• এক গ্রামে নির্বাচন হবে। বিশাল বড় এক নেতা এসেছেন জনসভা করতে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি গদগদ হয়ে ভাষণ দিচ্ছেন, ‘ভাই ও বোনেরা, আমাকে ভোট দিন! কথা দিচ্ছি, এই গ্রামে পাকা রাস্তা করে দেব!’
নিচ থেকে এক গ্রামবাসী হাত তুলে বলল, ‘নেতা সাহেব, আমাদের তো গাড়ি নেই, রাস্তা দিয়ে কী হবে?’
নেতা একটুও না দমে হাসিমুখে বললেন, ‘কোনো চিন্তা করবেন না! রাস্তা হলে আমি সবার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে দেব! কালভার্ট, ব্রিজও বানিয়ে দেব।’
এক কোণ থেকে এক যুবক দাঁড়িয়ে বলল, ‘কিন্তু নেতা সাহেব, আমাদের গ্রামে তো কোনো খাল-বিল নেই, তা হলে কালভার্ট আর ব্রিজ দিয়ে কী হবে?’
নেতা এক মুহূর্ত দেরি না করে দরাজ গলায় উত্তর দিলেন, ‘শোনো হে যুবক, আমি শুধু কাজ করায় বিশ্বাসী না, আমি অসাধ্য সাধনে বিশ্বাসী! আগে আমি কালভার্ট আর ব্রিজ বানাব, তার পর তোমাদের গ্রামে অন্য এলাকা থেকে খাল কেটে পানি নিয়ে আসব। আর যদি পানি না আসে, তবে মনে রাখবে–বন্যায় যখন গ্রাম ডুববে, তখন ওই ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়েই তোমরা রোদ পোহাতে পারবে!’
নেতার এমন দূরদর্শী কথা শুনে গ্রামবাসী তালি দেবে না কী কাঁদবে, তা আর ভেবে পেল না!
• একবার এক তরুণ সাংবাদিক এক প্রবীণ ঝানু রাজনীতিবিদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন।
সাংবাদিক: স্যার, রাজনীতিতে সফল হওয়ার মূল মন্ত্রটা কী?
নেতা: বেশি কিছু না বাবা, শুধু দুটো জিনিস লাগে। এক হলো দূরদর্শিতা, আর দুই হলো স্মৃতিশক্তি।
সাংবাদিক: একটু বুঝিয়ে বলবেন কি?
নেতা: দূরদর্শিতা হলো এমন এক ক্ষমতা, যা দিয়ে তুমি আজই জোর গলায় বলতে পারবে যে আগামী পাঁচ বছর পর দেশে কী কী উন্নয়ন হবে। আর স্মৃতিশক্তি হলো পাঁচ বছর পর সাধারণ মানুষকে এটা বুঝিয়ে বলার ক্ষমতা যে–কেন ওই কাজগুলো একটাও করা সম্ভব হয়নি!
• এক প্রভাবশালী নেতা মারা যাওয়ার পর স্বর্গের গেটে গিয়ে হাজির হলেন। চিত্রগুপ্ত তাকে দেখে খাতা খুলে বললেন, ‘আপনার যা আমলনামা, তাতে তো আপনাকে নরকে পাঠানোর কথা। তবে আপনি যেহেতু বড় নেতা ছিলেন, আপনাকে একটা সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আপনি নরক আর স্বর্গ–দুটোই ঘুরে দেখুন, তার পর সিদ্ধান্ত নিন কোথায় থাকবেন।’
নেতা প্রথমে গেলেন নরকে। সেখানে গিয়ে দেখলেন বিশাল পার্টি চলছে, দামি সব খাবার, আর তার পুরোনো সব রাজনৈতিক বন্ধুরা ফুর্তি করছে। নেতা মনে মনে ভাবলেন, ‘আরে, নরক তো দেখি চমৎকার জায়গা!’
এর পর তিনি স্বর্গে গেলেন। সেখানে দেখলেন সবাই শান্তিতে ধ্যান করছে, সাদা ধবধবে পরিবেশে হালকা সুর বাজছে। নেতার কাছে স্বর্গটা বেশ বোরিং মনে হলো।
তিনি ফিরে এসে বললেন, আমি নরকেই যাব।
যেই না তিনি নরকের দরজায় পা রাখলেন, অমনি চারদিক থেকে আগুন আর চিৎকার ভেসে এল। শয়তানরা তাকে ধরে তপ্ত কড়াইয়ের দিকে নিয়ে যেতে লাগল। নেতা চিৎকার করে বললেন, ‘আরে! একটু আগে তো দেখলাম এখানে পার্টি চলছিল, দামি খাবার ছিল! ওসব গেল কোথায়?’
শয়তান হেসে জবাব দিল, ‘নেতা সাহেব, আপনি তো অভিজ্ঞ মানুষ, আপনিও ধোঁকা খেলেন? ওটা ছিল নির্বাচনের আগের প্রচার, আর এখন যেটা দেখছেন সেটা হলো ভোটের পরের বাস্তবতা!’