রাজশাহী শহরের প্রাণকেন্দ্র রেলগেট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ পথ ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। যানবাহনের চাপ, রেললাইন অতিক্রমের অপেক্ষা এবং সড়কের সীমাবদ্ধতার কারণে এখানে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। এ বাস্তবতা বিবেচনায় রেলগেট এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণ নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বর্তমানে ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও এর ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সড়কের বিভিন্ন অংশ খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণ সরঞ্জামে ব্লক থাকায়, যান চলাচল ব্যাহত এবং পথচারীদের চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যানজট শুধু রেলগেটেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। অর্থাৎ একটি সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে স্বল্পমেয়াদে একাধিক নতুন সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সময়মতো পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ছোট ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং কর্মজীবী মানুষ প্রতিদিন কর্মঘণ্টা হারাচ্ছেন। ফ্লাইওভার প্রকল্পের সাফল্য নির্ভর করছে কাজের গতি, সমন্বয় ও তদারকির ওপর। নির্মাণকাজে পর্যাপ্ত জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার, দিন-রাত শিফটে কাজ পরিচালনা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কার্যকর পরিকল্পনা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান- ফ্লাইওভার নির্মাণকাজে আরও গতি আনুন। পর্যাপ্ত জনবল ও যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা এখন সময়ের দাবি। রাজশাহীবাসী উন্নয়ন চায়, কিন্তু অযথা দীর্ঘসূত্রতা নয়। দ্রুত, মানসম্মত ও নিরাপদভাবে রেলগেট ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হোক- এটাই এখন নগরবাসীর প্রত্যাশা।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ইসলাম
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]