আবিরের গার্লফ্রেন্ডের শখ ছিল দামি একটা মোবাইল কেনা। যখন সেই শখ পূরণ হলো না, আবিরকে ছেড়ে চলে গেল। আবির ভাবল যে প্রেমিক গার্লফ্রেন্ডকে একটা আইফোন গিফট দিতে পারে না, তার জীবনে গার্লফ্রেন্ড থেকে লাভ কী! অথচ এই মেয়ে বলেছিল, কিয়ামত হয়ে গেলেও তাকে ছেড়ে যাবে না। আবির তার কথা বিশ্বাস করেছিল।
তাদের পরিচয় হয়েছিল ফেসবুকে। আবির ভাবল, এই ফেসবুকের কারণেই সে আজ তার গার্লফ্রেন্ডের কাছে ধোঁকা খেল, অতএব সে আর জীবনেও ফেসবুক চালাবে না। সে পোস্ট দিল, হে ফেসবুকবাসী, বিদায়।
ভেবেছিল এই পোস্ট তার এক্স গার্লফ্রেন্ড দেখবে এবং সে ছোট্ট করে হলেও সহানুভূতি জানাবে। এটুকু প্রতিক্রিয়া সে আশা করতেই পারে।
হ্যাঁ, প্রতিক্রিয়া এসেছে, তবে এক্স গার্লফ্রেন্ড থেকে না, দুনিয়ার সব মাতাল আর বিড়িখোর ভাই ব্রাদার থেকে। তারা বলল, ভাই মারা যখন যাইবেন কিডনিটা আমাকে দিয়ে যান। কেউ কেউ চাইল চোখ।
রাগে-দুঃখে আবির নিজের রুমে চুপচাপ বসে রইল। এর মধ্যে এক মেয়ে লিখেছে, ভাইয়া আপনার এই পোস্টে কী প্রতিক্রিয়া দেব বুঝতেছি না।
আবির বিরক্ত হয়ে লিখল, শুধু রিয়েক্ট দিতে হবে এমন কোনো কথা নেই, চাইলে টিভি ফ্রিজ নগদ টাকা পয়সাও দিতে পারেন, আমি মাইন্ড করব না।
আরেক বন্ধু ফোন দিয়ে বলল, কই থাকিস? দরকারে তোকে ফোন দিয়ে পাই না!
আবির বিরক্ত গলায় বলল, শুধু দরকার পড়লেই ফোন দিস এজন্যই তো ধরি না।
— ঘটনা সত্যি নাকি রে? তুই কি সত্যি সত্যি মরতে চাস? আমার চাচাতো শালির জামাইয়ের জন্য তোর কিডনিটা লাগবে। আমি আসতেছি, কী খাওয়াবি বল?
আবির বলল, দুই দিনের দুনিয়া, মরতে তো হবেই। কী খেতে চাস?
— তেমন কিছু না, মোরগ পোলাও খাওয়ালেই হবে। প্রিয় বন্ধু থেকে শেষ খাবারটা খেয়ে যাই।
— ঠিক আছে, আসার সময় মোরগ পোলাও কিনে নিয়ে আয়।
বন্ধু রেগে গেল, শালা মরার আগেও কিপটামি করে মরবি? মরবি যখন বন্ধুদের কাছ থেকে একটু হলেও সহানুভূতি নিয়ে মর!
পাশের দোকান থেকে আবির চা সিগারেট মাসিক বাকি খায়। সেই দোকানদার ফোন দিয়ে বলল, ভাইজান, আপনার বকেয়া আছে ১২ হাজার ১ টাকা। টাকা না দিয়া মরলে আপনার কইলাম খবর আছে।
আবির একটা মেসে আরও দুজনের সঙ্গে একটা রুম ভাড়া নিয়ে থাকে। মেসের দুজন খাতা খুলে হিসাব নিয়ে বসেছে। সে মারা গেলে ভাগের টাকা কে দিবে! তাই আগেভাগে লেনদেন শেষ করতে চায়।
কাজের বুয়া এসে ঠাস করে পায়ে সালাম করে বলল, গুড ডিসিশন লইছেন ভাইজান। টেনশন লইয়েন না, আমি আছি আপনার লগে। ফ্যানে ঝুলবেন, মামলা ডিসমিস। যাওয়ার আগে আমারে কিছু বকশিশ দিবেন না ভাইজান?
আবির অবাক হয়ে দেখে, দুই দিনের দুনিয়ায় কেউ কারও বিষয়ে মাথা ঘামায় না। শুধু নিজের স্বার্থ দেখে।
বাড়িওয়ালার পরিবারের সঙ্গে আবিরের একটা সুসম্পর্ক আছে। তার এক ছেলে এক মেয়ে। বাড়িওয়ালি অসুস্থ। টুকটাক যেকোনো কাজে বাড়িওয়ালা তাকে ডাকেন।
এর মধ্যে বাড়িওয়ালার ছোট ছেলেটা এসে হাজির। সে প্রায়ই আবিরের কাছে আসে অঙ্ক শেখার জন্য। আজকে এসেছে একটা অঙ্ক নিয়ে, এক্সের মান বের করে দিতে হবে।
এমনিতেই মন-মেজাজ খারাপ, আবির বাচ্চার খাতায় লিখে দিল, এক্সের আবার মান কী? এক্স মানেই বেইমান!