নাটক : বহিপীর
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
২১। হাশেম তাহেরাকে হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দেয় কেন?
উত্তর: তাহেরা নদীতে ঝাঁপ দিতে গেলে তাকে বাঁচানোর জন্য হাশেম হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দেয়। তাহেরার প্রতি প্রথম থেকেই হাশেমের দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা জাগ্রত হয়। সে বহিপীরের কবল থেকে তাহেরাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বহিপীর বিভিন্ন কৌশলে তাহেরাকে নিয়ে যেতে চান। একপর্যায়ে বহিপীর পুলিশ ডাকতে পাঠালে তাহেরা নদীতে ঝাঁপ দিতে যায়। তখন তাকে বাঁচানোর জন্য হাশেম হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দেয়।
২২। খোদেজার সঙ্গে হাশেমের বিরোধ সৃষ্টি হয় কেন?
উত্তর: তাহেরাকে বহিপীরের সঙ্গে পাঠানো নিয়ে খোদেজার সঙ্গে হাশেমের বিরোধ সৃষ্টি হয়। তাহেরা বাড়ি থেকে পালিয়ে ঘটনাক্রমে হাতেম আলির বজরায় আশ্রয় নেয়। অন্যদিকে বহিপীর তাহেরাকে খুঁজতে গিয়ে নৌকা ডুবে যাওয়ায় হাতেম আলির বজরায় উঠে। সেখান থেকে বহিপীর তাহেরাকে নিয়ে যেতে চাইলে তাহেরা যেতে অস্বীকৃতি জানায়। কেননা সে বহিপীরের সঙ্গে সংসার করতে রাজি নয়। সেখানে হাশেম তাহেরার পক্ষ নিলেও খোদেজা তাহেরাকে পাঠিয়ে দিতে চায়। আর এ নিয়ে খোদেজার সঙ্গে হাশেমের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
২৩। বাবার জমিদারি নিলামে ওঠার কথায় হাশেম কাঁদতে শুরু করে কেন?
উত্তর: বাবার জমিদারি নিলামে ওঠায় তার কষ্ট অনুধাবন করে হাশেম কাঁদতে শুরু করে। হাশেম একজন অনুভূতিবোধসম্পন্ন মানুষ। অন্যের দুঃখ-কষ্ট তাকে ব্যথিত করে। তাহেরার প্রতি সে যেমন সমব্যথী হয়েছে তেমন বাবার জমিদারি হারানোর কথাও তাকে ব্যথিত করেছে। বাবা জমিদারি হারানোতে তার বুকের মধ্যে কেমন অস্থিরতা কাজ করছে তা ভেবে হাশেম আবেগতাড়িত হয়ে পড়ে। আর এজন্য সে কেঁদে ফেলে।
২৪। খোদেজা খাল কেটে কুমির আনার কথা বলেছে কেন?
উত্তর: হাশেম তাহেরাকে বিয়ে করতে চাওয়ায় খোদেজা মনে করে সে খাল কেটে কুমির এনেছে। খোদেজা তাহেরাকে বিপদগ্রস্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে তাদের বজরায় আশ্রয় দেয়। তার কাছে সব ঘটনা শুনে হাশেম তাহেরার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে। সে তাহেরাকে বিয়ে করে উদ্ধার করতে চায়। তখন খোদেজা তাহেরার প্রতি ইঙ্গিত করে খাল কেটে কুমির আনার কথা বলেছে।
২৫। হাতেম আলি বহিপীরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল কেন?
উত্তর: হাতেম আলি আত্মসম্মান বোধের কারণে বহিপীরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। হাতেম আলি রেশমপুরের জমিদার। ফলে তিনি একজন আত্মসম্মানী মানুষ। কিন্তু টাকার অভাবে তিনি জমিদারি হারাতে বসেছেন। এ সময় বহিপীর তাহেরাকে সঙ্গে যেতে রাজি করার বিনিময়ে হাতেম আলিকে জমিদারি রক্ষার টাকা দিতে চায়। কিন্তু এ প্রস্তাব মেনে নিতে হাতেম আলির আত্মসম্মানে বাধে। তাই তিনি বহিপীরের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
আরো পড়ুন : বহিপীর নাটকের ৮টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব
২৬। শেষ পর্যায়ে বহিপীর হাতেম আলিকে কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া সাহায্য করতে চাইলেন কেন?
উত্তর: বহিপীরের মাঝে মানবতাবোধ জাগ্রত হওয়ায় শেষ পর্যায়ে তিনি হাতেম আলিকে কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া সাহায্য করতে চাইলেন। বহিপীর তাহেরাকে সঙ্গে নেওয়ার জন্য নানা রকম ফন্দি আঁটেন। কিন্তু কোনো কিছুতে কাজ না হওয়ায় হাতেম আলিকে সাহায্য করার বিনিময়ে তাহেরাকে চান। কিন্তু হাতেম আলি আত্মসম্মান বোধের কারণে বহিপীরের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে বহিপীরের মাঝেও মানবতাবোধ জন্মে। তিনি বুঝতে পারেন তাহেরার মতো বালিকাকে তার বিয়ে করা উচিত হয়নি। তাই তিনি শেষ পর্যায়ে কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই হাতেম আলিকে সাহায্য করতে চান।
২৭। ‘ঝোঁক কেটে গেলে আপনার ছেলের মনে হতে পারে তিনি ভুল করেছেন’ তাহেরা এ উক্তি করেছে কেন?
উত্তর: তাহেরাকে হাশেম বিয়ে করতে চাইলে তাকে যাচাই করার উদ্দেশ্যে তাহেরা উক্তিটি করেছে। হাশেম দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা থেকে তাহেরাকে বহিপীরের হাত থেকে রক্ষার জন্য বিয়ে করতে চায়। হাশেম এ কথা তার মায়ের সামনে তাহেরাকে জানায়। কিন্তু তাহেরা যথেষ্ট বুদ্ধিমতী মেয়ে। তাই সে হাশেমকে যাচাই করে নিতে চায়, কেন সে তাকে বিয়ে করতে চাচ্ছে। আর এ জন্যই তাহেরা উক্তিটি করে।
২৮। বহিপীর ও তার সঙ্গী পানিতে নাকানি-চুবানি খেয়েছে কেন?
উত্তর: নৌকা ডুবে যাওয়ায় বহিপীর ও তার সঙ্গী পানিতে নাকানি-চুবানি খেয়েছে। বহিপীর তার সঙ্গীকে নিয়ে তাহেরাকে খুঁজতে বেরিয়েছিল। পথিমধ্যে ঝড় শুরু হলে তারা দ্রুত খালের মধ্যে ঢুকতে যায়। সে সময় হাতেম আলির বজরার সঙ্গে ধাক্কা লেগে তাদের নৌকা ডুবে যায়। আর তখনই বহিপীর ও তার সঙ্গী পানিতে নাকানি-চুবানি খেয়েছে।
২৯। হাতেম আলি বহিপীরকে সাবধানি লোক বলেছেন কেন?
উত্তর: কঠিন পরিস্থিতিতেও বহিপীরের স্থিরতা দেখে হাশেম আলি তাকে সাবধানি লোক বলেছেন। বহিপীর কৌশলে তাহেরাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান। এজন্য তিনি নানা রকম ফন্দি আঁটেন। কিন্তু কোনো ফন্দি-ফিকিরেই যখন কাজ হচ্ছিল না তখন বহিপীর উত্তেজিত না হয়ে ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি বুঝে কাজ করছিলেন। হাশেম আলি বহিপীরের এই কর্মকাণ্ড দেখে তাকে সাবধানি লোক বলেছেন।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা)
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
কবীর