গত ৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ায় আচমকা সামরিক আইন জারির ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়োন-সুক-ইয়োল। এই ঘটনার জেরে তাকে অভিশংসিত করেছিল দেশটির পার্লামেন্ট। ইয়োনের ওপ্র খড়গ তাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সামরিক আইন জারির চেষ্টার অপরাধের তদন্তের জন্য তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
অভিশংসিত হলেও এখনো প্রেসিডেন্ট প্যালেসেও থাকছেন ইয়োন। সেখানে তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাদের সহায়তায় প্রথম দফায় গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হয়েছিলেন ইয়োন। এ ছাড়া সেবার ইয়োনের বাসভবনের সামনে হাজির হয়েছিলেন হাজারও সমর্থক। প্রথমবারের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর এবার আরও বড় আকারে চৌকস পুলিশ নিয়োজিত করে ইয়োনকে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। দেশটির দুর্নীতি তদন্তবিষয়ক কার্যালয় জানিয়েছে, ইয়োনকে গ্রেপ্তারে দ্বিতীয় প্রচেষ্টার জন্য সংস্থাটি ‘সর্বতোভাবে প্রস্তুত’। তারা দেশটির নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, এবারের প্রচেষ্টায় যে বা যারাই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।
এদিকে গতকাল শনিবার দেশটির রাজধানী সিউলের প্রধান সড়কগুলোতে শূন্য ডিগ্রি তাপমাত্রা উপেক্ষা করে ইয়োনের সমর্থক এবং বিরোধীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের একাংশ ইয়োনের গ্রেপ্তার দাবি করছে। আরেক অংশ তার অভিশংসন বাতিল করি প্রেসিডেন্ট পদে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেন ইয়োনের নিরাপত্তা প্রধান পার্ক-চং-জুন। সাবেক প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তারচেষ্টা প্রতিরোধের দায়ে তদন্তের আওতায় আসার পর নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পার্ক সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে সাবেক প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তারের চেষ্টাকালে অবশ্যই সব ধরনের সহিংসতা এড়াতে হবে। তিনি বলেন, পরবর্তী সময় গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টার সময় কোনো অবস্থাতেই শারীরিক সংঘর্ষ বা রক্তপাত হওয়া উচিত নয়। সূত্র: আল-জাজিরা