বার্সেলোনার হয়ে একের পর এক ট্রফি জিতলেও জাতীয় দলের হয়ে লিওনেল মেসি ছিলেন একেবারে নিষ্প্রভ। ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল হারার পর হারেন ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালেও।
২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরাজিত হয়ে অভিমানে দেন অবসরের ঘোষণা। কিন্তু ভক্ত ও সমর্থকরা মেনে নিতে পারেননি মেসির এমন আচমকা অবসর। সবার ভালোবাসায় সাড়া দিয়ে পরে ফিরে আসেন অবসর ভেঙে।
অবসরের পর ফিরলেও ২০১৮ বিশ্বকাপে ফের হতাশ হন তিনি। ২০২২ বিশ্বকাপে মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা হট ফেবারিট হয়ে কাতারে পাড়ি জমালেও সৌদি আরবের কাছে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরে ফের জন্ম দেন শঙ্কা। কিন্তু মেসি ও তার দলের দলগত পারফরম্যান্সে স্বপ্নের সোনালি ট্রফি দীর্ঘ ২৮ বছর পর ধরা দেয় আর্জেন্টিনার কেবিনেটে। পূর্ণতা পায় মেসির ক্যারিয়ারও।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জেতার পর সবাই ধরে নিয়েছিল এবার অবসরে যাবে মেসি। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন জার্সিতে আরও কিছুদিন খেলতে চান তিনি। বিশ্বকাপ জয়ের আড়াই বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও ৩৮ বছর বয়সী মেসিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে দলে চান আর্জেন্টাইন ভক্ত ও সমর্থকরা।
আটবারের এই ব্যালন ডি’অর জয়ী যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন তাকে আসন্ন বিশ্বকাপে দেখতে চান সাবেক-বর্তমান অনেক খেলোয়াড়ও। মেসিকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে দেখতে চাওয়াদের তালিকায় আছেন আনহেল ডি মারিয়াও।
‘লা নাসিওনালকে’ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডি মারিয়া বলেছেন, ‘হ্যাঁ, দেখতে চাই। এখন কেমন আছে এবং সামনে কি ঘটবে সেটা কোনো বিষয় নয়, লিওকে বিশ্বকাপে খেলতেই হবে। সে জাতীয় দলকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং দর্শক-সমর্থকদের রোমাঞ্চিত রাখে, এটাই তার আসল পরিচয়।’
ডিয়েগো ম্যারাডোনার মতো মেসিকেও জাদুকর বলে মনে করেন ডি মারিয়া। দুই কিংবদন্তিই ভিন্ন গ্রহের উল্লেখ মারিয়া বলেছেন, ‘ডিয়েগো তার সময়ে যেমনটা ছিলেন ঠিক তেমনি। দুজনই অন্য গ্রহের। আমাদের এটা উপভোগ করতে হবে। আশা করি, সে ভালো অবস্থানে থাকবে। লিও হচ্ছে অ্যালিয়েন।’
মেসি বর্তমানে খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের দল ইন্টার মায়ামিতে। আগামী বছরের বিশ্বকাপের অন্যতম ভেন্যুও এই যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যেই নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন মেসি সেই পরিবেশের সঙ্গে ৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপে খেলার জন্য।
নিলয়/