ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সমতায় বিশ্বকাপ মিশন শুরু ব্রাজিলের স্বপ্নের জাদুকর মুসিয়ালা পথপ্রদর্শক বাকুনা ভিনিসিয়ুসের গোলে সমতায় ফিরল ব্রাজিল পরাশক্তি জার্মানির সামনে পুঁচকে কুরাসাও ডার্কহর্স জাপান, সতর্ক নেদারল্যান্ডস ব্রাজিলের শুরুর একাদশে চমক অতিরিক্ত সময়ের গোলে সুইসদের রুখে দিয়ে কাতারের বাজিমাত ৯২ বছর ধরে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হারেনি ব্রাজিল নেইমারকে ছাড়াই নামছে ব্রাজিল, ভাঙছে ৪০ বছরের ঐতিহ্য পেনাল্টিতে এমবোলোর গোল, এগিয়ে সুইজারল্যান্ড ফিটনেস প্রশ্নে রোনালদো, ‘আমাকে খেলতে দেখেননি?’ ‘জাপানি মেসি’র সঙ্গী উয়েদা এমবাপ্পের সমালোচনা ‘অতিরিক্ত ও অন্যায়’ দেড় দশকের জ্বালানিনীতি ছিল আমদানিনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের অনুশীলন মাঠের পাশে মরদেহ উদ্ধার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ ইমার্জিংদের ঝিলিকের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার স্বামী রক্তদান মহৎ কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা?
Nagad desktop

হরমুজের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
হরমুজের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?
হরমুজ প্রণালী

প্রায় দুই মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শেষে হরমুজ প্রণালী খুলে দিলেও কাটেনি বিশ্ব উত্তেজনা। ইরানের পদক্ষেপের বিপরীতে ট্রাম্পের অনড় অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যে চীনের উপস্থিতি নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির মেয়াদ ও ইরানের পুনর্গঠনে চীনের ভূমিকাই এখন মূল নির্ধারকের ভূমিকা পালন করছে। এই দুই শক্তির সিদ্ধান্ত একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। তবে দীর্ঘমেয়াদি নৌ-সংকট তৈরি হলে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের কাঠামো পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।

নিকট ভবিষ্যতে একটি অলিখিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অবকাঠামো দুর্বল হলেও শাসনব্যবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে প্রতিবেশীদের জন্য ইরান এখনো হুমকি। চীন বিষয়টি দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করছে। তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করলেও বেইজিং সরাসরি কোনো সামরিক জোটে যাচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালীর সংকট নিয়ন্ত্রণে থাকলে বর্তমান ব্যবস্থাটি টিকে থাকবে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা অংশীদারত্ব আরও বাড়বে। জ্বালানিসংকট তৈরি হলেও তা হবে সীমিত। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সামান্য ক্ষতি হতে পারে। তবে চীন পরোক্ষভাবে লাভবান হবে। কারণ তাদের কৌশলগত অংশীদার ইরান বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়ে টিকে গেছে।

হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নেবে। ইরান জাহাজ চলাচল থেকে মাশুল আদায় বা মাইন বসিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে। এতে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া তীব্র জ্বালানিসংকটে পড়বে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা নিয়ে দেশ দুটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হবে। ইউরোপের গ্যাসের বাজারেও চাপ বাড়বে। দ্রুত সমাধান না হলে পশ্চিমা জোটের সংহতি ভেঙে পড়বে। চীনের প্রভাব ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে।

বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে চীন মনে করতে পারে, ওয়াশিংটন বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে অক্ষম। এমন অবস্থায় ইরানের প্রতি বেইজিংয়ের সমর্থন কেবল অর্থনৈতিক সুবিধায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। চীন তেহরানকে রসদ, গোয়েন্দা তথ্য ও কূটনৈতিক সুরক্ষা দিয়ে সাহায্য করবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাহিনী চাপে পড়বে। চীন-রাশিয়া-ইরান জোট আরও শক্তিশালী হবে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় হওয়া ক্ষতি কাটিয়ে ইরান দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে।

ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত রাখে, তবে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো তখন জোটের চেয়ে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেবে। এতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। তাইপে থেকে ভিলনিয়াস- সব পক্ষের কাছেই যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ফলে বড় ঝুঁকি এড়াতে মিত্ররা পিছু হটলে মার্কিন জোটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বর্তমান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগে বিরতি আসতে পারে। আলোচনা ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন অমীমাংসিত ফলাফল মেনে নেবে অথবা চূড়ান্ত অভিযানে নামবে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সর্বাত্মক অভিযানের পথ বেছে নিতে পারে। লক্ষ্য হলো ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক ধ্বংস, পারমাণবিক সরঞ্জাম জব্দ ও উপকূল শত্রুমুক্ত করে শাসনব্যবস্থার পতন বা আত্মসমর্পণ নিশ্চিত করা।

চীন নিষ্ক্রিয় থাকলে এবং সামরিক অভিযানে নৌপথ উন্মুক্ত হলে ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে যাবে। এতে বেইজিং তার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারকে হারাবে। ওয়াশিংটনের আধিপত্য পুনরুদ্ধার হবে। এতে আঞ্চলিক শক্তিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একাত্ম হবে। তবে তাইওয়ানের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রধান অস্ত্রগুলো প্রতিস্থাপন করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

চূড়ান্ত অভিযানের মাধ্যমে হুমকি মোকাবিলার জন্য সময়ের প্রয়োজন। যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালির নৌপথ দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। তবে অভিযানের লক্ষ্য সফল হলে মিত্ররা সেই ব্যয় মেনে নেবে। সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও চীন দীর্ঘ মেয়াদে তার সামরিক আধুনিকীকরণ দ্রুত করবে। যুক্তরাষ্ট্র বিজয়ী হলেও অন্যান্য রণাঙ্গনে তাদের যুদ্ধের আয়োজন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চতুর্থ পরিস্থিতিটি সবচেয়ে বিপজ্জনক। যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত সামরিক পদক্ষেপ নিলে চীন নিষ্ক্রিয় না থেকে পরোক্ষভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে। বেইজিংয়ের তখন ইরানকে উন্নত গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও রসদ দিয়ে সাহায্য করার সম্ভাবনা আছে। সঙ্গে তাইওয়ান প্রণালী ও দক্ষিণ চীন সাগরেও চাপ বাড়াতে পারে চীন। সেটা ঘটলে ওয়াশিংটন স্নায়ুযুদ্ধ যুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে বড় দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নৌপথ সচল করতে পারলে চীনের হস্তক্ষেপ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তবে এতে দুই দেশের কৌশলগত প্রতিযোগিতা প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নেবে। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক তখন নিয়ন্ত্রিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছেড়ে স্নায়ুযুদ্ধের মতো উত্তপ্ত হয়ে উঠবে।

চীন ইরানকে সমর্থন দেওয়ায় হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। ইউক্রেন ও তাইওয়ানের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় তৃতীয় ফ্রন্ট তৈরি হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানিসংকট বিশ্বজুড়ে মন্দা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা নিয়ে দুই শক্তির সংঘাত বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। মস্কো, তেহরান, বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সহযোগিতা তখন একটি শক্তিশালী জোটে রূপ নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিজয় ঘটলেও তা হবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক পরিবেশে দেশটি একা হয়ে পড়বে।

হরমুজ প্রণালীর সংকটের স্থায়িত্বই বলে দেবে এই সংঘাত আঞ্চলিক থাকবে নাকি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতিতে এই নৌপথের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বল্পমেয়াদি সংকট সামাল দেওয়া গেলেও দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা বাজার ও আন্তর্জাতিক জোটগুলোকে এমনভাবে বদলে দেবে, যার প্রভাব সামরিক ফলাফলের চেয়েও বেশি হবে।

বেইজিং এখন সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। দুর্বল ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে তারা আপাতত সন্তুষ্ট। তবে মার্কিন বাহিনী বেশি দূর এগিয়েছে মনে করলে তারা নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র জোটের সংহতি নষ্ট করাই প্রতিপক্ষদের প্রধান লক্ষ্য। 

নিকট ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পথ হলো একটি অস্বস্তিকর ও অমীমাংসিত পরিস্থিতির মধ্যে থাকা। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ থাকবে সীমিত। চীন নিষ্ক্রিয় থেকে কেবল সুযোগ খুঁজবে। হরমুজ প্রণালি কাগজে-কলমে উন্মুক্ত থাকলেও বাস্তবে থাকবে বিতর্কিত। কোনো পক্ষই তাদের মূল লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক অবস্থান নিয়ে আবার বা বারবার সংঘাত বেধে যেতে পারে। 

ইতিহাস বলে, বড় সংঘাতের এমন অমীমাংসিত সমাপ্তি কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আলোচনা ব্যর্থ হলে এবং যুদ্ধ বজায় রাখার অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়লে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে হলে ট্রাম্পকে তার সামরিক সাফল্যকে সঠিক রাজনৈতিক কৌশলে রূপ দিতে হবে। এই কাজটি হামলা চালানোর চেয়েও কঠিন। রণক্ষেত্রের লড়াই আপাতত থামলেও বড় শক্তিগুলোর স্নায়ুযুদ্ধ থামেনি। এই মুহূর্তটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
 
আটলান্টিক কাউন্সিলের নিবন্ধ অবলম্বনে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন এম আর লিটন

ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ
ধীরাজ শেঠ। ছবি: সংগৃহীত

ভারত সরকার বর্তমান ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেশটির পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) এ নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেনাবাহিনীর সহপ্রধান (ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) এ খবর জানিয়েছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির সাবেক শিক্ষার্থী। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে তিনি সাঁজোয়া বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন। প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে তিনি অপারেশন, কৌশলগত পরিকল্পনা, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি রয়েছে তার।

সামরিক জীবনে বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন ধীরজ শেঠ। তার কমান্ড দায়িত্বের মধ্যে ছিল মরু অঞ্চলে একটি সাঁজোয়া রেজিমেন্ট, পশ্চিমাঞ্চলে একটি সাঁজোয়া ব্রিগেড এবং জম্মু ও কাশ্মিরে একটি সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর নেতৃত্ব।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান স্ট্রাইক ফরমেশন সুদর্শন চক্র কোরের নেতৃত্ব দেন। পরে দিল্লি এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সামরিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব তদারকি করেন।

আর্মি কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতির পর ধীরাজ শেঠ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের দায়িত্ব পালন করেন। এর মাধ্যমে দুইটি অপারেশনাল আর্মি কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অঞ্চলে কৌশলগত তদারকির দায়িত্বও পালন করেন।

সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। বিভিন্ন কোর্সে শীর্ষস্থান অর্জনের পাশাপাশি তিনি হায়ার কমান্ড কোর্স ও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের স্নাতক। এছাড়া প্যারিসের মর্যাদাপূর্ণ কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্সেও অংশ নিয়েছিলেন ধীরাজ শেঠ।

এসএন/

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন আগামী ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

শনিবার (১৩ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ তথ্য প্রকাশ করেন।

আলি খামেনি প্রায় ৩৭ বছর দেশ শাসন করেছেন এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় নিহত হন। 

জানা গেছে, তার জন্মস্থান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে। শুরুতে মার্চ মাসে দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধের কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে তিন দিনের জানাজা ও শোকানুষ্ঠান শুরু হবে এবং ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোমে আরেকটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় শোকানুষ্ঠানের প্রথম দিন ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গেও মিলে যাচ্ছে, যা এ বছর ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করবে।

খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি মার্চের শুরুতে তার উত্তরসূরি হিসেবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিযুক্ত হন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দেশটির তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা।

বাবাকে হত্যার যে হামলায় বহু কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন, সেই হামলায় আহত হয়েছিলেন মোজতবা খামেনিও। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি এবং তার নামে প্রকাশিত বিবৃতির মাধ্যমেই যোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে। সূত্র: এনডিটিবি

রিফাত/

২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তিচুক্তির কাঠামোতে (ফ্রেমওয়ার্ক) পৌঁছেছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

শনিবার (১৩ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেহবাজ শরিফ জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মাসব্যাপী সংঘাতের অবসান ঘটাতে দুই দেশ একটি শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত খসড়ায় সম্মত হয়েছে। বর্তমানে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের পর আগামী সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।’

পাকিস্তান এই পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিফাত/

যুদ্ধবিরতির মাঝেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত ১

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
যুদ্ধবিরতির মাঝেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত ১
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত ‘যুদ্ধবিরতি’ উপেক্ষা করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের আরও ২০টি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ) জানায়, দক্ষিণ লেবাননের টায়ার জেলার মায়রাকেহ পৌরসভা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ওই ব্যক্তি নিহত হন।

শুক্রবার (১২ জুন) দিনভর এবং রাত পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী তথাকথিত হলুদ রেখার (যে অংশটি ইসরায়েল নিয়ন্ত্রণ ও দখল করতে চাইছে) উত্তরের শহর ও গ্রামগুলোতেও অনবরত বিমান হামলা চালায়।

শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা

এই হামলা এমন এক সময়ে চালানো হলো, যার ঠিক আগের দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা করেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তির খসড়ায় সম্মত হয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারীরা চূড়ান্ত চুক্তির জন্য কাজ করছেন।

ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, এই প্রাথমিক চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ অবসানের কথা বলা হয়েছে।

তবে চলমান আলোচনা ও চুক্তির মাঝে ইসরায়েলের এই আগ্রাসন নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই আলোচনায় ইসরায়েল কোনো পক্ষ নয়।

তাছাড়া, ইসরায়েলি নেতারা ইতোমধ্যেই সাফ জানিয়ে দেন, লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

অন্যদিকে, চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েল ও লেবাননের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও মাঠপর্যায়ে লড়াই থামেনি। আগামী ২২ জুন দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী দফায় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

তামান্না রুপা/অমিয়/

আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত
সংগৃহীত

ভারতের আসামের জোরহাটের বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি এএন-৩২ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট নয়।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে এএন-৩২ বিমানটি অবতরণের সময় বিমানঘাঁটির সীমানার ভেতরে বিধ্বস্ত হয়ে আগুন লাগে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে জরুরি পরিসেবা দলগুলোকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

ভারতীয় বিমানবাহিনী ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর আরও তথ্য জানানো হবে।

এএন-৩২ বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিমানবাহিনী।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, জোরহাটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত। আমরা আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছি।

আন্তোনভ এএন-৩২ একটি মজবুত, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ সামরিক পরিবহন বিমান, যা ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান পরিবহন বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নে নির্মিত এ মডেলের প্রায় ১০০টি বিমান রয়েছে।

এএন-৩২ বিমানটি চরম প্রতিকূল পরিবেশে কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য নকশা করা হয়েছে। এটি বেশি উচ্চতার বিমানঘাঁটি ও উষ্ণ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ুতেও পরিচালনা করা যায়। বিমানটি ৭ দশমিক ৫ টন পর্যন্ত মালামাল, ৫০ জন যাত্রী অথবা ৪২ জন প্যারাট্রুপার পরিবহন করতে সক্ষম এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে রসদ সরবরাহের কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

আসামের কার্বি আংলং জেলায় একটি সুখোই এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর দুই পাইলট নিহত হওয়ার কয়েক মাস পরই এই দুর্ঘটনা ঘটল। সূত্র: এনডিটিভি

আমান/অমিয়/