কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, আর এর জন্য সুস্থ ও ত্রুটিমুক্ত পশু নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। তবে কিছু ক্ষেত্রে পশুর অসুস্থতা বা অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, যেমন পাগল পশুর কোরবানি। এই বিষয়টি নিয়ে ইসলামি শরিয়তে সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে, যা আমাদের জানা থাকা প্রয়োজন।
সাধারণত, কোরবানির পশুর কিছু মৌলিক শর্ত থাকে। পশুটি নির্দিষ্ট বয়সের হতে হবে এবং সুস্পষ্ট কোনো শারীরিক ত্রুটি থাকা চলবে না যা তার সুস্থতাকে প্রভাবিত করে। এই ত্রুটিগুলো পশুকে তার স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বিরত রাখে অথবা তার মাংসের গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
পাগল পশুর ক্ষেত্রে বিধান
হযরত হাসান (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, পাগল পশুর কোরবানি জায়েজ। এর মানে হলো, যদি কোনো পশু পাগলাটে আচরণ করে, কিন্তু তার মৌলিক কার্যক্রম, যেমন: খাওয়া-দাওয়া এবং মাঠে চরা এগুলো যদি স্বাভাবিক থাকে, তাহলে সেই পশু কোরবানি করা যাবে। অর্থাৎ, পশুর মস্তিষ্কবিকৃতি যদি এমন না হয় যে সে খাবার বা পানি গ্রহণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে বা একেবারেই চারণভূমিতে যেতে অক্ষম হয়, তাহলে তার কোরবানি জায়েজ। এই ধরনের পশুর কোরবানি বৈধ হওয়ার কারণ হলো, তার পাগলামি মাংসের গুণগত মানকে প্রভাবিত করে না এবং সে স্বাভাবিক পশুর মতোই জীবনধারণ করে।
কখন পাগল পশুর কোরবানি জায়েজ নয়
তবে, যদি পশুর পাগলামি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে সে ঘাস বা পানি গ্রহণ করতে পারে না এবং মাঠে চরে না, তাহলে সেই পশুর কোরবানি জায়েজ হবে না। এর কারণ হলো, যখন একটি পশু তার মৌলিক জীবনধারণের ক্ষমতা হারায়, তখন তাকে ত্রুটিপূর্ণ বলে গণ্য করা হয়। যে পশু খেতে পারে না বা চরে না, তার দৈহিক দুর্বলতা ও অপুষ্টির কারণে মাংসও মানসম্মত থাকে না। এ ধরনের পশু কোরবানি করলে কোরবানির উদ্দেশ্য পূরণ হয় না, কারণ কোরবানি মূলত সুস্থ ও সবল পশু দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার একটি মাধ্যম।
গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা
কোরবানির জন্য পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সুস্থতা এবং সবলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশুর শারীরিক অবস্থা ভালো থাকা উচিত, যাতে তার মাংস উৎকৃষ্ট মানের হয় এবং তা আল্লাহর পথে দান করার উপযুক্ত হয়। সুতরাং, যদি কোনো পশু পাগল হয় কিন্তু তার খাবার গ্রহণ, মাঠে চরা এবং দৈহিক বৃদ্ধি স্বাভাবিক থাকে, তাহলে তার কোরবানি জায়েজ। কিন্তু যদি পাগলামির কারণে পশুর এসব স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং সে দুর্বল বা রুগ্ন হয়ে পড়ে, তবে তার কোরবানি করা উচিত নয়। এক্ষেত্রে সুস্থ ও সবল অন্য পশু নির্বাচন করা উচিত।
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক