সকালে অফিসে যাওয়ার আগে চা খেতে খেতে বউকে জিজ্ঞেস করলাম, বিস্কুট দেওনি কেন?
ব্যস বউ ঝগড়া করার ক্লু পেয়ে গেল। মুখ বাঁকা করে বলল, তোমার ভুঁড়ির দিকে তাকালে যে কেউ মনে করবে তুমি একজন দেশবিখ্যাত ঘুষখোর। তোমার গাড়ি, বাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স কোনোকিছুরই অভাব নেই। বাস্তবে তুমি একজন আন্তর্জাতিক মানের ফকির। আমি হলাম আন্তর্জাতিক ফকিরের বউ। বাসায় কয় মণ বিস্কুট এনে রাখছিলা?
আমি সুড়ুৎ করে চায়ে একটা চুমুক দিয়ে বললাম, সামান্য একটা কথাতেও এমন অক্টোপাসের মতো পেঁচিয়ে ধরতে হবে? আচ্ছা, তোমাদের মেয়েদের কি ঝগড়া করার জন্য কোনো কারণ লাগে না?
বউ আমার পাশে বসতে বসতে বলল, ঝগড়া করার জন্য মেয়েদের কারণ লাগবে কেন? শুধু একজন জামাই থাকলেই চলে।
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম, টিভি-ফ্রিজ-মোবাইল কিনলে কোম্পানির গ্যারান্টি-ওয়ারেন্টি থাকে, অচল মাল পাল্টানোর অপশন পাওয়া যায়। জামাই পাল্টানোর অপশন কেন যে নাই! যদি থাকত তাহলে নিশ্চয় আমার মতো এমন অপদার্থ নিয়ে তোমার সংসার করতে হতো না।
কথা শুনে বউ আমার দিকে এমন চোখ নিয়ে তাকাল, যার অর্থ দাঁড়ায়, জীবনে এই প্রথম তোমার মুখে একটা সঠিক কথা শুনলাম!
— ভাবছিলাম বিয়ের পর জামাই বউ মিলে প্রেমের আলো জ্বালাব, তুমি এসেই সর্বপ্রথম আমার বাত্তি ফিউজ করে দিলা। আমার জীবন এখন অন্ধকার। খুবই দুঃখজনক।
— আলো জ্বালাতে হেডাম লাগে। আছে তোমার হেডাম?
কোনো এক মনীষী বলেছেন, পুলিশ আর বউয়ের সঙ্গে ভুলেও ঝামেলায় জড়াবেন না, বিনা অপরাধে ফেঁসে যাবেন। আমি ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে চুপ হয়ে বসে রইলাম। আগে যদি জানতাম বউ মানেই প্যারার গোডাউন, করোনার সময়ে মোটেই মুখে মাস্ক লাগাতাম না, করোনার টিকাও নিতাম না।
চুপচাপ থাকায় বউ আরও রেগে গেল। সে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, কী স্পিকটি নট হয়ে গেলা কেন? কথা খুঁজে পাচ্ছো না?
আমি বউয়ের দিকে তাকিয়ে বললাম, আচ্ছা, আমার সাদা মনে একটা বেগুনি কালারের প্রশ্ন আছে। স্বামীকে যদি এতটাই ঘৃণা করো, তাহলে বিয়ে করার দরকার ছিল কি? স্বামীকে ভালোবাসা দিয়ে ঘর বাঁধা যায় না?
বউ চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, ফাউল কথা বলো কেন? যদি সব ঘর ভালোবাসা দিয়েই বাঁধতে হয়, রড সিমেন্টের কী দরকার।
আমি মনে মনে বললাম, লে হালুয়া! আমি বলি কী, সারিন্দা বাজায় কী!
আমি বউয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম, দেখো আমি তোমাকে মন দিয়েই ভালোবাসি। তুমি ভালো করেই জানো, তুমি মুখে খাবার তোলা না পর্যন্ত আমি মুখে কিছু দিই না। আগে তুমি খাও তারপর আমি খাই। স্বামী ছাড়া এমন রেসপেক্ট আর কোথাও পাইবা?
বউ মাথার চুল ঠিক করতে করতে বলল, এটাকে রেসপেক্ট বলে না, সন্দেহ বলে। খাবারের ভেজাল টেস্ট করার জন্য এর চেয়ে ভালো বুদ্ধি আর হয় না। তুমি সন্দেহ করো, যদি তোমার খাবারে বিষটিষ কিছুই মিশাই!
আমি আবারও মনে মনে বললাম, লে হালুয়া! তারপর অফিসে রওনা হয়ে গেলাম।
রাতে চুপচাপ খেয়ে বিছানার এককোনায় শুয়ে মোবাইল চালাচ্ছি। বউও অন্যপাশে শুয়ে মোবাইল দেখছে। আমি ফেক আইডি থেকে বউয়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ চ্যাট করার পর জিজ্ঞেস করলাম, ম্যাডাম, আপনার জামাই আছে।
বউ উত্তর দিল, আরে নাহ! ওই ব্যাটা তো কবেই মরে গেছে!
আমি হার্ট অ্যাটাক হতে হতে কোনোরকমে বেঁচে গেলাম।