খোরশেদ তার ফল ব্যবসায় সুদিন ফিরে পেয়েছে। মোটা অঙ্কের টাকা ইনভেস্ট করে সে এখন বাজারের শীর্ষস্থানীয় ফল বিক্রেতা। রোজ তার অভাবনীয় কাস্টমার আসে। সারি সারি সাজিয়ে রাখা হরেক রকম ফল বিক্রির লোভে সে উঁচু গলায় চেঁচিয়ে ক্রেতাদের ডাকে- আসেন আসেন। ফল কেনেন। ফল খান। ভেজালমুক্ত ফল।
যদিও সে ভেজালমুক্ত ফলের ভাষণ দিলেও তার অনেক ফলে ফরমালিন মেশানো থাকে, যা সে ক্রেতাদের বুঝতে দেয় না।
আজ দোকান খোলার পর থেকে খোরশেদ লক্ষ করল একজন ভদ্রলোক অনেকক্ষণ ধরে তার দোকানের সামনে ঘোরাঘুরি করছে আর ফল দেখছে। দেখে মনে হচ্ছে লোকটা ফল কিনবে। খোরশেদ ডাক দেয় তাকে।
- চাচা, ফল লাগবে?
- লাগবে।
- আপেল না কমলা?
- আপেল লাগবে। আপনার দোকানে কি ফরমালিন মেশানো আপেল হবে?
- না না। আমি ফরমালিন মেশানো কোনো ফল বিক্রি করি না।
- কিন্তু আমার যে ফরমালিন মেশানো আপেল লাগবে।
- মানে? কী বলেন চাচা? ফরমালিন মেশানো আপেল দিয়ে কী করবেন?
- আপেল আমার ছেলের জন্য।
- কেমন বাবা আপনি! ছেলেকে ফরমালিন মেশানো ফল খাওয়াবেন?
- আসলে আমার ছেলেটা উদ্ভিদবিজ্ঞানের ছাত্র তো, তাই পরীক্ষা করে দেখবে কীভাবে ফল থেকে ফরমালিন আলাদা করতে হয়। কিন্তু আপনার কাছে যেহেতু ফরমালিনের আপেল হবে না, তাহলে আমি চলে যাচ্ছি।
মহা মসিবতে পড়ল খোরশেদ। একটু আগে চেঁচিয়ে বলল ভেজালমুক্ত ফলের বয়ান। এখন যদি ফরমালিন আপেল দেওয়া হয়, তাহলে তো তার মানসম্মান সব শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু লোকটিকে চলে যেতে দেখে খোরশেদ একজন ক্রেতাকে হারানোর ভয়ে তাকে আস্তে করে ডাকে।
- চাচা, আমার কাছে ফরমালিনের আপেল আছে। ব্যবসার অনেক রকম টেকনিক আছে তো, তাই ভেজালমুক্ত ফল বলে চালাচ্ছি।
- তাহলে আমাকে ওই পাত্র থেকে বাছাই করে সবগুলো ফরমালিনের আপেল দিন।
খোরশেদ মনের সুখে দুই মিনিটের মধ্যে পাত্র থেকে সবগুলো ফরমালিন মেশানো আপেল আলাদা করে ফেলল।
- চাচা, নেন। এগুলো সব ফরমালিন মেশানো আপেল।
- না। এগুলো আমি নেব না। আমাকে ভেজালমুক্ত সবগুলো আপেল দিন আর দাম বলুন।
- মানে? আপনার উদ্ভিদবিজ্ঞানের ছাত্র ছেলের জন্য আপেল নেবেন না?
- চুপ থাকেন। আমার ছয়টা মেয়ে। ছেলে নেই। এটা আমার টেকনিক। এই টেকনিক অবলম্বন না করলে সত্যিকারের ভেজালমুক্ত আপেলগুলো পেতাম না।
- চাচা, কাজটা ঠিক করলেন না কিন্তু।
- আমাকে মেজাজ দেখাচ্ছেন মনে হচ্ছে। বেশি ফাজলামো করলে লোক ডেকে আপনার মুখোশ খুলে দেব। মিয়া ফরমালিন মেশানো ফল বেচেন!
- ইয়ে, না মানে! চাচা মেজাজ কই দেখালাম! আচ্ছা, এই ভেজালমুক্ত আপেলগুলো নিন।
কী আর করা! চতুর লোকটার চালাকির কাছে খোরশেদকে হার মানতে হলো। নিজেকে সে সব সময় চালাক মনে করে, কিন্তু তার থেকেও যে অনেক বড় চালাক এই দুনিয়াতে আছে, তা খোরশেদের বোধগম্য ছিল না।