প্রথম অধ্যায় : মৌলিক মানবিক চাহিদা
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: চিত্তবিনোদনকে কেন মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়?
উত্তর: চিত্তবিনোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চাহিদা। আদিকাল থেকেই মানুষ সব বয়সে এবং সব সময় চিত্তবিনোদনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানুষের শরীরে শক্তির জন্য যেমন খাদ্য প্রয়োজন, তেমনি মনের প্রশান্তির জন্য প্রয়োজন হয় চিত্তবিনোদনের। বিনোদন মানুষের চিত্তকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখে। তাই চিত্তবিনোদনকে মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়।
প্রশ্ন: শিক্ষাকে কেন মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়?
উত্তর: মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ নির্ভর করে শিক্ষার ওপর। শিক্ষা ছাড়া কোনো মানুষ বা জাতি উন্নতি করতে পারে না। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি উন্নত। ব্যক্তির দেহ, মন ও আত্মার বিকাশ সাধনের পূর্বশর্ত হলো শিক্ষা। তাই শিক্ষাকে মৌল মানবিক চাহিদার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি অন্য সব চাহিদা পূরণের মূল চাবিকাঠি।
প্রশ্ন: বস্ত্রকে কেন মানবিক চাহিদা বলা হয়?
উত্তর: মানবজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা হলো বস্ত্র। এ চাহিদা পূরণ ছাড়া কোনো মানুষ সমাজে বসবাস করতে পারে না। বস্ত্র ছাড়া মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। বস্ত্র একদিকে যেমন লজ্জা নিবারণ করে অন্যদিকে শীত, তাপ ও রোগ থেকেও রক্ষা করে। তাছাড়া মানবসভ্যতার ধারক ও বাহক হিসেবে বস্ত্রের প্রয়োগ শুধু অপরিহার্য নয় বরং মানুষের ব্যক্তিত্ব এবং চরিত্র বিকাশেও বস্ত্রের গুরুত্ব সমধিক। দৈহিক, সামাজিক, ধর্মীয় প্রভৃতি সব দিক থেকেই বস্ত্রের আবশ্যকতা অনস্বীকার্য। যে কারণে বস্ত্রকে মানবিক চাহিদা বলা হয়।
প্রশ্ন: মৌল মানবিক চাহিদা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: একজন মানুষকে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য যেসব চাহিদা পূরণ করতে হয় সেসব চাহিদাকে মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায়, একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার জন্য যেসব চাহিদা পূরণ করতে হয় সেসব চাহিদাকে মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়। এ চাহিদাগুলো পূরণ ছাড়া পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। যেমন-খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ‘মৌল মানবিক চাহিদার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শান্তি ও স্থিতিশীলতা।’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মৌল মানবিক চাহিদার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শান্তি ও স্থিতিশীলতা। সামাজিক জীব হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে বহুমুখী চাহিদা পূরণ করতে হয়। প্রয়োজনগুলো যথাযথভাবে পূরণ না হলে, সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়। এজন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গৃহায়ন ও চিত্তবিনোদনসহ সব ধরনের মানবসেবা কার্যক্রম প্রত্যক্ষভাবে মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বাস্তবায়ন করা হয়। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, মৌল মানবিক চাহিদার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
প্রশ্ন: ‘খাদ্য মানুষের প্রধান মৌলিক চাহিদা’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মানুষের প্রধান চাহিদা হচ্ছে খাদ্য। আমাদের জীবনের প্রথম প্রয়োজনই হলো খাদ্য। শুধু মানুষ নয়, পতঙ্গ, প্রাণী উদ্ভিদসহ সবাই তাদের জীবনের প্রায় পুরো সময় ব্যয় করে খাদ্য সংগ্রহ ও গ্রহণের কাজে। দেহের বৃদ্ধি সাধন, ক্ষয়পূরণ, রোগপ্রতিরোধ, তাপ ও শক্তি উৎপাদন ইত্যাদিতে প্রত্যেকেরই প্রয়োজন পুষ্টিকর খাদ্য ও পানীয়ের। দৈহিক বৃদ্ধিই কেবল নয়, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশেও খাদ্য মানুষকে সক্ষম করে তোলে। খাদ্যের চাহিদা মানুষের সবচেয়ে তীব্র। এ চাহিদা পূরণের জন্য মানুষ বিভিন্ন ধরনের পন্থা অবলম্বন করে থাকে।
লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
কবীর