তোমরা কি কখনো ভেবে দেখেছ, গ্লাসের তরল দুধ কীভাবে প্যাকেটের ভেতরে বালুর মতো ঝরঝরে গুঁড়া হয়ে যায়? আসলে গুঁড়া দুধ তৈরির প্রক্রিয়াটি অনেকটা জাদুর মতো হলেও এর পেছনে রয়েছে খাঁটি বিজ্ঞান।
গুঁড়া দুধ হলো সাধারণ তরল দুধেরই একটি রূপ, যেখান থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে সবটুকু পানি বের করে নেওয়া হয়। তরল দুধে প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই পানি থাকে। বড় বড় কারখানায় বিশালাকার মেশিনের সাহায্যে সেই পানিটুকু শুকিয়ে ফেলা হয়, যাতে শুধু দুধের পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ অংশটুকু অবশিষ্ট থাকে। এতে দুধের স্বাদ ও পুষ্টি ঠিক থাকে, কিন্তু সেটি আর তরল থাকে না।
আধুনিক কারখানায় প্রস্তুত প্রণালি
কারখানায় গুঁড়া দুধ বানানোর সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হলো ‘স্প্রে ড্রায়িং’ পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্রথমে খাঁটি তরল দুধকে সংগ্রহ করে সেটিকে খুব উচ্চতাপে গরম করা হয়। এরপর একটি বিশাল চেম্বারের ভেতর দিয়ে গরম বাতাসের প্রবাহ তৈরি করা হয় এবং ওপর থেকে দুধকে খুব সূক্ষ্ম ছিদ্রে স্প্রে করা হয়। ঠিক যেমন তোমরা ফুলের গাছে পানি ছিটাও, তেমনিভাবে দুধকে কুয়াশার মতো ছড়িয়ে দেওয়া হয়। গরম বাতাসের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গে দুধের ভেতরের সব পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যায় এবং দুধের কণাগুলো ছোট ছোট দানার মতো নিচে জমা হয়। এভাবেই আমরা খুব মিহি ও মিষ্টি গুঁড়া দুধ পাই, যা পানিতে মেশালেই আবার আগের মতো তরল হয়ে যায়।
গুঁড়া দুধের আবিষ্কারক ও ইতিহাস
গুঁড়া দুধের ইতিহাস কিন্তু বেশ পুরোনো এবং আকর্ষণীয়। অনেকের মতে, প্রাচীনকালে মঙ্গোলিয়ার যোদ্ধারা রোদে দুধ শুকিয়ে এক ধরনের শক্ত টুকরো তৈরি করত, যা তারা যুদ্ধের সময় সঙ্গে রাখত। তবে আধুনিক ও বাণিজ্যিকভাবে গুঁড়া দুধ তৈরির পথপ্রদর্শক হলেন ব্রিটিশ উদ্ভাবক পার্সিভ্যাল ক্রিস্টিয়ান। তিনি ১৮৫৫ সালে প্রথম এই পদ্ধতিতে দুধ সংরক্ষণের উপায় বের করেন। পরবর্তী সময়ে রুশ রসায়নবিদ ওসিপ ফ্লেডম্যান এই প্রক্রিয়াটিকে আরও উন্নত ও সহজতর করেন। তাদের এই পরিশ্রমের ফলেই আজকে আমরা খুব সহজে প্যাকেট খুলে দুধ খেতে পারছি।