এবং স্টিয়ারিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নিখুঁত রাখে। ভাঙাচোরা বা খানাখন্দে ভরা রাস্তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। দ্রুতগতিতে গর্তে পড়লে সাসপেনশনের বল জয়েন্ট, বুশিং ও স্ট্রাট দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গাড়ি সার্ভিসিং করার সময় চ্যাসিসের নিচের অংশ ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কাদা ও বালু জমে বুশিংয়ের রাবার নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া পাওয়ার স্টিয়ারিংয়ের তেলের স্তর নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর তা পরিবর্তন করা উচিত।

গাড়ির সাসপেনশন ও স্টিয়ারিংয়ে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা ত্রুটি লক্ষ করলে অবহেলা করা ঠিক নয়। সময়মতো ছোটখাটো মেরামত না করলে পরবর্তী সময়ে পুরো সিস্টেমটি পরিবর্তন করতে হতে পারে। এতে মেরামতের খরচ অনেক বেড়ে যায়। নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের জন্য গাড়ির এই দুটি প্রধান অংশের নিয়মিত যত্ন নেওয়া প্রত্যেক গাড়িচালকের দায়িত্ব।

কিয়ার ভিশন মেটা ট্যুরিজমো ভবিষ্যতের স্পোর্টস কার

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
কিয়ার ভিশন মেটা ট্যুরিজমো ভবিষ্যতের স্পোর্টস কার
ছবি: সংগৃহীত

অটোমোবাইল জগতে প্রথাগত বৈদ্যুতিক গাড়ির ধারণা বদলে দিতে নতুন এক কনসেপ্ট কার উন্মোচন করেছে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠান কিয়া। সম্প্রতি মিলান ডিজাইন উইকে তারা প্রদর্শন করেছে ‘ভিশন মেটা ট্যুরিজমো’। এটি কেবল একটি গাড়ি নয়, বরং ডিজিটাল প্রযুক্তি ও যান্ত্রিক দক্ষতার এক অনন্য সমন্বয়।

কিয়া এই গাড়িটিকে তাদের ‘অপোজিটস ইউনাইটেড’ দর্শনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল ডিজাইন প্রধান করিম হাবিব জানিয়েছেন, ভিশন মেটা ট্যুরিজমো কিয়ার ভবিষ্যৎ যাত্রার একটি মাইলফলক। এটি মূলত মানুষের আবেগ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণে তৈরি এক বৈদ্যুতিক বাহন।

বাহিরের নকশা
গাড়িটির বাহ্যিক রূপ দেখতে বেশ গতিশীল। এর নিচু ও চওড়া কাঠামো একে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্পোর্টস কারের রূপ দিয়েছে। এর পেছনের অংশটি তীক্ষ্ণভাবে কাটা এবং এতে রয়েছে অতি সরু আলোকসজ্জা, যা বাতাসের বাধা কমিয়ে গতি বাড়াতে সাহায্য করে। ডিজাইনাররা জানান, গাড়িটির কাঠামো তৈরিতে তারা যুদ্ধবিমান বা অ্যাভিয়েশন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন।

অভ্যন্তরীণ রূপান্তর
প্রথাগত গাড়ির ভেতরের সজ্জার তুলনায় ভিশন মেটা ট্যুরিজমো অনেক বেশি বৈপ্লবিক। এর কেবিনকে গতিশীল ড্রাইভিং, ডিজিটাল মিথস্ক্রিয়া ও আরামদায়ক বিশ্রামের জন্য তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। গাড়িটি যখন স্থির অবস্থায় থাকে, তখন এর আসন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে একে অপরের মুখোমুখি বসা যায়। এমনকি এতে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে ভার্চুয়াল জগতের সুবিধাও নেওয়া সম্ভব।

ডিজিটাল প্রযুক্তি ও গেমিং
এই কনসেপ্ট কারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক এর স্টিয়ারিং ব্যবস্থা, যা অনেকটা গেমিং কন্ট্রোলারের মতো। এতে স্পিডস্টার, ড্রিমার ও গেমার–তিনটি মোড রয়েছে। চালক চাইলে গাড়িটিকে পারফরম্যান্স মোডে চালাতে পারেন; আবার গেমার মোডে গাড়িটি একটি সামাজিক আড্ডার কেন্দ্রে পরিণত হয়। বৈদ্যুতিক গাড়ি হওয়া সত্ত্বেও এতে কৃত্রিম ইঞ্জিনের শব্দ এবং ভাইব্রেশন যোগ করা হয়েছে, যাতে চালক যান্ত্রিক অনুভব করতে পারেন।

যদিও ভিশন মেটা ট্যুরিজমো এখনই সড়কে নামছে না, তবে এটি ভবিষ্যতের যাতায়াত ব্যবস্থার এক স্পষ্ট ইঙ্গিত। কিয়া প্রমাণ করতে চাইছে, একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি কেবল গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যম নয়, এটি বিনোদন ও বিশ্রামের একটি বহুমুখী ডিজিটাল স্থান হতে পারে।