ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন শেষ ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের ছয় হাসপাতালকে আদ্‌-দ্বীনের রোগী ভর্তি নিতে নির্দেশ হজ পালন শেষে দেশে ফিরলেন ৫২, ৪৯১ হাজি সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘণ্টাব্যাপী বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক ফেসবুক চট্টগ্রামে ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত দেশের ভঙ্গুর অবস্থায় ভালো বাজেট হয়েছে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
Nagad desktop

এই সেই মাকাল ফল!

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৬ এএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:০৬ এএম
এই সেই মাকাল ফল!
গাজীপুরের শ্রীপুরে বিন্দুবাড়ি গ্রামে বেনুভিটায় দেখা মাকাল ফল। লেখক

ছোটবেলায় স্কুলের বইয়ে বাগধারা বাগবিধিতে মাকাল ফলের নামের সঙ্গে পরিচয়। দেখতে সুন্দর, অথচ অকম্মা কাউকে দেখলেই তাকে আমরা বলি ‘মাকাল ফল’। তুলনা করি মাকাল ফলের আকর্ষণীয় লাল টুকটুকে রূপের সঙ্গে। যে ফল না যায় খাওয়া, না কোনো কাজে লাগে!
 
সেই মাকাল ফলের দেখা পেলাম বেনুভিটা মানমন্দিরের আঙিনায়। গিয়েছিলাম কয়েকজন প্রকৃতিসখার সঙ্গে গাজীপুরে শ্রীপুরের বিন্দুবাড়ি গ্রামে। সেখানে প্রকৃতিবন্ধু শাহজাহান মৃধা বেনু ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটা মানমন্দির গড়ে তুলেছেন। তার আতিথেয়তায় আমরা ডিসেম্বরের শেষে গিয়েছিলাম শালবনের গাছপালা দেখতে ও চিনতে। তরুপল্লবের সেটি ছিল ৩৫তম গাছ দেখা, গাছ চেনার আয়োজন। 

শালবনের গাছপালা চিনে তো ফিরলাম বেনুভিটায়। কিন্তু কে জানত যে, সেই অঙিনাতেই মাকাল ফলের দেখা পাব! তবে আমি নিশ্চিত, মাকাল ফলের নাম শুনলেও অনেকেরই তা দেখার সুযোগ ঘটেনি। তাই কয়েকজন সঙ্গীসাথিকে ডেকে তা দেখালাম।

বেনু ভাই একটা ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন। সে বাগানে ঢুকতেই বাঁশের বেড়ার ওপর লতিয়ে উঠেছে লাল ঝুমকোলতা ফুলের গাছ। টকটকে লাল ফুলে আলোকিত করে ফেলেছে। বেড়ার কোলেই একটা কিশোরী তালগাছ। সে গাছের পাতা জড়িয়ে ঝুলে আছে শুকনো কিছু লতা, লতায় লতায় ঝুলে আছে লাল সুগোল বলের মতো কয়েকটা ফল। 

মনে হলো জঙ্গল সাফ করার অছিলায় হয়তো লতাটার গোড়া কেউ কেটে দিয়েছে। তাই শুকনো বাদামি লতায় ফলগুলো ঝুলছে। পাতাগুলো শুকিয়ে মচমচে বাদামি হয়ে রয়েছে। কিন্তু ফল দেখে আর চিনতে কষ্ট হলো না, এই তো সেই মাকাল ফল। বেনুবর্ণা বললেন, একবার ফলটা ভেঙেছিলাম, কি বিচ্ছিরি রে বাবা! একেবারে বেড়ালের বিষ্ঠার মতো কালচে আর দুর্গন্ধ। শেয়ালের বিষ্ঠার মতো দেখতে কদবেলের ভেতরটাও, কিন্তু তার একটা নেশাময় সুগন্ধ আছে, স্বাদ আছে। আমরা মজা করে তা নুন-মরিচ মাখিয়ে খাই। কিন্তু মাকাল ফল কেউ খায় বলে কখনো শুনিনি। 

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের সপ্তম খণ্ডে মাকালের কিছু ঔষধি গুণের উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফল বিষাক্ত, তবে তার শাঁস ঘায়ের ওপর প্রলেপ দেওয়া হয় ঘা সারানোর জন্য। এ ছাড়া এ গাছের শিকড় দুষ্টব্রণ ও ফুসফুসের স্ফীতি নিরাময়ে উপকারী। এই ফলের বীজ বমি উদ্রেককারী। ভারতের ছোট নাগপুরের মুন্ডা আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকেরা মাথাব্যথা নিরাময়ের জন্য ফল ও শিকড় সরিষার তেলের সঙ্গে জ্বাল দিয়ে তা ব্যবহার করে। তাই মাকাল যে একেবারে আমড়া কাঠের ঢেঁকি বা অকম্মা, তাও বলা যাবে না।

মাকাল ফলের ইংরেজি নাম রেডবল স্নেক গোর্ড। চিচিঙ্গার ইংরেজি নাম স্নেক গোর্ড, সাপের মতো রেখায়িত লম্বা ফল বলে এর এরূপ নাম। চিচিঙ্গার অন্য বাংলা নাম রেখা বা কুশি। লাল বলের মতো ফল বলে মাকাল ফলের এরূপ ইংরেজি নাম দেওয়া হয়েছে। উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম ট্রাইকোস্যানথাস ট্রাইকাসপিডাটা (Trichosanthus tricuspidate) ও গোত্র কিউকারবিটেসী। 

লতানো গাছ শাখায়িত, লতা কোণাকার রেখাযুক্ত, লতা থেকে আকর্ষী বের হয়, যা দিয়ে অন্য গাছকে পেঁচিয়ে ওপরে ওঠে। পাতা করতলাকার ও কিনারা গভীর খাঁজবিশিষ্ট। পাতার বোঁটার কোল থেকে সাদা রঙের ফুল ফোটে। ফুল ছোট ও দেখতে কিছুটা চিচিঙ্গা ফুলের মতো। পাপড়ির কিনারা ঝালরের মতো থাকে। একই গাছে পুরুষ ও মেয়ে ফুল আলাদা ফোটে। মেয়ে ফুলের বোঁটার পরে বা পাপড়ির নিচে ফলের মতো অঙ্গ থাকে, পুরুষের তা থাকে না।
 
ফল মোটামুটি টেবিল টেনিস বলের চেয়ে একটু বড়, সুগোল। কাঁচা ফল সবুজ, পাকলে হয় টকটকে লাল, আপেলের চেয়েও সুন্দর! বীজও গোলাকার। বীজ থেকে সহজে গাছ জন্মে। জুলাই থেকে ডিসেম্বরে ফুল-ফল ধরে ও বীজ হয়। এ দেশে সাধারণত বনেজঙ্গলে দেখা যায়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, গাজীপুরের বনাঞ্চলে মাকাল গাছ আছে। আগের দিনের তুলনায় এদের এখন কম চোখে পড়ে, তবে এখনো বিলুপ্তির শঙ্কা নেই। 

ছবির ক্যাপশন
গাজীপুর শ্রীপুরে বিন্দুবাড়ি গ্রামে বেনুভিটায় দেখা মাকাল ফল। ছবি: লেখক

কুরমা অভয়াশ্রমের হলদে-চোখ ছাতারে

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
কুরমা অভয়াশ্রমের হলদে-চোখ ছাতারে
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের কুরমা চা-বাগানের গুল্মের ডালে শেষ বিকেলে সংকটাপন্ন হলদে-চোখ ছাতারে পাখি। ছবি: লেখক

হলদে চোখের বিরল ও সংকটাপন্ন পাখিটিকে প্রথম দেখি সাত বছর আগে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি গ্রামের এক ভুট্টাখেতে। কিন্তু তার অতিরিক্ত চঞ্চলতা ও দ্রুত চলে যাওয়ার কারণে সেদিন ছবি তুলতে পারিনি। দুই বছর পর পাখিটিকে ফের দেখলাম মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা চা-বাগানের এক চিলতে ঘাসবন ও ঝোপঝাড়ে। এরপর থেকে অন্তত একবছর পাখিটিকে কুরমায় দেখেছি, প্রায় প্রতিবার যখন ওখানে গিয়েছি। বহু ছবি তুলেছি ওর। কিন্তু হার্ড ড্রাইভ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেসব ছবি হারিয়ে গেছে চিরতরে। কুরমার সেই জায়গাটি এখন এক চিলতে অভয়ারণ্য। নাম কুরমা পক্ষী অভয়াশ্রম। তবে অভয়াশ্রম হলেও বর্তমানে ওখানে তেমন একটা পাখির দেখা মিলছে না। চা-বাগান কর্তৃপক্ষ ঝোপঝাড় কেটে ফেলায় ভয় পেয়ে পাখিরা সেই যে চলে গেল, এখন পর্যন্ত আর ফিরে এল না, বিশেষ করে পরিযায়ী পাখিগুলো। দেশি আবাসিক পাখিদের সংখ্যাও কমে গেছে। এ বছরের ২৪ জানুয়ারি রাজকান্দির সংরক্ষিত বনের আদমপুর বিটে পাখি পর্যবেক্ষণ শেষে কুরমার বর্তমান অবস্থা দেখার জন্য বিকেলে সেখানে গিয়েছিলাম।
 
আকারে ক্ষুদ্র হলেও একসময় কুরমা পক্ষী অভয়াশ্রমটি ছোট ছোট বীজভুক পাখিদের স্বর্গরাজ্য ছিল। লাল মুনিয়া, লালগলা ফিদ্দা, চিনা লালগলা ফিদ্দা, বঘেরি, কালোমাথা বঘেরি, হলদেবুক বঘেরি, খয়েরিকান বঘেরি, মদনটাক এবং হলদে চোখের পাখিসহ প্রায় আশি প্রজাতির পাখি দেখেছি ওখানে। কিন্তু জানুয়ারিতে ওখানে গিয়ে ২-৩ প্রজাতির বেশি পাখি দেখলাম না। তাই ওখান থেকে আরেকটু সামনের দিকে বাগানের সবচেয়ে উঁচু স্থানটিতে গেলাম। সেখানে ছোট যে ঝোপটি রয়েছে, ওখানে বুলবুলি, ফিঙ্গে, বাদামি কসাই ও অল্প কিছু সাধারণ পাখি দেখলাম। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা প্রায় হয় হয়। এমন সময় কোত্থেকে যেন হলদে চোখের পাখিটি এসে হাজির হলো। তবে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য। এই সময়ের জন্য ৪-৫ বার ক্লিক করতে পারলাম। ছবি বেশি তুলতে না পারলেও বিরল পাখিটিকে যে ওখানে দেখলাম, তাতেই আমি খুশি। কারণ এর আগে বেশ কয়েকজন বার কয়েক গিয়েও পাখিটির দেখা পাননি। সন্ধ্যা হয়ে এল, তাই সঙ্গে আনা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেপে পাখিপ্রেমী রূপকের দোকানে জিলাপি খাওয়ার জন্য চলে গেলাম। 

এতক্ষণ বিরল ও সংকটাপন্ন যে পাখিটির কথা বললাম, সে এদেশের এক প্রজাতির আবাসিক পাখি হলদে-চোখ ছাতারে। বাগেরহাট জেলায় পাখিটি ‘সাদা মইনে’ নামে পরিচিত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বলে গুলাবচশম। ওর ইংরেজি নাম Yellow-eyed Babbler। প্যারাডক্সওরনিথিডি (Paradoxornithidae) গোত্রের পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম Chrysomma sinense (ক্রাইসোমা সাইনেনস)। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাখিটির দেখা মেলে।

হলদে-চোখ ছাতারের দেহের দৈর্ঘ্য ১৮ সেন্টিমিটার। ওজন ১৯ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম। দেহের উপরটা লালচে-বাদামি। থুতনি-গলা-বুক সাদা; পেট-তলপেট হলদেটে সাদা। শক্ত মোটা ঠোঁটটি কালো। চোখের চারদিকের বলয় কমলা হলেও মনি হলুদ। পা ও পায়ের পাতা হলুদ। লেজ লম্বা। অপ্রাপ্তবয়ষ্ক পাখির পিঠ বেশি লালচে ও ঠোঁট বাদামি।  

প্রজাতিটি মূলত সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা, তবে খুলনা বিভাগ ও উত্তরবঙ্গেও কোথাও কোথাও দেখা যায়। সচরাচর জলাসংলগ্ন লম্বা ঘাস ও ঝোপঝাড়ে এরা বাস করে। বেশ লাজুক। জোড়ায় বা ছোট দলে ঝোপঝাড় বা গাছের গোড়ার দিকে আড়ালে-আবডালে ঘুরে বেড়ায়। উঁচু ঘাসের আড়ালে খাবার খোঁজে। কীটপতঙ্গ, শুককীট, রসালো ফল ও ফুলের রস খায়। সুমধুর কণ্ঠে ‘চিপ-চিপ-চিপ…’ শব্দে ডাকে।

জুন থেকে নভেম্বর প্রজননকাল। এ সময় ভূমির কাছাকাছি আখ, পাট বা অন্যান্য ঘাসের কাণ্ডে ঘাস দিয়ে গোলাকার বাসা বানায়। লালচে-বাদামি ছিটছোপসহ ঘিয়ে-সাদা রঙের ৩ থেকে ৫টি ডিম পাড়ে। ডিম ফোটে ১৫-১৬ দিনে। ছানারা ১৩ দিন বয়সে উড়তে শিখে ও বাসা ছাড়ে। আয়ুষ্কাল ৫ থেকে ৮ বছর। 

লেখক: পাখি ও বন্যপ্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ এবং অধ্যাপক গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

শখ থেকে স্বাবলম্বী গৃহবধূ, ঘরের ছাদ যেন ক্যাকটাস রাজ্য

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
শখ থেকে স্বাবলম্বী গৃহবধূ, ঘরের ছাদ যেন ক্যাকটাস রাজ্য
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে গৃহবধূ কারিশমা আমরিন রুনার ব্যতিক্রমী ছাদবাগানে ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট দেখছেন দর্শনার্থীরা। ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ইউটিউব দেখে ব্যতিক্রমী এক ছাদবাগান করেছেন গৃহবধূ কারিশমা আমরিন রুনা। তার এই শখের বাগানটি এখন বিরল গাছের এক বিশাল সাম্রাজ্য হয়ে উঠেছে। তার ছাদবাগানে এখন রয়েছে প্রায় হাজার প্রজাতির ক্যাকটাস, সাকুলেন্ট ও দৃষ্টিনন্দন ইনডোর প্ল্যান্ট। শখের বশে শুরু করলেও তিনি এখন একজন সফল উদ্যোক্তা। স্থানীয় কৃষি বিভাগ তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

জানা গেছে, পাঁচবিবি রেলস্টেশন রোডের বাসিন্দা ইমন হোসেনের স্ত্রী গৃহবধূ কারিশমা আমরিন রুনা। তিনি স্থানীয় একটি স্পেশাল চাইল্ড বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। করোনা মহামারির সময় তার স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়। সেই ঘরবন্দি সময়ে ইউটিউব দেখে অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানা জাতের ক্যাকটাস সংগ্রহ করেন তিনি। এরপর বাড়ির ছাদে ছোট পরিসরে শুরু করেন ছাদবাগান। সংসারের কাজের পাশাপাশি তিনি বাগানের যত্ন নিতেন।

ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিরল প্রজাতির ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট সংগ্রহ করেন রুনা। এখন তার পুরো ছাদ জুড়ে বিভিন্ন ধরনের পাতাবাহার, লতাবাহার, বনজ ও ফলজ গাছের সামরোহ। তবে হাজার প্রজাতির ক্যাকটাস ও সাকুলেন্টই মানুষের নজর কাড়ছে বেশি। প্রতিদিন অনেকে এই বাগান দেখতে আসেন, কেউ কেউ আসেন গাছ কিনতে। পাশাপাশি তিনি অনলাইনেও গাছ বিক্রি করে ভালো লাভ করছেন। তাকে দেখে এখন অনেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। পরিবেশ রক্ষা ও সৌন্দর্য বাড়াতেও এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখছে।

পাঁচবিবি পৌর শহরের চামড়া গুদাম এলাকার শবনম আরা সানি বলেন, ‘আমি কারিশমা আমরিন রুনা আপুর ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করে কয়েকটা ক্যাকটাস গাছ কিনেছি। পরে বাগান দেখার আগ্রহ থেকে এখানে এসেছি। সাধারণত ছাদবাগানে ফুলের গাছ দেখা যায়। কিন্তু এখানে এসে অনেক রকম ক্যাকটাস দেখলাম। আমার খুব ভালো লেগেছে।’

স্টেশন রোড এলাকার আরজু আরা শাম্মি বলেন, ‘এই বাগানে এসে নানা প্রজাতির ক্যাকটাস গাছ দেখলাম। এসব সাধারণত রংপুর, রাজশাহীতে পাওয়া যায়। কিন্তু এখান থেকে কিনতে পেরে আমি অনেক খুশি। রুনা আপা গৃহবধূ হয়েও উদ্যোক্তা হয়ে আয় করতে পারছেন। আমারাও এখান থেকে শিখে নিজে এমন উদ্যোগ নিতে পারি।’

মালঞ্চা এলাকার সাব্বির হোসেন বলেন, ‘এই ছাদবাগান দেখে আমি মুগ্ধ। এখানে এত সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যে সবার চোখ জুড়িয়ে যাবে। আমার জীবনে একসঙ্গে এত প্রজাতির ক্যাকটাস আগে কখনো দেখিনি। আমি নিজেও দুটি গাছ কিনেছি।’

উদ্যোক্তা কারিশমা আমরিন রুনা বলেন, ‘করোনা মহামারির সময় বাসায় বসে থাকার সময় শখের বশে ইউটিউব দেখে কয়েকটি ক্যাকটাস গাছ কিনে ছাদবাগান শুরু করি। এরপর দিন দিন বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা প্রজাতির গাছ কিনে বাগান বড় করি। এখন আমার এখানে হাজার প্রজাতির ক্যাকটাস, সাকুলেন্ট ও সুন্দর ইনডোর প্ল্যান্ট আছে। এ থেকে আমার মাসে মোটামুটি ভালো আয় হয়। অনলাইনে যোগাযোগ করে অনেকে কেনেন, আবার কেউ কেউ এখানে এসেও নিয়ে যান।’

পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি অফিসার জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সচরাচর দেখি ছাদবাগানে শাক-সবজি বা ফুলের চাষ হয়। কিন্তু পাঁচবিবির গৃহবধূ রুনা তার ছাদে বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাকটাসসহ বিরল প্রজাতির গাছ লাগিয়েছেন। ছাদবাগান করেও যে স্বাবলম্বী হওয়া যায়, রুনা তার দৃষ্টান্ত উদাহরণ। আমরা উদ্যোক্তাকে বিভিন্ন সহযোগিতা দিয়ে থাকি। নতুন করে কেউ যদি এমন বাগান করতে চান, তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা সার্বিক সহযোগিতা করব।’

চমৎকার ফুল ক্রোসান্দ্রা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
চমৎকার ফুল ক্রোসান্দ্রা
ছবি: ময়মনসিংহের কাচারিঘাটের নার্সারিতে ক্রোসান্দ্রা ফুল। গত ৫ জুন ছবিটি তোলা হয়

আমাদের চারপাশের পরিচিত চমৎকার ফুলগুলোর মধ্যে একটি হলো ক্রোসান্দ্রা। এর বৈজ্ঞানিক নাম Crossandra infundibuliformis, এটি Acanthaceae পরিবারের উদ্ভিদ। মূলত দক্ষিণ ভারত ও শ্রীলঙ্কার আদি বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় রঙের কারণে বাগানপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। একে ইংরেজিতে ফায়ারক্র্যাকার ফ্লাওয়ার বা পটকা ফুলও বলা হয়। 

ক্রোসান্দ্রা মূলত একটি বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। গাছটি সাধারণত লম্বায় ১ থেকে ৩ ফুট (প্রায় ৩০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর কাণ্ড সোজা, শক্ত এবং শাখা-প্রশাখাযুক্ত হয়। তরুণ অবস্থায় কাণ্ড নরম ও সবুজ থাকলেও পরিপক্ব হলে তা কিছুটা শক্ত ও ধূসর-বাদামি রং ধারণ করে।

এর পাতাগুলো গাঢ় সবুজ, চকচকে এবং বল্লমাকার (lanceolate)। পাতার কিনারাগুলো মৃদু ঢেউ খেলানো বা মসৃণ হতে পারে। পাতাগুলো কাণ্ডের বিপরীতমুখী বিন্যাসে জোড়ায় জোড়ায় সাজানো থাকে, যা ফুল ছাড়াই গাছটিকে একটি দৃষ্টিনন্দন রূপ দেয়।

ক্রোসান্দ্রার মূল আকর্ষণ হলো এর ফুল। ফুলগুলো কাণ্ডের শীর্ষে একটি খাড়া মঞ্জরিদণ্ড বা স্পাইক থেকে পর্যায়ক্রমে ফোটে। প্রতিটি ফুলের একটি দীর্ঘ নল বা টিউব থাকে, যা ওপরের দিকে এসে ৩ থেকে ৫টি পাপড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। পাপড়ির এই গঠনটি দেখতে কিছুটা ফানেল বা হাতপাখার মতো। প্রাকৃতিকভাবে ফুলগুলো উজ্জ্বল কমলা বা জাফরান রঙের হলেও বর্তমানে হাইব্রিড জাতের হলুদ, লাল এবং হালকা গোলাপি রঙের ক্রোসান্দ্রাও দেখতে পাওয়া যায়।

ফল ছোট ও চারকোনা আকৃতির ক্যাপসুল । এই ক্যাপসুল বা বীজাধারগুলো পেকে শুকিয়ে গেলে আর্দ্রতার সংস্পর্শে হঠাৎ করে ‘পট’ করে শব্দ করে ফেটে যায় এবং বীজগুলো দূরে ছিটকে পড়ে। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই এর নাম হয়েছে ‘ফায়ারক্র্যাকার ফ্লাওয়ার’। 

 শুধু সৌন্দর্য ছড়ানোই নয়, ক্রোসান্দ্রা উদ্ভিদের বেশ কিছু অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব রয়েছে। যেকোনো বাগান, বাড়ির বারান্দা বা ছাদবাগানের সৌন্দর্য বাড়াতে ক্রোসান্দ্রার জুড়ি মেলা ভার। এটি প্রায় সারা বছরই (বিশেষ করে গরম ও বর্ষাকালে) থোকায় থোকায় ফুল দেয়। টবে বা ল্যান্ডস্কেপিংয়ে বর্ডার প্ল্যান্ট হিসেবে এটি দারুণ মানিয়ে যায়। এর উজ্জ্বল রঙের ফুল মৌমাছি ও প্রজাপতিকে আকর্ষণ করে, যা বাগানের পরাগায়নে সাহায্য করে।

 দক্ষিণ ভারতে বিশেষ করে তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকে এই ফুল অত্যন্ত পবিত্র ও জনপ্রিয়। সেখানে একে ‘কানাকাম্বুরাম’ বলা হয়। নারীরা চুলে খোঁপা বা বেণি সাজাতে জুঁই ফুলের সঙ্গে বৈপরীত্য তৈরি করতে এই উজ্জ্বল কমলা ফুল ব্যবহার করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় পূজা-পার্বণ ও উৎসবের মালা তৈরিতে এই ফুলের ব্যাপক বাণিজ্যিক চাহিদা রয়েছে। ফুলগুলো ছেঁড়ার পরও বেশ কয়েক দিন সতেজ থাকে। 

ক্রোসান্দ্রার কিছু ভেষজ গুণাগুণ রয়েছে। ঐতিহ্যগত চিকিৎসায় এর পাতা ও ফুলের কিছু ব্যবহার রয়েছে। এর কিছু উপাদান ব্যাকটেরিয়াবিরোধী এবং ছত্রাকবিরোধী গুণসম্পন্ন বলে মনে করা হয়। কিছু অঞ্চলে ত্বকের সাধারণ সংক্রমণ এবং ক্ষত নিরাময়ে এর পাতার রস ব্যবহার করা হয়। তবে যেকোনো চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ক্রোসান্দ্রাগাছ আংশিক রোদ এবং সুনিষ্কাশিত দোআঁশ মাটি পছন্দ করে। মাটিতে যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখলে এবং নিয়মিত ছাঁটাই করলে গাছটি দীর্ঘদিন প্রচুর ফুল দেয়। 

সহজ রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘস্থায়ী সৌন্দর্যের কারণে ক্রোসান্দ্রা যেকোনো ফুলপ্রেমীর সংগ্রহের জন্য একটি চমৎকার উদ্ভিদ। 

বিল-ঝিলে পদ্ম ও শাপলার মায়াবী রূপ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
বিল-ঝিলে পদ্ম ও শাপলার মায়াবী রূপ
ছবি: সংগৃহীত

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে বর্ষার আগমনী বার্তার সাথে সাথেই বদলে যায় প্রকৃতির ক্যানভাস। দেশের মাঠ-ঘাট, পুকুর-ডোবা আর বিল-ঝিল মুখরিত হয়ে ওঠে নানা রঙের জলজ উদ্ভিদে।

উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশের জলাশয়গুলোতে কয়েকশো প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ জন্মে, যার মধ্যে প্রায় ১৩০টি প্রজাতিই সপুষ্পক। আর এই জলজ ফুলের রাজ্যে সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে পদ্ম এবং আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা।

শুভ্রতার প্রতীক 'পুন্ডরিক' বা পদ্ম

জলজ ফুলের রানী বলা চলে পদ্মকে। চমৎকার সুগন্ধি এই ফুলের আরেকটি পরিচিত নাম ‘পুন্ডরিক’। পদ্মের পাতার গঠন অনেকটা শাপলার মতো হলেও এটি পেয়ালা আকৃতির এবং পানির ওপর আলতো করে জেগে থাকে।

পদ্মের প্রতিটি অংশের রয়েছে আলাদা নাম ও নান্দনিকতা। পানির নিচ থেকে উঠে আসা পদ্ম ফুলের ডাঁটিকে বলা হয় ‘মৃণাল’। আর এর কচি পাতার নাম ‘সংবর্তিকা’। সাধারণত বর্ষাকালে এই ফুলের সমারোহ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, যা যেকোনো বিল বা পুকুরকে এক মায়াবী রূপ দেয়।

রাতের স্নিগ্ধতায় ফোটে শাপলা, মাধুরী ছড়ায় দিনে

বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা সাধারণত দুই প্রজাতির দেখা যায়—ধবধবে সাদা এবং আকর্ষণীয় লাল। শাপলার বৈশিষ্ট্য হলো, এটি রাতের স্নিগ্ধতায় ডানা মেলে, তবে এর রূপের মাধুরী ও সৌন্দর্য ছড়ায় দিনের আলোতেও। একসাথে যখন বিশাল বিলজুড়ে অসংখ্য শাপলা ফুটে থাকে, তখন চারপাশের পুরো পরিবেশটাই বদলে যায়।

শাপলার শেকড় থাকে পানির নিচে কাদার গভীরে। লম্বা নালের ওপর ভর করে ফুলটি পানির ওপরে তার রূপের শোভা ছড়ায়। এর পাতার গোড়ার দিকটা দেখতে অনেকটা হৃদপিণ্ডের মতো এবং পাতার চারপাশটা থাকে ঢেউ খেলানো। রোদ ঝলমলে দিনে শাপলার রূপ যেমন খোলে, তেমনি ছায়া ঘেরা পুকুরের শান্ত পরিবেশেও এর সৌন্দর্য অন্যরকম এক শান্তি জোগায়।

শুধু রূপ নয়, গুণে ও ঔষধি গুণে অনন্য


জাতীয় ফুল শাপলা শুধু চোখের দেখাতেই সুন্দর নয়, এর রয়েছে দারুণ অর্থনৈতিক ও ঔষধি গুণ। শাপলার পুষ্পনল (ডাঁটা) আমাদের দেশে সবজি হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। গ্রামীণ অর্থনীতি ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এছাড়া শাপলার ফুল, কন্দ (শালুক) এবং বীজ বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী ঔষধি কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

রক্তোৎপল: লালের মাঝে মায়ার ছোঁয়া


লাল রঙের যে শাপলা আমাদের চোখে পড়ে, তার আরেকটি সুন্দর নাম ‘রক্তোৎপল’। দেখতে দূর থেকে পদ্ম ফুলের মতো মনে হলেও এটি মূলত লাল শাপলা। এই প্রজাতির শাপলার নাল বা ডাঁটা প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং এর পাতার ব্যাস হয় ১০ থেকে ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত।

স্বভাবে কোমল ও রঙে উজ্জ্বল এই ফুলের লালের মাঝে এক ধরণের হালকা ও গাঢ় রঙের মিশ্রণ থাকে, যা সহজেই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

জলে জন্ম নিলেও জলকে ছাপিয়ে এই ফুলগুলো প্রকৃতিতে যে মায়াবী রূপ আর সুবাস ছড়িয়ে দেয়, তা বাংলার রূপকে পৃথিবীর বুকে অনন্য করে তুলেছে। বর্ষা আর শরতের এই জলজ রূপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির সাথে মানুষের আত্মিক বন্ধনের কথা।

আমান/

পাঁচ বছর না খেয়েও যেভাবে বেঁচে থাকে গভীর সমুদ্রের প্রাণী

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:২১ পিএম
পাঁচ বছর না খেয়েও যেভাবে বেঁচে থাকে গভীর সমুদ্রের প্রাণী
আইসোপড

গভীর সমুদ্রের এক ধরনের বিশালাকার আইসোপড কীভাবে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় কোনো খাবার ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারে, সেই রহস্য উন্মোচন করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা।
চীনের শানতোং প্রদেশের ছিংতাওয়ে অবস্থিত চীনা বিজ্ঞান একাডেমির সমুদ্রবিজ্ঞান সংস্থা, হংকংয়ের দ্য চাইনিজ ইউনিভার্সিটি এবং নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ গবেষণার ফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী সেল-এ প্রকাশিত হয়েছে।
সুপারজায়ান্ট আইসোপড দেখতে অনেকটা বাগানে পাওয়া সাধারণ পিল বাগের বিশাল সংস্করণ। গভীর সমুদ্রের খাদ্যসংকটপূর্ণ পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এদের রয়েছে বিশেষ অভিযোজন ক্ষমতা।

 


চীনা গবেষকদের মতে, এই প্রাণী দুটি কৌশল ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় খাদ্য ছাড়াই বেঁচে থাকে। প্রথমত, এর পাকস্থলী শরীরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে বিস্তৃত, যা একটি বিশাল খাদ্যভান্ডারের কাজ করে। খাদ্য পাওয়া গেলে এটি প্রচুর পরিমাণে খেয়ে সেই খাদ্য বছরের পর বছরও সংরক্ষণ করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, এদের বিপাকীয় হারও কম। ফলে শরীর খুব ধীরে শক্তি খরচ করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি ধরে রাখতে পারে।
গবেষণায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ছিল এনডি-১ নামের একটি জিন, যা আইসোপডের নিজস্ব জিন নয়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, জিনটি একটি সহাবস্থানকারী ব্যাকটেরিয়া থেকে ‘হরাইজন্টাল জিন ট্রান্সফার’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইসোপডের জিনোমে এসেছে।
গবেষণার প্রধান লেখক ইউয়ান চিয়ানবো বলেন, এটি অনেকটা এক জীব থেকে অন্য জীবের মধ্যে উপকারী ডিএনএ সরাসরি স্থানান্তরের মতো।
গবেষকরা জেব্রাফিশ, নেমাটোড এবং মানব কোষে এনডি১ জিন প্রবেশ করিয়ে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন। দেখা যায়, স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এই জিন শক্তি খরচ বাড়িয়ে দেয় এবং অনাহার সহ্য করার ক্ষমতা কমায়। তবে গভীর সমুদ্রের মতো নিম্ন তাপমাত্রায় জিনটি ঠিক উল্টোভাবে কাজ করে।
শীতল পরিবেশে এনডি১ জিন বিপাক কমিয়ে দেয়, কোষের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া ধীর করে এবং জেব্রাফিশের অনাহার সহ্যক্ষমতা ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, ওই জিনটি একটি জৈবিক ‘থার্মোস্ট্যাট’-এর মতো কাজ করে, যা পরিবেশ অনুযায়ী শক্তি ব্যবহারের হার নিয়ন্ত্রণ করে। 
গবেষকদের ধারণা, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে বার্ধক্যজনিত গবেষণা, স্থূলতার চিকিৎসা এবং জলজ প্রাণীর উন্নত প্রজনন প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

সূত্র: সিএমজি