একদিন শীতের সকালে ছোট্ট রিমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে কুয়াশার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘মা, আজ তো খুব শীত!’
মা হেসে বললেন, ‘এই শীত কিছুই না। তুমি কি ওইমিয়াকনের কথা জানো?’
রিমি চোখ বড় বড় করে তাকাল। ওইমিয়াকন— নামটা যেন কোনো রূপকথার দেশের মতো শোনায়।
মা বললেন, পৃথিবীতে এমন একটা জায়গা আছে, যেখানে শীত এত বেশি যে শ্বাস নিলেও মনে হয় বরফ ঢুকে যাচ্ছে।
রিমির মাথার ভেতর তখনই শুরু হয়ে গেল এক মজার কল্পনার গল্প।
রিমি ভাবল, সে যেন হঠাৎ করেই ওইমিয়াকনে পৌঁছে গেছে। চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। রাস্তা, বাড়ি, গাছ— সবই বরফের চাদরে ঢাকা। সূর্য আকাশে উঠেছে ঠিকই, কিন্তু তার আলোতে কোনো উষ্ণতা নেই। সেখানে তার সঙ্গে দেখা হলো ইভান নামের এক ছেলের। ইভান হাসতে হাসতে বলল, ‘স্বাগতম শীতের দেশে!’
সে কথা বলতেই মুখ থেকে ধোঁয়া বেরিয়ে এলো। রিমি অবাক হয়ে ভাবল, মানুষ কথা বললে ধোঁয়া বের হয় নাকি!
ইভান জানাল, ওইমিয়াকনে শীতকালে তাপমাত্রা প্রায়ই মাইনাস পঞ্চাশ থেকে মাইনাস ষাট ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়। একবার নাকি মাইনাস সাতষট্টি ডিগ্রিও হয়েছিল। রিমি শুনে কাঁপতে কাঁপতে বলল, ‘ওহ! তা হলে এখানে আইসক্রিম রাখার জন্য ফ্রিজ লাগে না!’
ইভান হেসে বলল, ‘ঠিক তাই। বাইরে রাখলেই সব বরফ!’
রিমি লক্ষ করল, এখানে সবাই অদ্ভুতভাবে মোটা। পরে বুঝল, মানুষগুলো মোটা না— কাপড়ই এত বেশি যে তাদের দেখতে মোটা লাগছে। ইভান বাইরে যাওয়ার আগে একটার পর একটা জামা পরতে লাগল। রিমি গুনতে গুনতে ক্লান্ত হয়ে গেল। টুপি, কানটুপি, দস্তানা, মোজা, ভারী বুট— সব মিলিয়ে ইভান যেন হাঁটতে থাকা একটা কম্বল। ইভান মজা করে বলল, ‘এখানে না ঢেকে বের হলে, শীত কামড়ে ধরবে!’
রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে রিমি দেখল, একটি গাড়ি ইঞ্জিন চালু রেখেই দাঁড়িয়ে আছে। ইভান বলল, ‘গাড়ি বন্ধ করলে ও ঠাণ্ডায় ঘুমিয়ে পড়বে। তখন আর জাগবে না!’
এই কথা শুনে রিমি খিলখিল করে হেসে উঠল। সে ভাবল, গাড়িরও যদি কম্বল থাকত!
খাওয়ার সময় রিমি দেখল, সবাই খুব গরম খাবার খাচ্ছে। ধোঁয়া ওঠা স্যুপ, গরম মাংস— সবই শরীর গরম রাখার জন্য। ঠাণ্ডা পানি কেউ খায় না। কারণ পানি নাকি মুখে দেওয়ার আগেই বরফ হয়ে যেতে পারে। রিমির মনে হলো, এখানে চা-ই হবে সবচেয়ে প্রিয় পানীয়।
হঠাৎ রিমির ঘুম ভেঙে গেল। মা ডাকছেন, ‘স্কুলে দেরি হবে।’
রিমি কম্বলের ভেতর থেকেই হাসল। সে ভাবল, আমাদের শীত যতই হোক, ওইমিয়াকনের শীতের কাছে তা কিছুই না। তবু সে মনে মনে বলল, ‘শীতের দেশ ওইমিয়াকন— সত্যিই একদিন সেখানে বেড়াতে যাব!’