তৃতীয় অধ্যায়: পদার্থের গঠন
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: একটি পরমাণুতে কোথায় কোথায় ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন থাকে তা চিত্র এঁকে দেখাও।
উত্তর: একটি পরমাণুতে ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন কীভাবে বিন্যস্ত থাকে তা নিচে দেখানো হলো-
চিত্র: একটি পরমাণুর গঠন
প্রশ্ন: নাইট্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৭। একটি নাইট্রোজেন পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস এঁকে দেখাও।
উত্তর: নাইট্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৭। এর ইলেকট্রন বিন্যাস ২, ৫। নাইট্রোজেন পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ-
প্রশ্ন: পরমাণুর কোন কোন অংশে প্রোটন, নিউট্রন এবং ইলেকট্রন থাকে?
উত্তর: পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকে প্রোটন ও নিউট্রন। আর ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে চারদিকে ঘুরতে থাকে। ইলেকট্রন ঋণাত্মক চার্জযুক্ত, প্রোটন ধনাত্মক ও নিউট্রন চার্জ নিরপেক্ষ কণা। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যেক পরমাণুতে সমান সংখ্যক ইলেকট্রন ও প্রোটন থাকায় পরমাণু চার্জ নিরপেক্ষ হয়।
প্রশ্ন: পরমাণু কি অবিভাজ্য?
উত্তর: রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুগুলো অবিভাজ্য হিসেবেই থাকে অর্থাৎ পরমাণুকে ভাঙা যায় না। তবে বর্তমানে বিশেষ উপায়ে পরমাণুকে ভেঙে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রনসহ আরও কয়েকটি মৌলিক কণা পাওয়া গেছে।
প্রশ্ন: পারমাণবিক সংখ্যাকে মৌলের পরিচয় বলা হয় কেন?
উত্তর: পারমাণবিক সংখ্যা হলো, একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা যা ওই মৌলের পরমাণুতে বিদ্যমান প্রোটনের সংখ্যা। এটি ওই মৌলের নিজস্ব ও স্বতন্ত্র ধর্ম, যা অন্য কোনো মৌলের থাকে না বলেই একে মৌলের পরিচয় বলা হয়।
মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা পরিবর্তিত হলে মৌলের মূল ধর্মের পরিবর্তন হয়। ফলে ওই মৌলের পরমাণু নতুন ধর্মবিশিষ্ট অন্য একটি মৌলের পরমাণুতে পরিণত হয়। অর্থাৎ দুটি বিভিন্ন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা কখনো সমান হয় না। এজন্য পারমাণবিক সংখ্যাকে মৌলের পরিচয় বলা হয়।
প্রশ্ন: ভরসংখ্যা সব সময় একটি পূর্ণ সংখ্যা হয় কেন?
উত্তর: আমরা জানি, ভরসংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা। পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যস্থ প্রোটন এবং নিউট্রন অবিভাজ্য। কাজেই পরমাণুর মধ্যে প্রোটন ও নিউট্রনের সমষ্টি কখনো ভগ্নাংশ হতে পারে না। এরা সব সময় পূর্ণ সংখ্যায় নিউক্লিয়াসে বর্তমান থাকে। একটি প্রোটনের ভরসংখ্যা ১ এবং একটি নিউট্রনের ভর একটি প্রোটনের ভরের প্রায় সমান। এ কারণে ভর সংখ্যা কখনো ভগ্নাংশ হয় না, সর্বদা পূর্ণ সংখ্যা হয়।
প্রশ্ন: পরমাণুতে আইসোটোপের উৎপত্তি হয় কেন?
উত্তর: কোনো মৌলের বিভিন্ন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে একই সংখ্যক প্রোটনের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যক নিউট্রন থাকার জন্য পরমাণুগুলোর ভর ভিন্ন হয়। ফলে আইসোটোপের উৎপত্তি হয়। মৌলের আইসোটোপগুলোয় পারমাণবিক সংখ্যা অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা বিভিন্ন হয়।
প্রশ্ন: ভর সংখ্যা এবং পারমাণবিক সংখ্যার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করো।
উত্তর: আমরা জানি,
ভরসংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা
যেহেতু, প্রোটন সংখ্যা = পারমাণবিক সংখ্যা
সুতরাং ভরসংখ্যা = পারমাণবিক সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা
অতএব, পারমাণবিক সংখ্যা = ভরসংখ্যা - নিউট্রন সংখ্যা
এটাই ভর সংখ্যা এবং পারমাণবিক সংখ্যার মধ্যে সম্পর্ক।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
কবীর