জানালার ধারে বসে ঝমঝম শব্দে বৃষ্টি দেখা আমাদের সবারই খুব পছন্দের। কিন্তু তোমরা কি কখনো ভেবে দেখেছ, আকাশের নীল মেঘগুলো কীভাবে ঝুপঝুপ করে পানি হয়ে নিচে নেমে আসে? চলো, বৃষ্টির মজার এ গল্পটি জেনে নেওয়া যাক।
বৃষ্টির এই পুরো প্রক্রিয়াটি অনেকটা একটি সার্কেলের মতো। বিজ্ঞানীরা একে বলেন ‘পানিচক্র’। এটি তিনটি সহজ ধাপে ঘটে–
সূর্যের তাপে বাষ্প হওয়া
পুকুর, নদী বা সমুদ্রের পানিতে যখন সূর্যের কড়া রোদ পড়ে, তখন পানি গরম হয়ে যায়। পানি গরম হলে তা হালকা হয়ে বাতাসের সঙ্গে মিশে ওপরে উঠতে থাকে। একে বলে বাষ্পীভবন। ঠিক যেমন মা যখন চুলায় চা বানান, তখন কেতলি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়, নদীনালার পানিও সেভাবে অদৃশ্য ধোঁয়া হয়ে আকাশে উড়ে যায়।
মেঘ তৈরি হওয়া
বাতাস যত ওপরের দিকে যায়, তত ঠাণ্ডা হতে থাকে। এই জলীয় বাষ্প ওপরে গিয়ে ঠাণ্ডা হয়ে ছোট ছোট পানির ফোঁটায় পরিণত হয়। এই ফোঁটাগুলো যখন অনেক বেশি পরিমাণে জমা হয়, তখন তারা দল বেঁধে আকাশে ঘুরে বেড়ায়। আর একেই আমরা মেঘ বলি। মেঘ হলো আসলে পানির ফোঁটা আর ধূলিকণার একটি বিশাল ভেলা।
বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়া
মেঘের ভেতর পানির ফোঁটাগুলো যখন একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়, তখন তারা মিলেমিশে বড় আর ভারী হয়ে যায়। একসময় সেগুলো এতই ভারী হয়ে যায় যে, বাতাস আর তাদের ধরে রাখতে পারে না। তখন মাধ্যাকর্ষণ বলের টানে তারা টুপটুপ করে নিচে ঝরে পড়ে। এটাই হলো আমাদের অতি পরিচিত বৃষ্টি।
মজার তথ্য
মেঘের রং কালো দেখায়, কারণ সেই মেঘে পানির পরিমাণ এত বেশি থাকে যে, সূর্যের আলো তার ভেতর দিয়ে আসতে পারে না।
সামনে যেহেতু বাংলাদেশে বর্ষাকাল আসছে, তোমরা হয়তো প্রায়ই বিদ্যুৎ চমকাতে দেখবে। যখন মেঘে মেঘে ঘর্ষণ হলে আলোর ঝলকানি বা বিদ্যুৎ দেখা দেয়। বৃষ্টির দিনে কদম ফুল ফোটে আর ব্যাঙেরা মনের সুখে গান গায়। তবে বৃষ্টির সময় বাইরে ভিজলে কিন্তু ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে, তাই সাবধানে থেকে বৃষ্টির আনন্দ নিতে হবে।