ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হাতি বনাম লা ত্রির লড়াই বিশ্বাসের সমুদ্রে ফন ডাইকের তরি ১৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি সমতায় বিশ্বকাপ মিশন শুরু ব্রাজিলের স্বপ্নের জাদুকর মুসিয়ালা পথপ্রদর্শক বাকুনা ভিনিসিয়ুসের গোলে সমতায় ফিরল ব্রাজিল পরাশক্তি জার্মানির সামনে পুঁচকে কুরাসাও ডার্কহর্স জাপান, সতর্ক নেদারল্যান্ডস ব্রাজিলের শুরুর একাদশে চমক অতিরিক্ত সময়ের গোলে সুইসদের রুখে দিয়ে কাতারের বাজিমাত ৯২ বছর ধরে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হারেনি ব্রাজিল নেইমারকে ছাড়াই নামছে ব্রাজিল, ভাঙছে ৪০ বছরের ঐতিহ্য পেনাল্টিতে এমবোলোর গোল, এগিয়ে সুইজারল্যান্ড ফিটনেস প্রশ্নে রোনালদো, ‘আমাকে খেলতে দেখেননি?’ ‘জাপানি মেসি’র সঙ্গী উয়েদা এমবাপ্পের সমালোচনা ‘অতিরিক্ত ও অন্যায়’ দেড় দশকের জ্বালানিনীতি ছিল আমদানিনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের অনুশীলন মাঠের পাশে মরদেহ উদ্ধার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ ইমার্জিংদের ঝিলিকের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার স্বামী রক্তদান মহৎ কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’
Nagad desktop

সোনালী ব্যাংকের সাবেক ৭ কর্মকর্তাসহ ১১ জনের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:০৩ পিএম
সোনালী ব্যাংকের সাবেক ৭ কর্মকর্তাসহ ১১ জনের কারাদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ গ্রাফিক্স

ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সহ ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালত।

সোমবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার বিশেষ দায়রা জজ আদালত-৬ এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ুন কবির, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মাইনুল হক, জিএম ননী গোপাল নাথ ও মীর মহিদুর রহমান, এজিএম সাইফুল হাসান ও কামরুল হোসেন খান, ডিজিএম সফিজ উদ্দিন আহমেদের তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অপর আসামি খান জাহান আলী সোয়েটার্স লি. এর চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আ. জলিল শেখ, পরিচালক রফিকুল ইসলাম এবং মীর মোহাম্মদ শওকত আলীর তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬৮ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। যা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। এছাড়াও প্রতারণার দায়ে তাদের  সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুই ধারার সাজা একটির পর একটি চলবে মর্মে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, খান জাহান আলী সোয়েটার্স লি. এর তাজুল ইসলাম, আ. জলিল শেখ, রফিকুল ইসলাম এবং মীর মোহাম্মদ শওকত আলীকে সোনালী ব্যাংক হোটেল শেরাটন শাখা থেকে প্রি শিপমেন্ট ক্রেডিট বাবদ ১০টি এলসি বা কনট্রাক্টর প্রদর্শন করে এর বিপরীতে ১৪টি পিসির মাধ্যমে ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ১৭ মে পর্যন্ত মঞ্জুরীকৃত পিএসসি লিমিট ৩০ লাখ টাকার বিপরীতে এক কোটি ৩৮ লাখ ৮৯ হাজার ৮৩ টাকা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ২৪ লাখ ১৩ হাজার ৪১৫ টাকা সমন্বয় করা হয়। অবশিষ্ট এক কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬৮ টাকা সমন্বয় করা হয়নি। খান জাহান আলী সোয়েটার্স লি. এর কর্মকর্তারা ব্যাংক কর্মকর্তাদের অবৈধ সহযোগিতায় এই টাকা আত্মসাৎ করেন।

এ ঘটনায় দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক এস এম এম আখতার হামিদ ভূঞা ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি রমনা মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০১৪ সালের ২২ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত।

২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত চার্জশিটভুক্ত ৬১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪১ জন সাক্ষী বিভিন্ন সময় আদালতে সাক্ষ্য দেন।

সূত্র: বাসস

সিফাত/

চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১০:০৮ এএম
চট্টগ্রামে  ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
ছবি: আসামি মনির হোসেন

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন।

এ সময় আসামি মনির হোসেন (৩০) উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৩ জন স্বাক্ষী রয়েছেন। প্রথম দিনের শুনানিতে বাদীসহ ৯ জন স্বাক্ষী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সবার আগে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবাও মামলার বাদী মেহেদী হাসানের জবানবন্দি নেওয়া হয়।

এর আগে গত ৪ জুন আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তানভীর আহমেদ। পরে ৮ জুন আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হলো।

গত ২১ মে বিকেলে নগরীর বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে স্থানীয় ডেকোরেটের কর্মচারী মনির হোসেন ধর্ষণ করেছেন বলে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। এ সময় আটক আসামিকে পুলিশ থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধা দেন। তারা বলেন- তারাই ওই যুবকের শাস্তি নিশ্চিত করবেন।

পরে দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টায় তাকে নিয়ে আসতে না পেরে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলেন। দফায় দফায় সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ সময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। 

এই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সেদিন রাতে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। অপরদিকে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চাক্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন বাদী হয়ে পৃথক একটি মামলা করেন। মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।

গত ২২ মে বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করার পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার মনির হোসেন।

শিশুটিকে উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মনির হোসেন শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। পরে তাকে আদালতে নেওয়া হলে সেখানেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ইফতেখারুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ
সালমান শাহ

হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। 

বুধবার (১০ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

এর আগে, গত ২৪ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এই আদেশ দেন। গত ২০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এ আবেদন করেন।

জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। 
তিনি বলেন, কিছু কার্যক্রম আছে, তা শেষ করে আমরা মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করব।

মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় সালমান শাহকে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয় এবং পরে তাকে সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়।

দীর্ঘ সময় পর ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর তার মামা মো. আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে তার স্ত্রী সামীরা হক এবং শিল্পপতি ও প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ আরও অনেকে রয়েছেন।

এর আগে, আদালত অপমৃত্যুর মামলা পরিবর্তন করে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মৃত্যুর সময়কার সন্দেহজনক পরিস্থিতি ও নানা অসঙ্গতি নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন তৈরি করেছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা আবারও জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সালমান/

ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তাম্মি খালাস

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তাম্মি খালাস
ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস পাওয়ার পর আদালত থেকে বের হচ্ছেন। ছবি: খবরের কাগজ

ডিভোর্স সম্পন্ন না করেই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। 

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায়, তাদেরকে খালাস প্রদান করেন। 

এর আগে, গত ৬ মে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজ দিন ধার্য করেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসাইনের সঙ্গে বিয়ে করেন। তাদের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানতে পারেন রাকিব। এ ঘটনায় একই বছরের  ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন রাকিব। আদালত মামলাটি তদন্ত করে  পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

রাকিবের অভিযোগ, বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেন, যা ধর্মীয় ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবৈধ। এছাড়া নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ও তার কন্যা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সামাজিক মর্যাদাহানি হয়। 

২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক শেখ মো. মিজানুর রহমান তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

পরে ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। তবে মামলার অপর আসামি ও তামিমার মা সুমি আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার বিচার চলাকালে  ১০ জন সাক্ষী আদালতে  সাক্ষ্য প্রদান করেন। 

রিফাত/

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত
হাইকোর্ট

তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকবে।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন নির্ধারণ করেছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অপরপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে সকালে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়।

গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এই রায় দেন। এর পর গত ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার হাইকোর্টের রায় প্রকাশ করা হয়।

রায়ে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির-সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের এমন বিধান বাতিল করেন হাইকোর্ট। ফলে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হলো। একইসঙ্গে অধস্তন আদালতের জন্য ২০১৭ সালে করা শৃঙ্খলাবিধি বাতিল করা হয়েছে।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ, ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী রিটটি করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট ‍রুল জারি করেন।

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার-কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল-নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তা প্রয়োগ করে থাকেন।

রিটকারীদের আইনজীবীর মতে, ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

একই অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। মূলত রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের এ দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।

১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এবং ‘সুপ্রিমকোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে’ শব্দগুলো সন্নিবেশিত করা হয়।

এরপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইন অসাংবিধানিক মর্মে ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধন আইন, ২০১১ এর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান একই বিধানটি প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে এ বিধানটিই বিদ্যমান রয়েছে।

অমিয়/

তনু হত্যা: দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের নির্দেশ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ এএম
তনু হত্যা: দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের নির্দেশ
সোহাগী জাহান তনু। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (৮ জুন) কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের ১নং আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ নির্দেশ দেন।

সন্ধ্যায় কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলম কুয়েতে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান কোথায় অবস্থান করছেন, তা জানা যায়নি। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি হাফিজুর রহমান বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত কুমিল্লা সেনানিবাসের স্ট্যাটিক সিগন্যালের সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হোগড়া গ্রামের মো. হাফিজুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে তনু হত্যা মামলা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। ঘটনার সময় প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলমের ঘটনাস্থলে উপস্থিতি এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ কারণে বিচারক মুমিনুল হক তার আদেশে দেশের বাইরে পলাতক জাহিদুজ্জামান ও শাহিন আলমকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামকে নির্দেশ দেন।

এর আগে ২২ এপ্রিল বিচারক মুমিনুল হকের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম হাফিজুর রহমানকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে তাকে পিবিআইয়ের রাজধানীর কল্যাণপুরে অবস্থিত বিশেষ ইউনিটে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সর্বশেষ ২৫ এপ্রিল তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকে তিনি সেখানেই রয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার মামলাটির তারিখ ধার্য ছিল। এ কারণে হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে পুনরায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এটি মামলার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। পাশাপাশি সন্দেহভাজন অন্য আসামিদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি সোহাগী জাহান তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জহির শান্ত/রিফাত/