পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল বিজয়ের ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক রোমহর্ষক তথ্য।
নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দুদিন আগে এই ঘটনায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক ও উত্তেজনা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিন ধরে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এর পরিকল্পনা ও মহড়াও দেওয়া হয়েছিল। চন্দ্রনাথ রথকে অনুসরণ করা, তার দৈনন্দিন কার্যকলাপের ওপর কড়া নজর এবং তার গতিবিধি লক্ষ্য করা হয়েছিল।
বুধবার (৬ মে) রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনায় তিন থেকে চারজন আততায়ীর ছিলেন। প্রাইভেটকার দিয়ে পথ আটকে অত্যাধুনিক রিভলবার দিয়ে গুলি চালানো হয়।
তদন্তে জানা যায়, শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী একটি স্করপিও মডেলের গাড়িতে ছিলেন। এ সময় অন্য একটি গাড়ি এসে তার পথ আটকে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই মোটরসাইকেলে আসা হামলাকারীরা গাড়িটির বাঁ পাশ দিয়ে এসে খুব কাছ থেকে একাধিক গুলি চালায়। চারটি গুলি চন্দ্রনাথের মাথা, বুক ও পেটে বিদ্ধ হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
পুলিশের অনুমান বিকেল থেকেই আততায়ীরা অপেক্ষা করছিলেন। কারণ দোলতলার সাহারা ব্রিজের কাছে বেলা ৩টা ৫৭ মিনিটে এই প্রাইভেটকারটি দেখা গিয়েছিল।
জানা যায়, বুধবার দিনভর শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেই ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। রাতে বাড়ি ফেরার সময় মধ্যমগ্রামের কাছে ওই গাড়িটি একটি বিরিয়ানির দোকানের সামনে থেমেছিল। গাড়ির চালকের পাশের আসনে ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। খুব কাছ থেকে চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায় অভিযুক্তরা। এ সময় গাড়ি চালকও গুলিবিদ্ধ হন।
এ ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা চূড়ান্ত কিছু বলছি না। ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এডিজি এবং আইজিকে নিয়ে নিজে এসেছিলেন। তারা আমাকে এবং সুকান্তবাবুকে আশ্বস্ত করেছেন। পুলিশ সিসিটিভির সূত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছে। খুব শিগগরিই দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছ। এটা ঠান্ডা মাথায় পূর্ব পরিকল্পিত খুন।’
এই ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা বলেন, ‘আমরা তদন্ত শুরু করেছি। আমরা একটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছি, যেটিকে অপরাধের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, নম্বরপ্লেট বিকৃত করা হয়েছে। যে গাড়ির নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা আসলে শিলিগুড়ির একটি গাড়ির। কিন্তু আসলে এটা বিকৃত করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি কার্তুজ ও লাইভ রাউন্ড বাজেয়াপ্ত করেছি। আমরা যেসব তথ্য পেয়েছি, সেটা ধরে এগিয়ে চলেছি। আর এই মুহূর্তে আমি শুধু এই তথ্যগুলোই জানাতে পারি।’
অমিয়/