সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা দেশটির সাংবিধানিক ঘোষণাপত্রের খসড়া তৈরির জন্য একটি সাত সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই খসড়া দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনার পন্থা নির্ধারণ করবে।
এর আগে এই সরকার পরিচালনার জন্য আল-শারাকে একটি অস্থায়ী আইন পরিষদ গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। নতুন একটি সংবিধান গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমানে এই আইন পরিষদ দায়িত্ব পালন করছে।
সোমবার( ৩ মার্চ) বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেখানে একজন নারীও আছেন। আর এই কমিটির দায়িত্ব হবে সাংবিধানিক ঘোষণাপত্রের খসড়া প্রস্তুত করা।’
গত জানুয়ারির শেষ দিকে আহমদ আল-শারাকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর আসাদ সরকারের সংবিধান বাতিল করা হয়। এ ছাড়া আল-শারা জানান, নতুন সংবিধান প্রণয়নে তিন বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
তবে জানুয়ারির শেষ দিকে আল-শারা একটি ‘সাংবিধানিক ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেন, যা অন্তর্বর্তী সময়ে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘আইনি ভিত্তি’ হিসেবে কাজ করবে।
নতুন কমিটি ঘোষণার বিবৃতি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে আরও জানানো হয়, সিরিয়ার জনগণের আইনের শাসনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা এবং সিরিয়ার জাতীয় সংলাপ সম্মেলনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এই সংবিধানবিষয়ক কমিটিতে আছেন, তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ও সংবিধানিক আইনে ডক্টরেট ডিগ্রি নেওয়া আবদুল হামিদ আল-আওয়াক, দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন ইয়াসির আল-হুয়াইশ, আন্তর্জাতিক আইনে বিশেষজ্ঞ ও আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন ইসমাইল আল-খালফান, ইদলিব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক আইনে ডক্টরেট ডিগ্রি নেওয়া মোহাম্মদ রেদা জলখি।
কমিটির একমাত্র নারী সদস্য বাহিয়া মারদিনি। পেশায় সাংবাদিক এই নারী আইনে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী।
এদিকে গত সপ্তাহের সংলাপ সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘একটি সাংবিধানিক কমিটি গঠন করা হবে, যা দেশের জন্য একটি স্থায়ী সংবিধানের খসড়া প্রস্তুত করবে। নতুন সংবিধান ক্ষমতার ভারসাম্য, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও সাম্যের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আইন ও প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র গঠিত হবে।’
২০১১ সালে তিউনিসিয়া থেকে সূত্রপাত হওয়া আরব বসন্তের সময় সিরিয়াতে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পরে। যা পরবর্তীতে সহিংসতার সৃষ্টি করে এবং দেশটির শাসনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে। গৃহযুদ্ধের ফলে দেশটি ব্যাপক মানবিক সংকটের শিকার হয়। এরপর হায়াত তাহরির আল-শামের নেতৃত্বে আকস্মিক আক্রমণে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। সূত্র: এপি
দিনা/তাওফিক/