ইলিশ মাছ ভাজা
আদ্দিস আবাবার বিখ্যাত পর্যটক আম্বে চু চু আড়াই হাজার বছর আগে উটে চড়িয়া বঙ্গদেশ পর্যটনে আসেন। বেশ কয়েক মাস নানা শহর ভ্রমণান্তে একদিন পদ্মা নদীর কিনারে উপস্থিত হন। সেই স্থানে বড়সড় এক আম্রবৃক্ষ দেখিয়া তাহার নিচে গুটিকয় দিন গুজরান করার মনোবাসনা করেন। তৎক্ষণাৎ বৃক্ষের নিচে তাঁবু স্থাপন করিয়া নদীজলে স্নানের নিমিত্তে লুঙ্গি পরিধান করেন।
বেশ কিছুক্ষণ জলকেলি এবং সাঁতার সমাপনান্তে নদী হইতে ভূমিতে উঠিয়া আসেন। আচমকা তাহার লুঙ্গি অভ্যন্তর হইতে টুপ করিয়া এক পিস ইলিশ মৎস্যের আবির্ভাব হয়। পর্যটক আম্বে চু চু মৎস্য দেখিয়া যারপরনাই অভিভূত হইয়া যান এবং দ্রুত তাহা রন্ধনের উদ্দেশ্যে পাতিলে চড়ান।
হঠাৎ এক পাতিশিয়াল পাতিলের ইলিশ চুরির উদ্দেশ্যে হানা দিলে আম্বে চু চুর নজরে পড়িয়া যায়। আম্বে চু চু লাঠি নিয়া পাতিশিয়ালের পেছন পেছন দৌড় দেন, কিন্তু শিয়ালের আক্রমণে পাতিলের ইলিশ যে চুলার আগুনের মধ্যে পড়িয়া গিয়াছে তিনি আর তাহা দেখেন নাই।
পাতিশিয়াল দাবড়াইয়া ফেরার পর আম্বে চু চু দেখেন পাতিলের মাছ চুলার আগুনে পুড়িয়া ফ্রাই হইয়া গিয়াছে। এক দিকে ক্ষুধা অন্য দিকে পোড়া মাছ! কী আর করা, আম্বে চু চু পোড়া মাছ খাইবার সিদ্ধান্ত নিয়া যেই না কামড় বসাইলেন, অমনি ইলিশের সুবাস আর ঘ্রাণে তাহার পরাণ ভরিয়া গেল। অতঃপর আম্বে চু চু পদ্মাতীরবাসীদের এই পদ্ধতিতে ইলিশ রন্ধন শিক্ষা দিয়া বিখ্যাত হইয়া যান। এই পদ্ধতির রন্ধনকে এখন ইলিশ ভাজা বলে।
পান্তা ভাত
বহুকাল আগে বঙ্গ দেশে হাশমত আলী নামীয় এক দরিদ্র প্রজা বসবাস করিতেন। একদা রাত্রিতে বায়োস্কোপ দেখার উদ্দেশ্যে হাশমত গৃহ হইতে নির্গত হইলেন। ইহা দেখিয়া হাশমতের স্ত্রী আরজ করিলেন, হ্যাগো...ভাতাহার করিয়া বায়োস্কোপ দেখিতে যান।
হাশমত তাহাতে কর্ণপাত করিলেন না। প্রত্যুত্তরে তিনি বলিলেন, আমি কিছুক্ষণান্তে ফিরিয়া আসিতেছি। তখন আহার সারিব।
বায়োস্কোপের নেশায় হাশমত এতই বিমূঢ় হইয়া গেলেন যে, গৃহে প্রত্যাবর্তন করিবার কথা মনেও থাকিল না। পূর্ণ রজনি বায়োস্কোপ দেখার পর প্রভাতে হাশমত গৃহে প্রত্যাবর্তন করিলেন।
ওদিকে তৎক্ষণে হাশমতের বড্ড ক্ষুধা পাইয়াছে। স্বীয় স্ত্রীকে সে ব্যাপারে অবগত করিলে তিনিও অবগত করেন যে, রাতের খাবার হিসেবে যে ভাত প্রস্তুত রাখা হইয়াছিল। তাহাই তিনি সংরক্ষণ করিয়া রাখিয়াছেন।
হাত-মুখ পরিষ্কার করণান্তে হাশমত উক্ত ভাত আহারের নিমিত্তে মাদুরে বসিলেন। যখন ভাত পরিবেশিত হইল, তখন হাশমত দেখিলেন যে ভাত খানিকটা দুর্গন্ধযুক্ত এবং নরম হইয়াছে। হাশমত উক্ত ভাত আহারে অস্বীকার করিলে স্ত্রী অবগত করেন যে, আর ভাত নাই। এমনকি নতুন করিয়া ভাত রাঁধার জন্য ঘরে কোনো চাউলও নাই। অগত্যা হাশমত লবণ, কাঁচামরিচ এবং পেঁয়াজ যোগে ইচ্ছেমতো মাখাইয়া মুখে দিতেই মজার চোটে তাহার নয়নযুগল বন্ধ হইয়া আসিল। হাশমত সেই খাবারের নাম দিলেন পান্তা। অচিরেই পান্তার হোটেল দিয়া হাশমত বিখ্যাত হইলেন এবং তার দারিদ্র্য ঘুচাইলেন।