অনেক দূরে, সৌরজগতের একদম প্রান্তে; কুইপার বেল্টর উর্ট ক্লাউড অঞ্চলে; যেটি প্লুটো থেকে আরও অনেক দূরে; সেই দূর দেশে একটা ছোট্ট ধূমকেতু থাকত। তার নাম ছিল কেটু। সে খুব শান্ত ও ভদ্র। একা একা ঘুরে বেড়াত। তার শরীরটা ছিল বরফ, পাথর আর ধুলা দিয়ে তৈরি। ওই অঞ্চলটা পৃথিবীর অ্যান্টার্কটিকার মতো সব সময় বরফে ঢেকে থাকে। সে সূর্যের কাছে কখনো যেতে চাইত না, কারণ সেখানে খুব গরম এবং সূর্য তার কাছ থেকে অনেক দূরে। সূর্যকে একবার ঘুরে আসতে তার প্রায় ২০০ বছর লেগে যায়।
কিন্তু কেটুর একটা স্বপ্ন ছিল—সে চাইত তার একটা লম্বা, সুন্দর লেজ হোক, যেমন অনেক বড় ধূমকেতুর হয়। সে প্রতিদিন ভাবত, ‘আহা, যদি আমি সূর্যের কাছে যাই, তাহলে আমার বরফ গলে গ্যাস হয়ে একটা ঝকঝকে লেজ বেরিয়ে আসবে!’
একদিন কেটু সাহস করে সূর্যের দিকে যাত্রা শুরু করল। অনেক বছর লাগল তার যেতে। পথে সে দেখা পেল তার অনেক ছোট্ট বন্ধু— উল্কাপিণ্ডদের। তারা বলল, ‘কেটু দাদা, তুমি কোথায় যাচ্ছ? আমরা তো সূর্যের কাছে গেলেই পুড়ে ছাই হয়ে যাই!’
কেটু হেসে বলল, ‘তোরা চিন্তা করিস না। আমি তোদের সঙ্গে নিয়ে যাব। আমার পিঠে চড়ে বস।’
অনেক উল্কাখণ্ড আর ধুলাবালি তার ওপর চড়ে বসল। সে বলল, ‘আমরা সবাই মিলে একটা মজার খেলা খেলব।’
অবশেষে কেটু সূর্যের কাছে পৌঁছাল। সূর্যের গরমে তার বরফ গলতে শুরু করল। হঠাৎ তার পেছনে একটা লম্বা, চকচকে লেজ বেরিয়ে এল—সোনালি, নীল আর সবুজ রঙের মিশেল! আকাশজুড়ে কেটু জ্বলজ্বল করতে লাগল।
আর যারা তার সঙ্গে এসেছিল ছোট উল্কাখণ্ডরা? তারা সূর্যের কাছে এসে পুড়তে পুড়তে জ্বলে উঠল—আর রাতের আকাশে ছুটে গেল আলোর রেখা হয়ে! পৃথিবীর বাচ্চারা আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল, ‘দেখো দেখো! উল্কা পড়ছে! ধূমকেতুর লেজ থেকে তারা ঝরে পড়ছে!’
কেটু খুব খুশি হয়ে ভাবল, ‘আমার লেজটা শুধু সুন্দর নয়, আমার ছোট বন্ধুদেরও আলো দিয়ে পৃথিবীকে আনন্দ দিচ্ছে!’
তারপর কেটু আবার ফিরে গেল দূরের অন্ধকারে। কিন্তু প্রতিবার যখন সে ফিরে আসে সূর্যের কাছে, তখন তার লেজ আবার জ্বলে ওঠে, আর তার সঙ্গে ছোট উল্কারা আকাশে আলোর বৃষ্টি ছড়িয়ে দেয়।
তাই রাতে যখন উল্কা দেখবে, মনে মনে বলবে—‘ধন্যবাদ কেটু দাদা আর তোমার ছোট বন্ধুরা! তোমরা আমাদের স্বপ্ন আর আশা নিয়ে আলো ছড়াচ্ছ!’