প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে নাস্তানাবুদ করে ম্যাচ জেতার পর অনেকেই মনে করেছিলেন বাংলাদেশ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ধবল ধোলাই করবে। যারা এ রকমটি ভেবেছিলেন, তারা ভুলে গিয়েছিলেন দলটি পাকিস্তান। যাদের নামের আগে-পরে আনপ্রেডিক্টেবল শব্দটি থাকে। এক ম্যাচ ভালো খেলতে না পারা মানেই তারা দুর্বল নয়। পরের ম্যাচেই আবার ফিরতে পারে প্রবল বিক্রমে। ইতিহাস ঘাটলে এ রকম নজির বহু পাওয়া যায়। এ রকম একটি নজির তারা আবার গড়েছে। এবার তাদের প্রতিপক্ষ ছিল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে তারা যেভাবে প্রথম ম্যাচ হেরেছিল, সেভাবেই ফিরিয়ে দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ৩০.৩ ওভারে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়েছিল। বাংলাদেশ সেই রান তাড়া করেছিল টি-টোয়েন্টি স্টাইলে খেলে মাত্র ১৫.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে। এবার পাকিস্তানের করা ২৭৪ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদশে ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। ওভার খেলে মাত্র ২৩.৩টি। বৃষ্টির কারণে অবশ্য বাংলাদেশের টার্গেট ছিল ৩২ ওভারে ২৪৩ রানে। ১২৮ রানে ম্যাচ জিতে পাকিস্তান সিরিজে এনেছে সমতা। তাই শেষ ম্যাচ হয়ে উঠেছে সিরিজ নির্ধারণী অলিখিত ফাইনাল। আজ হবে তার ফয়সালা।
প্রথম ম্যাচে ২০৯ বল হাতে রেখে বাংলাদেশ ম্যাচ জেতার পর যারা পাকিস্তানকে ধবল ধোলাই করার কথা ভেবেছিলেন, তাদের সেই ভাবনা কিন্তু অমূলক ছিল না। এর পেছনে এ রকম জয় ছাড়াও ছিল পাকিস্তানের দলও? বাংলাদেশ সফরে তারা এসেছে ৬ জন নতুন মুখ নিয়ে। এই ৬ জনের বাইরে পুরোনো যারা আছেন, তাদের মাঝে নেই আবার বিশ্বমানের তারকা। শক্তির বিবেচনায় পাকিস্তান তাই খুব বেশি নম্বর পাওয়ার মতো দল নয়। কিন্তু দলটি আনপ্রেডিক্টেবল বলে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যেখানে এখন সিরিজ জয়ের স্বপ্নও দেখছে। শেষ পর্যন্ত সিরিজ জিতলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
পাকিস্তান যেমন আনপ্রেডিক্টেবল, তেমনি বাংলাদেশও ফিরেছে তাদের চির চেনা রূপে। যেখানে আছে শুধুই ব্যাটিং ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার বলয় ভেঙে তারা কদাচিৎ ভালো করে। যেমনটি করেছিল প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে। যদিও সেই ম্যাচ জেতার যাবতীয় কিছু করে রেখেছিলেন বোলাররা পাকিস্তানকে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট করে। কিন্তু সেই স্বল্প রানও তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটাররা অসাধারণ ভালো ব্যাটিং করেন। মাত্র ১৫.১ ওভারেই তারা সেই রান তাড়া করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। এ রকম আক্রমণাত্মক ব্যাটিং সচরাচর বাংলাদেশের ব্যাটারদের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। কিন্তু এ রকম আক্রমণাত্মক মেজাজের ব্যাটিং বাংলাদেশের ব্যাটাররা দ্বিতীয় ম্যাচে আবার করে দেখাতে পারেননি। সেই ভয়াবহ ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রদশর্নীতে তারা ফিরে যান। ইনিংসের মেয়াদ ছিল মাত্র ২৩.৩ ওভার। একমাত্র লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয় ছাড়া আর সবাই ছিলেন ব্যর্থতার মোড়কে ঢাকা। বৃষ্টির কারণে নতুন করে বাংলাদেশকে টার্গেট দেওয়া হয়েছিল ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। বৃষ্টির আগে বাংলাদেশ ৬.৩ ওভার ব্যাটিং করে ৩ উইকেটে ২৭ রান করেছিল। ফলে ২৫.৩ ওভারে তাদের করতে হতো আরও ২১৬ রান। সেখানে বাংলাদেশ ১৭ ওভারে ৮৭ রান যোগ করে। বৃষ্টির আগে যেমন বাংলাদেশ ব্যাটিং ব্যর্থতায় পড়েছিল, তেমনি বৃষ্টির পরেও। কাজেই এখানে বৃষ্টিকে দোষারূপ করার কোনো উপায় নেই। ব্যাটিং ব্যর্থতাই বাংলাদেশের নিত্য সঙ্গী। সেই ব্যর্থতার বলয় থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে বাংলাদেশের সামনে অশনি সংকেতই আছে। কারণ আগে ব্যাট করে যেকোনো প্রতিপক্ষ বড় সংগ্রহ দাঁড় করালেই বাংলাদেশের ব্যাটারদের পক্ষে আর সেই রানা তাড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে।
আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার প্রশ্নে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই সিরিজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। র্যাঙ্কিয়ের দশ থেকে আটে উঠে আসতে হবে। প্রথম ম্যাচ দাপুটে জিতে সেই সম্ভাবনার পালে বেশ ভালোই হাওয়া লাগিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে আবার বাজে ভাবে হেরে সেখানে শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে। পাকিস্তানকে হোয়াইটোয়াশ করতে পারলে সরাসরি খেলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যেত। সেটি হাত ছাড়া হওয়ার পর এবার লক্ষ্য অন্তত সিরিজ জয়। তাহলেও সরাসরি খেলার পাল্লা অনেক ভারী হবে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ একবারই সিরিজ জিতেছে। প্রথম ৫টি সিরিজই পাকিস্তান জেতার পর ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। এরপর আর কোনো সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়নি। সেই হিসাবে সিরিজ এখন বাংলাদেশের কবজায়। এখন দেখার বিষয় বাংলাদেশ সিরিজ ধরে রাখতে পারে কি না?
অনিক/