ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার টানা ১২ দিনের সংঘাতের অবসান ঘটেছে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ ও কাতারের মধ্যস্থতায় এটা কার্যকর হয়। তবে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন থামেনি। এই প্রেক্ষাপটে গাজাতেও যুদ্ধবিরতির দাবি তুলেছে ইসরায়েলের বিরোধী দল, বন্দিদের পরিবার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। আর ওই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার গাজা নিয়ে সরব হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে।
বুধবার (২৫ জুন) টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নেদারল্যান্ডসে ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ হামলার কারণে আমরা খুব শিগগিরই কিছু ভালো খবর পাব। তিনি আরও বলেন, গাজায় শিগগিরই ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ফাঁস হওয়া গোয়েন্দা তথ্য প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। ওই গোয়েন্দা তথ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে মাত্র কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ট্রাম্প বলেন, তারা আসলে কিছুই জানে না।
ট্রাম্প দাবি করেন, এ হামলায় ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়েছে এবং এটি ছিল একটি বিধ্বংসী আক্রমণ। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের ফলে তেহরান যুদ্ধবিরতির জন্য বাধ্য হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ইরানের প্রয়োজনীয় সুবিধা ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ওই পাহাড়ের নিচের সবকিছু খারাপ অবস্থায় রয়েছে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এখন আগের তুলনায় ‘অনেক পিছিয়ে’ গেছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবি খোদ ইসরায়েলিদের
ইসরায়েলের মধ্য-বাম ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা ইয়াইর গোলান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে বলেন, “এখনই সময় মিশন সম্পূর্ণ করার। সব বন্দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে, গাজায় যুদ্ধের ইতি টানতে হবে এবং সেই অভ্যুত্থান একেবারে বন্ধ করতে হবে, যা ইসরায়েলকে দুর্বল ও বিভক্ত করে ফেলছে।”
বিরোধীদলীয় নেতা ও ইয়েশ আতিদ পার্টির প্রধান ইয়াইর লাপিদও একই দাবি জানিয়ে বলেন, “এখন গাজার পালা। বন্দিদের ফিরিয়ে আনতে হবে, যুদ্ধ থামিয়ে ইসরায়েলকে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে হবে।”
ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিবারগুলোর সংগঠন ‘হোস্টেজেস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিজ ফোরাম’ও গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে ফোরামের নেতারা বলেছেন, “যারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে পারে, তারা চাইলে গাজার যুদ্ধও থামাতে পারে। গাজাকেও এই আলোচনার আওতায় আনতে হবে।” তারা আরও বলেছেন, “যুদ্ধবিরতির সুযোগে যদি গাজায় আটক বন্দিদের ফিরিয়ে আনতে না পারা যায়, তাহলে তা হবে এক ভয়াবহ কূটনৈতিক ব্যর্থতা।”
সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, “ইরানে সফল অভিযান শেষে যদি আবার গাজার কর্দমাক্ত পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ে ইসরায়েল, তা হবে চরম অবিবেচনাপ্রসূত এবং দেশের স্বার্থবিরোধী।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজার শাসকগোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে আনে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনকে মুক্তি দেওয়া হলেও এখনো প্রায় ৫০ জন হামাসের হাতে বন্দি রয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজায় ইসরায়েলের টানা আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। সূত্র: আল-জাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল