ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
স্পেসএক্সের শেয়ার যেভাবে কিনবেন, ঝুঁকি কী ময়মনসিংহে ডিসি অফিসে বিএনপির বর্তমান ও বহিষ্কৃত নেতার হাতাহাতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র হাত ও পায়ের গঠন কেমন ছিল? ঈশ্বরদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ২ চুরি, সিস্টেম লস ও ভর্তুকিতে ঘুরপাক পঞ্চগড়ে ব্যর্থ হয়ে চার দিন পর ১০ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ রামিসা হত্যা মামলার রায় যেভাবে কার্যকর হবে রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা মুক্তাগাছায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু পটুয়াখালীতে জলোচ্ছ্বাস ঠেকানো সবুজ দেয়াল বিলীন! আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর চলচ্চিত্র 'সাঁকোটা দুলছে' বিএনপির ১৩ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগ -যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২১ পুশইন ব্যর্থ, দুদিন পর হরিপুর সীমান্ত থেকে ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিল বিএসএফ বিশ্ব সমুদ্র দিবস আজ ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াল এনবিআর ময়মনসিংহে ধসে পড়া বেইলি ব্রিজটি ১০ বছর ধরে ছিল ঝুঁকিপূর্ণ সাদুল্লাপুরে কাভার্ডভ্যানে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১ লেবানন থেকে ড্রোন হামলায় ফিরল দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ মতিঝিলে ব্যাংকের সামনে দিনদুপুরে ব্যবসায়ীকে গুলি করে দুর্ধর্ষ ছিনতাই বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক কালজানি ও দুধকুমারের কালো রূপ: বর্ষার আগেই নদীগর্ভে শতাধিক বাড়ি চাকরি না পেয়ে ইউটিউব দেখে আম চাষ, লক্ষাধিক টাকা আয় মিত্রদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ইরানের সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত সন্তানের বাবা-মায়ের শেষ ঠিকানা কেন বৃদ্ধাশ্রম? সৌরবিদ্যুৎ খাতে বাড়তি কর চাপানো ঠিক হবে না ‘ঢলন’ প্রথায় শতকোটি টাকা হারাচ্ছেন রাজশাহীর আমচাষিরা ককরোচ পার্টির আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি, সরকারকে আলটিমেটাম হাসপাতালে ভর্তি সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
Nagad desktop

ইরানি ড্রোন রুখতে ইউক্রেনীয় প্রযুক্তির দ্বারস্থ যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
ইরানি ড্রোন রুখতে ইউক্রেনীয় প্রযুক্তির দ্বারস্থ যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় নিজস্ব প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে ইউক্রেনের দ্বারস্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরবে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন বিমানঘাঁটি ‘প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস’-এর সুরক্ষায় সম্প্রতি ইউক্রেনীয় কাউন্টার ড্রোন প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

সূত্রমতে, গত কয়েক সপ্তাহে প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে ইউক্রেনীয় কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল প্ল্যাটফর্ম ‘স্কাই ম্যাপ’ মোতায়েন করা হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে চার বছরের যুদ্ধে ড্রোন ও ড্রোনবিধ্বংসী প্রযুক্তিতে ইউক্রেন যে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে, এই পদক্ষেপ তারই স্বীকৃতি। মূলত ইরানি প্রযুক্তিতে তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন শনাক্ত এবং তা ধ্বংস করতে ‘ইন্টারসেপ্টর ড্রোন’ পরিচালনার কাজে এই সফটওয়্যারটি ব্যবহৃত হয়। ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তারা এরই মধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছে মার্কিন সেনাদের এই প্রযুক্তি পরিচালনার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

ইরান থেকে মাত্র ৬৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মার্কিন ঘাঁটিটি সাম্প্রতিক যুদ্ধের শুরু থেকেই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে রয়েছে। গত ২৭ মার্চ এক হামলায় বিমানবাহিনীর একটি মূল্যবান ‘ই-থ্রি সেন্টি’ রাডার বিমান ধ্বংস হয়। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাড-এর রাডার সিস্টেমও হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার যে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা ছিল, এ ঘটনা তা আবারও সামনে এনেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক হাডসন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো টিমোথি ওয়ালটন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ফাঁকগুলো দীর্ঘদিনের পরিচিত সমস্যা। কিন্তু এটি ঠিকভাবে সমাধান করা হয়নি।’

মজার ব্যাপার হলো, গত মার্চ মাসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতিরক্ষা সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তখন ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ড্রোন প্রতিরক্ষায় আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন নেই।’ তবে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। যদিও হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ইউক্রেনীয় কোম্পানি ‘স্কাই ফোর্টেস’ এবং জেলেনস্কির কার্যালয়ও মুখ খোলেনি।

স্কাই ম্যাপ মূলত একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড, যা রাডার ও সেন্সর থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ম্যাপ ও ভিডিও ফিডের মাধ্যমে হুমকি শনাক্ত করে। ২০২২ সালে ইউক্রেনের সামরিক উদ্ভাবন ইউনিট ‘ব্রেভ-ওয়ান’-এর সহায়তায় এটি তৈরি হয়। ইউক্রেনজুড়ে প্রায় ১০ হাজার শব্দ তরঙ্গ শনাক্তকারী সেন্সর ব্যবহার করে তারা রাশিয়ার ড্রোন হামলা রুখে দিচ্ছে।

প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে বর্তমানে ইউক্রেনীয় প্রযুক্তির পাশাপাশি গুগল-এর সাবেক সিইও এরিক শ্মিডট-এর বিনিয়োগ করা ‘মেরোপস’ ইন্টারসেপ্টর ড্রোনও ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের শুরুতে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটিও দেখা দিচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে একটি পরীক্ষার সময় একটি মার্কিন ইন্টারসেপ্টর ড্রোন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘাঁটির একটি টয়লেট ব্লকে আছড়ে পড়ে।

পেন্টাগনের কাউন্টার ড্রোন ইউনিট জেআইএটিএফ-৪০১-এর মুখপাত্র অ্যাডাম শের জানিয়েছেন, ড্রোন হামলা রুখতে তারা ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এমন কোনো জাদুকরী অস্ত্র নেই, যা দিয়ে শতভাগ ড্রোন হামলা থামানো সম্ভব।’ বর্তমানে এই ঘাঁটিতে নর্থরপ গ্রুমম্যানের ‘ফ্যাড’ সিস্টেম এবং আরটিএক্স কোম্পানির ‘কোয়োট’ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ইউক্রেনীয় ‘স্কাই ম্যাপ’ এই পুরো প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 সূত্র: রয়টার্স

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক
ইলন মাস্ক

এক ট্রিলিয়ন ডলার মানে ১ লাখ মিলিয়ন ডলার। একজন মানুষের পক্ষে সারা জীবনেও এ পরিমাণ অর্থ খরচ করা প্রায় অসম্ভব। কেউ যদি প্রতি ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার করে দিনের ২৪ ঘণ্টা, বছরের ৩৬৫ দিন ব্যয় করেন, তাহলেও ১ ট্রিলিয়ন ডলার শেষ করতে এক শতাব্দীরও বেশি সময় লাগবে।

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হতে চলেছেন ইলন মাস্ক। মানব ইতিহাসের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড থেকে এত বিপুল ব্যক্তিগত সম্পদের নজির আগে দেখা যায়নি।

টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাস্কের মালিকানাধীন শেয়ার ও স্টক অপশনের মূল্য বর্তমানে প্রায় ২৭৩ বিলিয়ন ডলার। তবে আগামী সপ্তাহে মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) পরিকল্পনামাফিক সম্পন্ন হলে তার সম্পদে আরও প্রায় ৮৪১ বিলিয়ন ডলার যোগ হতে পারে।

স্পেসএক্সের প্রায় অর্ধেক শেয়ারের মালিক মাস্ক, আর কোম্পানিটির মোট মূল্যায়ন ধরা হচ্ছে ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। ফলে টেসলা ও স্পেসএক্স–এ দুই কোম্পানি থেকেই মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ডলার।

তবে আকাশছোঁয়া সম্পদ মূলত ‘কাগুজে সম্পদ’। এটি কোনো ব্যাংকে জমা থাকা নগদ অর্থ নয়। টেসলা ও স্পেসএক্সের বাজারমূল্য ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীরা কীভাবে মূল্যায়ন করেন, তার ওপরই এই সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ভর করবে।

এ বিপুল সম্পদের পরিমাণ বোঝাতে নিচে ছয়টি উদাহরণ দেওয়া হলো, যেগুলোর মূল্য শিগগিরই ইলন মাস্কের সম্পদের চেয়েও কম হতে পারে।

অধিকাংশ দেশের অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে মাত্র ২০টি দেশের অর্থনীতির আকার ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। অর্থাৎ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পুরো অর্থনীতির মূল্যও ইলন মাস্কের সম্পদের চেয়ে কম।

এ তালিকায় রয়েছে তাইওয়ান (৯৭৭ বিলিয়ন ডলার), আয়ারল্যান্ড (৭৭৯ বিলিয়ন ডলার), সুইডেন (৭৬০ বিলিয়ন ডলার), সিঙ্গাপুর (৬৬০ বিলিয়ন ডলার) ও মাস্কের জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকা (৪৮০ বিলিয়ন ডলার)।

ম্যানহাটনের অর্থনীতি

এত বড় অর্থনীতির উদাহরণ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রে বাইরে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই। ওয়াল স্ট্রিটসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক আর্থিক ও করপোরেট সংস্থার শক্তিকেন্দ্র নিউইয়র্কের ম্যানহাটন দ্বীপ। ২০২৪ সালে অঞ্চলটির জিডিপি ছিল সামান্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি।

হিউস্টনের সব সম্পত্তি

হিউস্টন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম শহর, যার অবস্থান নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসের পরই। মেক্সিকো উপসাগর উপকূলের টেক্সাসে এ শহর দেশটির জ্বালানি তেল ও গ্যাসশিল্পের অন্যতম কেন্দ্র। শহরটির আবাসিক ও বাণিজ্যিক–সব ধরনের সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৮৭৯ বিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরে কেনা সব নতুন গাড়ি

বাড়ির পর গাড়ি ও ট্রাকই অধিকাংশ মার্কিনির সবচেয়ে বড় কেনাকাটা। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি গাড়ির গড় মূল্য ছিল রেকর্ড ৪৮ হাজার ৪০২ ডলার। ওই বছর মার্কিনিরা মোট ১ কোটি ৬৩ লাখ নতুন গাড়ি কিনেছেন, যার সম্মিলিত মূল্য ছিল প্রায় ৭৮৯ বিলিয়ন ডলার।

অন্যান্য প্রযুক্তি খাতের বিলিয়নিয়াররা

অনেক দিন ধরে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় প্রথমে রয়েছেন ইলন মাস্ক। তবে তার সম্পদ শিগগিরই প্রযুক্তি খাতের অন্য ধনকুবেরদের সম্মিলিত সম্পদকে অনেক পেছনে ফেলে দিতে পারে। গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন এবং অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস–এই চারজনের সম্পদ একত্র করলেও মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ দশমিক শূন্য ৯ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ তাদের সম্মিলিত সম্পদও মাস্কের সম্ভাব্য ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের চেয়ে কিছুটা কম। মাস্কের মতো তারাও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারের মাধ্যমেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

বিশ্বের সব পেশাদার স্পোর্টস ক্লাব

স্পোর্টস ক্লাব কেনা ধনকুবেরদের অন্যতম প্রিয় শখ। কিন্তু ১ ট্রিলিয়ন ডলার থাকলে পৃথিবীর প্রায় সব বড় দলই কেনা সম্ভব। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ৫০টি সবচেয়ে মূল্যবান স্পোর্টস টিকের সম্মিলিত মূল্য মাত্র ৩৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

এর মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান দল হলো এনএফএলের ডালাস কাউবয়েজ, যার মূল্য প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। আর তালিকার ৫০তম স্থানে থাকা এনবিএর টরন্টো র‌্যাপপটরসের মূল্য প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার।

মিত্রদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ইরানের সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
মিত্রদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ইরানের সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
তেহরানের রাস্তায় একটি বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে মানুষ হেঁটে যাচ্ছেন –সংগৃহীত

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় দেশগুলোর পুনর্গঠন ও মেরামতের জন্য দেশটির বাজেয়াপ্ত সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করেছে রয়টার্স। কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরই মূলত এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইতোমধ্যে একটি বিশেষ দলকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্রটি গত শনিবার জানায়, ভবিষ্যতে ইরান আর কোনো ধ্বংসযজ্ঞ চালালে তা মেরামতের জন্য এই সম্পদ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।

এর ঠিক এক দিন আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই সিএনএনকে জানিয়েছিলেন, তিন মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ অবসানের মূল শর্ত হলো যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।

থমকে গেছে শান্তি আলোচনা

ট্রেজারি বিভাগ ঠিক কোন ধরনের ইরানি সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, তা সূত্রটি নির্দিষ্ট করে জানায়নি। তবে কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত ভাষা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কেবল আগের ফ্রিজ করা বা অবরুদ্ধ সম্পদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

সম্পদ স্থানান্তরের এই মার্কিন হুমকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। দুই পক্ষের এই হামলা-পাল্টা হামলার কারণে শান্তি আলোচনা এখন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। যদিও সমঝোতাকারী দেশ পাকিস্তানের একজন মন্ত্রী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কাছে একটি চিঠি নিয়ে তেহরান সফর করছেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত শনিবার ভোরে তারা হরমুজ প্রণালির গরুক এবং কেশম দ্বীপে ইরানের উপকূলীয় রাডার সাইটগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে। এর আগে সমুদ্রসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি সৃষ্টি করা দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে মার্কিন বাহিনী। শনিবার রাতে আরও দুটি ইরানি ড্রোন গুলি করে নামানো হয়।

জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। কুয়েত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। এতে কিছু বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বাহরাইনেও এই হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের ছোড়া ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে এবং সপ্তম ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।

তেলের বাজারে অস্থিরতা ও ট্রাম্পের ওপর চাপ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির জন্য পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচির মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে দুই পক্ষ এখনো সমঝোতায় পৌঁছায়নি।

তেহরান মূলত তাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তেল রাজস্বের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। যুদ্ধের আগে বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো, যা এখন ইরান পুরোপুরি বন্ধ করে রেখেছে।

এদিকে মার্কিন বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এনবিসি নিউজকে বলেন, ‘ইরানের বেশির ভাগ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এখনো তাদের কাছে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে।’ ট্রাম্পের ভাষায়, ‘ওদের কাছে এখন প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আছে। সংখ্যাটি একেবারে কম নয়, তবে যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় এটি কিছুই না।’

এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ওপেক প্লাস জোট গতকাল রবিবার তেলের উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে চতুর্থবারের মতো বৈঠকে বসেছে। যদিও যুদ্ধের কারণে বেশ কয়েকটি সদস্য দেশ এখনো তেল সরবরাহ করতে পারছে না। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গতকাল জানিয়েছে, তারা লেবানন থেকে ছিটকে আসা দুটি রকেট প্রতিহত করেছে। এর আগের দিনই লেবাননের দক্ষিণে ইসরায়েলি হামলায় তাদের তিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছিল। সূত্র: রয়টার্স

ককরোচ পার্টির আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি, সরকারকে আলটিমেটাম

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
ককরোচ পার্টির আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি, সরকারকে আলটিমেটাম
অভিজিৎ দিপকের হাতে ভারতের সংবিধানের স্থপতি ও সমাজ সংস্কারক ড. বি আর আম্বেদকরের আত্মজীবনীর একটি কপি দেখা যায়

মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লি। এই দাবিতে নয়াদিল্লির ঐতিহ্যবাহী যন্তর মন্তরে গত শনিবার একটি বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে। এই সমাবেশে সংহতি জানিয়ে সরাসরি যোগ দিয়েছিলেন ভারতের প্রখ্যাত পরিবেশবিদ, সমাজকর্মী ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুক। এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গন ও রাজপথে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

এই বিশাল সমাবেশের পর গতকাল রবিবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে সাত দিনের আলটিমেটাম বা সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদ থেকে অপসারণ করতে হবে অথবা তাকে নিজে পদত্যাগ করতে হবে। এই দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। 

দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। দেশজুড়ে চলমান শিক্ষাব্যবস্থার নানা ত্রুটি ও ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ছাত্র ও যুবসমাজের মধ্যে যে চরম ক্ষোভ জমা হয়েছে, এই বিক্ষোভ সমাবেশ মূলত তারই বহিঃপ্রকাশ। পুরো কর্মসূচিটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই বিশাল সমাবেশে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

অভিজিৎ দিপকে গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে লেখেন, ‘শনিবার হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়ে একটি ইতিহাস তৈরি করেছেন। যন্তর মন্তরের এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সরকারের সামনে একটি ট্রেলার বা মহড়া মাত্র। সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে কী করতে পারে, তা এই প্রতিবাদের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। সমাবেশে যারা যোগ দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষই এর আগে কখনো কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেননি। কিন্তু আমাদের এই আন্দোলনের শক্তি ও সততা দেখে তারা মাঠে নামার সাহস পেয়েছেন। তবে আমাদের এই লড়াই এখনো শেষ হয়নি। সরকারের প্রতিক্রিয়া সন্তোষজনক না হলে আগামীতে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।’

দলটির পক্ষ থেকে সাত দিনের এই কড়া আলটিমেটাম দেওয়ার পর দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সিজেপির অন্য শীর্ষ নেতারাও একই সুরে কথা বলছেন। দলটির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে যদি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া না হয়, তবে তারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই আন্দোলনের পরিধি বাড়িয়ে দেবেন। দেশের শিক্ষা খাতে এখন বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্যই হলো শিক্ষা খাতের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো।

এদিকে এই বিক্ষোভ সমাবেশের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপির প্রভাবশালী নেতা নিতিন নবীন আন্দোলনকারীদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিক্ষোভের আয়োজকদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কিছু মানুষ ভারতের বাইরে বসে দেশের তরুণ সমাজ ও যুবসমাজকে ভুল পথে চালিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। ভারতীয় তরুণরা এখন মূলত নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়া এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখার দিকেই বেশি মনোযোগী। কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তরুণদের আবেগকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করছে। পরবর্তী সময়ে বিজেপির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই বক্তব্যের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

এর আগে শনিবার সকালে দিল্লির পুলিশ প্রশাসন ককরোচ জনতা পার্টিকে যন্তর মন্তরে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি করার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেয়। এই বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শনিবার সকালেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমানে সরাসরি দিল্লিতে এসে পৌঁছান। দিল্লির বিমানবন্দরে নামার পরপরই পুলিশ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে সরাসরি যন্তর মন্তরের সমাবেশস্থলে যাওয়ার অনুমতি দেন। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় অভিজিৎ দিপকের হাতে ভারতের সংবিধানের স্থপতি ও সমাজ সংস্কারক ড. বি আর আম্বেদকরের আত্মজীবনীর একটি কপি দেখা যায়।

সমাবেশস্থলে ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে একটি লিফলেট বা প্যামফ্লেট বিতরণ করা হয়। সেখানে দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা। দলটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তারা যে অনলাইন পিটিশন বা স্বাক্ষর অভিযান চালু করেছিলেন, তাতে ইতোমধ্যেই ৮ লাখেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করে সমর্থন জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যঙ্গাত্মক বা স্যাটায়ারিক্যাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র যাত্রা শুরু করেছিলেন অভিজিৎ দিপকে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যে ‘পরজীবী’ ও ‘ককরোচ’ (তেলাপোকা) শব্দের ব্যবহারকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই পেজটি খোলা হয়। তবে খোলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্ল্যাটফর্মটির অনুসারীর সংখ্যা লাখ লাখ ছাড়িয়ে যায়। সেই অনলাইন আলোড়নই এবার দিল্লির রাজপথে এক বিশাল গণ-বিক্ষোভের রূপ নিল। সূত্র: এনডিটিভি, ডিএনএ

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প জয়ী হননি, বিশ্ব অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প জয়ী হননি, বিশ্ব অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি
ছবি: খবরের কাগজ

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ গত শনিবার ১০০ দিনে পদার্পণ করেছে। এর মধ্যে গত এপ্রিল মাসে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও নিয়মিত বিরতিতে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এই অঞ্চলকে অশান্ত করে রেখেছে। গত ১০০ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি যেমন বদলে গেছে, তেমনি বিশ্ব অর্থনীতিও এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

১০০ দিনের মাথায় এসে এই যুদ্ধে সামরিক বা কৌশলগতভাবে কোনো পক্ষেরই স্পষ্ট বিজয় আসেনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ইরান তার সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং পরমাণু অবকাঠামোর বড় অংশ হারালেও বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে পেরেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান একে নিজেদের একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখছে। তবে এই ১০০ দিনে ইরানের ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারলেও তাদের মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি, উল্টো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কারণে মার্কিন প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। যুদ্ধে ইসরায়েলের ২৬ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন।

এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যে। ইরান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার পর থেকেই বৈশ্বিক বাজার স্থবির হয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় দৈনিক প্রায় ১৪.৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে ৩০% থেকে ৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯০ থেকে ১২০ ডলার ছাড়িয়েছে। ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০%। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) একে ইতিহাসের বৃহত্তম বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে জাহাজ ভাড়া ৫৯% বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বাড়ায় বিশ্বব্যাপী তীব্র মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ২.৮%-এ নেমে আসতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতি প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, তবে কিছু দেশ ও অঞ্চল চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতি ৭০% ছাড়িয়ে গেছে, কলকারখানা বন্ধ হওয়ায় লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন এবং দেশটিতে তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ওমান, কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। কাতার এনার্জি তাদের এলএনজি রপ্তানিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে এবং আরব দেশগুলোর জিডিপি প্রায় ১২০ থেকে ১৯৪ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

পাশাপাশি চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও সারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে সড়ক নির্মাণের বিটুমিনের দাম ৭০% এবং ডিজেলের দাম ৮০% বেড়েছে। বিশ্ববাজারে ৩০% সার ও ইউরিয়া সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বড় অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।

ইরান যুদ্ধ বিশ্বকে এক দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা চললেও হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত না হওয়া এবং স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান না আসা পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতি এই গভীর ক্ষত থেকে সহজে সেরে উঠবে না বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। সূত্র: আল-জাজিরা

দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া জোটে’র বৈঠক আজ, বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ২৩ দল

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া জোটে’র বৈঠক আজ, বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ২৩ দল
ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আজ ৮ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ভারতের বিজেপিবিরোধী ‘ইন্ডিয়া জোটে’র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হাইপ্রোফাইল বৈঠক। লোকসভা নির্বাচনের পর এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবিরের এই তৎপরতা দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দিল্লির এই কনস্টিটিউশন ক্লাবের দিকে, যেখানে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসসহ দেশের ২৩টি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল এক টেবিলে বসতে যাচ্ছে। এই বৈঠক ঘিরে বিরোধী দলগুলোর একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও রণকৌশল রয়েছে, যা আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে পারে।

এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই একটি সুনির্দিষ্ট ও শক্তিশালী রোডম্যাপ তৈরি করা। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং তাদের নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের একক আধিপত্যকে জাতীয় স্তরে চ্যালেঞ্জ জানাতে একটি ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণ করা হবে এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। 

এবারের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক তৃণমূল কংগ্রেস দল অত্যন্ত সক্রিয় ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে। দলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতোমধ্যে এই বৈঠকে সশরীরে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তৃণমূল নেত্রী নিজেকে ‘মুক্ত বিহঙ্গ’ হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় রাজনীতিতে ইন্ডিয়া জোটকে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করতে নিজের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি গতকাল রবিবার দিল্লি গেছেন। একই সঙ্গে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (আপ), সমাজবাদী পার্টি এবং বাম দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও এই বৈঠকে উপস্থিত থেকে জোটের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরিতে অংশ নেবেন।

বৈঠকের কর্মপরিকল্পনার আরেকটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে সংসদের ভেতরে ও বাইরে যৌথ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা। ক্ষমতাসীন সরকারের বিভিন্ন গণবিরোধী নীতি, দেশের সংবিধান রক্ষা, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষার মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোতে বিরোধী দলগুলো কীভাবে একযোগে রাস্তায় নামবে, তার একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন রাজ্যে আসন্ন স্থানীয় সরকার ও বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলগুলোর মধ্যে আসন সমঝোতা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও দৃঢ় করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইন্ডিয়া জোটের দলগুলো এককভাবে লড়াই করার চেয়ে যৌথভাবে অভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালালে তার প্রভাব সাধারণ ভোটারদের ওপর অনেক বেশি ইতিবাচক হবে।

তবে এই বিশাল মহাজোটের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে কিছু বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ ও টানাপোড়েনও রয়েছে, যা এই বৈঠকে আলোচনার টেবিলে উঠবে। যেমন, তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সমীকরণ এবং কংগ্রেসের কিছু রাজনৈতিক অবস্থানের জেরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ডিএমকে এই বৈঠক বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।

ডিএমকের এই দূরত্ব জোটের ঐক্যে কিছুটা ধাক্কা দিলেও বাকি দলগুলো তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এর পাশাপাশি কেরালায় কংগ্রেস ও বামপন্থিদের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব এবং পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেসের মধ্যকার স্থানীয় রাজনৈতিক বৈরিতা কীভাবে নিরসন করা যায়, তা-ও এই বৈঠকের একটি বড় পরীক্ষা। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এবং তৃণমূলের সংসদীয় দলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন সামাজিক মাধ্যমে জোটের এই বৈঠককে ‘স্পষ্ট উদ্দেশ্য ও অভিন্ন লক্ষ্য’ অর্জনের এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য হিন্দু