ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরের ৪টি সংসদীয় আসনের ২৯ সংসদ সদস্য প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের ৪ প্রার্থীসহ ২১ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত তালিকা পর্যালোচনা করে জামানত হারানোর এ তথ্য জানা গেছে।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৭ প্রার্থী। এর মধ্যে বিএনপি দলীয় ধানের শীষের প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিম ৮৬ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে এনসিপির শাপলা কলির প্রার্থী মাহবুব আলম ৫৯ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। এ আসনে জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জাকির হোসেন পাটওয়ারী, তিনি ভোট পেয়েছেন ১১ হাজার ১৫৬টি। জাতীয় পার্টির মাহমুদুর রহমান,তিনি ভোট পেয়েছেন ৪১৪টি। এনডিএম এর প্রার্থী আলমগীর হোসেন ভোট পেয়েছেন ১০৬টি। গণ-অধিকার পরিষদের প্রার্থী কাউছার আলম ভোট পেয়েছেন ১১৫টি। বাসদের বেল্লাল হোসেন ভোট পেযেছেন ২০৩টি। এ আসনে ২লাখ ৮১ হাজার ৩০২ ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৬২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এ আসনে কাস্টিং ভোটের হার ৫৭.৯৩ শতাংশ।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এরমধ্যে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩২১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমীর এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়েছেন।
এ ছাড়া আসনটিতে গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাশার ৪২৪ ভোট, নাগরিক ঐক্যের রেজাউল করিম ২৫৩ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির ইব্রাহিম মিয়া ১ হাজার ৭৮০ ভোট, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ফরহাদ মিয়া ২৮৮ ভোট ও ইসলামী আন্দোলনের হেলাল উদ্দিন ৬ হাজার ৭৭৪ ভোট পেয়েছেন। আসনটির ৪ লাখ ৯৪ হাজার ২৬ ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৯৭ হাজার ২৭০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এখানে ৬০.১৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। এ আসনে জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীদেরকে সর্বনিম্ন প্রায় ৩৭ হাজার ১৫৮ ভোট পেতে হতো।
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এরমধ্যে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ১ লাখ ২২ হাজার ৮০২ ভোট পেয়েছেন।
এ ছাড়া আসনটিতে জাতীয় পার্টির একেএম মহিউদ্দিন ১ হাজার ৩৩৯টি ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মো. ইব্রাহিম ৫ হাজার ৫১টি ভোট, এলডিপির মো. শামছুদ্দিন ৪৮৮টি ভোট ও এনপিপির সেলিম মাহমুদ ২৮৯টি ভোট পেয়েছেন। আসনটির ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৭২ হাজার ৪৩০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এখানে ৬১.২৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। এতে জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীদেরকে সর্বনিম্ন প্রায় ৩৪ হাজার ৫৩ ভোট পেতে হতো।
লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এরমধ্যে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির সহ শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান ১ লাখ ১৫ হাজার ১৯৯টি ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এআর হাফিজ উল্যাহ ৭৩ হাজার ৭৫৬ টি ভোট পেয়েছে।
এ ছাড়া আসনটিতে স্বতন্ত্র আ ন ম মঞ্জুর মোর্শেদ ৩৯৬টি ভোট, ইসলামী আন্দোলনের খালেদ সাইফুল্লাহ ২১ হাজার ১০৩টি ভোট, জেএসডির তানিয়া রব ২২ হাজার ৪০টি ভোট, স্বতন্ত্র নুরুল হুদা চৌধুরী ৪২২টি ভোট, বাসদের মিলন কৃষ্ণ মন্ডল ৪৪০টি ভোট, গণঅধিকার পরিষদের রেদোয়ান উল্লাহ ২৫৯টি ভোট ও স্বতন্ত্র শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল ৪১১টি ভোট পেয়েছেন। আসনটির ৪ লাখ ১৮ হাজার ১৫৮টি ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৬৭টি জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এখানে ৫৭.৬৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। এতে জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীদেরকে সর্বনিম্ন প্রায় ৩০ হাজার ১২০ ভোট পেতে হতো।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিপত্রে বলা আছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। ফলে প্রয়োজনীয় ভোট পাওয়ার ফলে বাজেয়াপ্ত হবে তাদের জামানত।
মোহাম্মদ রফিকুল/সুমন/