একই আসরে লড়াই করা দুই বক্সারের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর জাপান বক্সিং কমিশন (জেবিসি) নতুন করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এবার থেকে ম্যাচের আগে মূত্র পরীক্ষা, হঠাৎ ওজন কমানোর বিরুদ্ধে কড়া নিয়ম এবং রিংসাইড চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন বাধ্যতামূলক করা হবে।
গত ২ আগস্ট টোকিওর কোরাকুয়েন হলে অনুষ্ঠিত পৃথক লড়াইয়ে গুরুতর মস্তিষ্ক আঘাতের শিকার হন সুপার ফেদারওয়েট শিগেতোশি কোটারি (২৮) এবং লাইটওয়েট হিরোমাসা উরাকাওয়া (২৮)। পরে দুজনই হাসপাতালে মারা যান।
কোটারি ওপিবিএফ শিরোপা লড়াইয়ের ১২ রাউন্ড শেষে সাবডিউরাল হেমাটোমায় আক্রান্ত হন- যেখানে মস্তিষ্ক ও খোলের মাঝখানে রক্ত জমে। রিং থেকে নিজে হেঁটে বের হলেও দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের পর মারা যান। উরাকাওয়া ইয়োজি সাইতর বিপক্ষে লড়াইয়ে মাথায় আঘাত পান এবং কোটারির মৃত্যুর একদিন পর তিনিও মৃত্যুবরণ করেন।
যদিও মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন মেলাতে দ্রুত পানিশূন্যতা সৃষ্টি করলে মস্তিষ্ক বেশি ঝুঁকিতে পড়ে এবং রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
এ ঘটনায় বিশ্ব বক্সিং কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মৌরিসিও সুলাইমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ শোক জানিয়ে বলেন, “জাপানে একই আসরে লড়া দুই বক্সারের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তাদের আত্মা শান্তি পাক, আর এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে বক্সারদের সুরক্ষায় নতুন পথ তৈরি করুক।”
জেবিসি, জিম মালিক এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠকে বসে বেশ কিছু পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে আছে- ওপিবিএফ শিরোপা লড়াই ১২ রাউন্ড থেকে ১০ রাউন্ডে নামানো, ম্যাচের আগে মূত্র পরীক্ষা করে বক্সারের জলীয় অবস্থা নিশ্চিত করা এবং ম্যাচের আগের দিন থেকে ম্যাচের দিন পর্যন্ত যদি কোনো বক্সারের ওজন ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়, তাহলে তাকে পরের ম্যাচে উচ্চতর ওজন শ্রেণিতে লড়তে হবে।
এ ছাড়া প্রতিটি ইভেন্টে অ্যাম্বুলেন্স ও এমন হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হবে যেখানে মাথায় আঘাত বা গুরুতর চোটের জরুরি অস্ত্রোপচার সম্ভব। এর আগে এতদিন কেবল বিশ্ব শিরোপা লড়াইয়েই এ নিয়ম ছিল।
জেবিসির মহাসচিব সুশিওশি ইয়াসুকোচি বলেন, 'এই দুই বক্সারের মৃত্যু যেন বৃথা না যায়, সে জন্য আমরা সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেব।'
জাপান প্রো বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শোজি কোবায়াশি জানান, নতুন নিয়মে ম্যাচের কতদিন আগে থেকে স্প্যারিং বন্ধ করতে হবে তাও নির্ধারণ করা হবে।
গত দুই বছরে জাপানে একাধিক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের শুরুতে ২৩ বছর বয়সী কাজুকি আনাগুচি একাধিকবার নকডাউন হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা যান। এ বছরের মে মাসে ওসাকায় জিনজিরো শিগেওকা লড়াই শেষে গুরুতর অসুস্থ হয়ে অস্ত্রোপচারের পর বাধ্যতামূলক অবসরে যান।
সাবেক ওয়েলটারওয়েট চ্যাম্পিয়ন ও টোকিওর জিম মালিক তোশিহারু কায়ামা সতর্ক করে বলেন, 'এ ধরনের ঘটনা শীর্ষ পর্যায়ের বক্সারদের ক্ষেত্রেও ঘটছে, তাই হয়ত আবারও বক্সিং নিষিদ্ধের দাবি উঠতে পারে।' সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মেহেদী/নিলয়/