ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪

নবাবী আমলের গল্প

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:০২ পিএম
আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:০২ পিএম
নবাবী আমলের গল্প

–আজ কিসের গল্প শুনবি?
–চোরের
–কী রকম চোর?
–দারুণ। মানে যেরকম চোর আজকাল আর দেখা যায় না, যেরকম চুরি এখন আর কোথাও হয় না। বেশ আলাদা ধরনের কিছু চাই!
–হুঁ, তাহলে তো দেখছি একেবারে নবাবী আমলে চলে যেতে হয়। আচ্ছা, তাই সই। কিন্তু কেবল চোরের গল্পই বলতে হবে? চোর ধরার কথা শুনতে চাসনে?
–বারে! চোর যদি ধরাই না পড়ল, তবে আর চোরের গল্প কিসের?
–আচ্ছা, ঠিক আছে। শোন– এক যে ছিল পান্তা-চোর, তার জ্বালায় কেউ ঘরে পান্তা ভাত রাখতে পারত না। রান্নাঘরের দরজা যত শক্ত করেই বন্ধ থাক, খেয়ে সে যাবেই। আর জানিস তো, সেই নবাবী আমলে সবাই রাত্তিরে পান্তা ভিজিয়ে রাখত, আর সকালে হুসহাস করে নেবু আর কাঁচা লঙ্কা দিয়ে সেই ভাত খেত। এখন হয়েছে কী, এক বুড়ি–
–এই থাম, আর গল্প বলতে হবে না। রামোঃ, শেষে পান্তাবুড়ির গল্প আরম্ভ করলি? সেই ক্ষুর, গোবর, শিঙিমাছ…
–মোটেই না, কে বলেছে 
পান্তাবুড়ির গল্প?
–তা ছাড়া আর কী! পান্তা-চোর এসেছে, বুড়ি এসেছে, পান্তাবুড়ির আর বাকি রইল কী?
–তাই বুঝি? তবে উঠে পড় এখান থেকে, কেটে পড় এক্ষুনি। তাদের মোটে গল্প বলবই না। বুড়ি আর পান্তো থাকলেই পান্তাবুড়ি? এতই যদি মগজ, তাহলে আমার কাছে কেন এসেছিস গল্প শুনতে?
–আচ্ছা আর কোনো কথা বলব না। তুই 
বলে যা।
–মনে থাকে যেন হুঁ! এখন হয়েছে কী, জানিস? এক বুড়ির পান্তো তো চোরে হামেশা খেয়ে যাচ্ছে। বুড়িও গল্পের মতোই গোবর রাখল, শিঙিমাছ রাখল, ক্ষুর পাতল–কিন্তু চোরের কিচ্ছুটি হল না। সে হাঁড়ি থেকে শিঙিমাছটা নিয়ে গেল রান্না করে খাবে বলে, আর ক্ষুরটা নিয়ে গেল দাড়ি কামানোর জন্যে। আর যাওয়ার সময় বুড়ির ঘরের দোরে খড়ি দিয়ে লিখে গেল: আমাকে গল্পের সেই চোর পাও নাই যে ইচ্ছা করিলেই বোকা বানাইতে পারিবে।–কী রে, কেমন শুনছিস?
–বেড়ে।
–পান্তাবুড়ির গল্পের মতো লাগছে?
–না না, কে বলে! কিন্তু তারপর?
–হুঁ, দাঁড়া না। নবাবী আমলের গল্প কিনা, অনেকদিন হয়ে গেছে, একটু ভেবে-চিন্তে বলি। হাঁ, মনে পড়েছে। বুড়ি তো রেগে-কেঁদে খুব দাপাদাপি করল, শাপশাপান্ত করল, কিন্তু তাতে চোরের কী আর হবে বল দিকি? শেষকালে বুড়ি নিরুপায় হয়ে, গিয়ে হাজির হল কাজী সাহেবের কাছে।
–কাজী সাহেব?
–হ্যাঁ-হ্যাঁ, নবাবী আমলে ওঁরাই তো ছিলেন দণ্ডমুণ্ডের কর্তা–এসব ওঁরাই দেখাশুনো করতেন। তাই বুড়ি কাজীর কাছে গেল। বুদ্ধিমান আর দয়ালু বলে কাজী সাহেবের খুব নামডাক ছিল, তিনি পান্তো চোরের গল্প শুনলেন, অনেক বার বললেন, ওয়াহ-ওয়াহ, একবার বললেন, বহুত মসিব্বত, তারপর চোখ বুজে নিজের মেহেদী রাঙানো শাদা দাড়িতে হাত বুলাতে লাগলেন।
–এই, মুসিব্বত মানে কী রে?
–বোধহয়, ঝঞ্জাট। কিন্তু ও-সব নবাবী আমলের শব্দ, আমি অত-শত মানে জানব কী করে? তোরা বরং ইস্কুলের মৌলবী সাহেবকে জিজ্ঞেস করিস। যাই হোক, কাজী সাহেব মেহেদী রাঙানো দাড়িতে হাত বুলিয়ে কখনও বলতে লাগলেন, ইয়াহ, কখনও বললেন, ওয়াহ, একবার বললেন, বহুত পোঁচদাগী, আবার বললেন, জালিম, শেষে চোখ খুলে বললেন, ফতে!
–ফতে? মানে?
–মানে ফিনিশ।
–কে ফিনিশ হল?
–আঃ, থাম না, সবটা শুনেই নে আগে। অত বকর বকর করিস কেন?
–আচ্ছা, মুখ বন্ধ করেছি। বলে যা।
কাজী সাহেব খুশি হয়ে বললেন, ওয়াহ ফতে। শোনো বুড়ি, কাল তোমার পান্তার হাঁড়ি আমার এখানে নিয়ে আসবে। আমি 
তাতে ওষুধ মিশিয়ে দেব। ধন্যবাদ বলে বুড়ি 
চলে গেল।
–বুঝেছি, আর বলতে হবে না। কাজী সাহেব পান্তো ভাতে বিষ মিশিয়ে দিলেন, আর তাই খেয়ে চোরটা…
–উঁহু, উঁহু! অর্ধেকটা কেবল বুঝেছিস। বুড়ির হাঁড়ি খেয়ে চোরটা অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল, ধরাও পড়েছিল, কিন্তু কাজী সাহেব ওষুধ মেশাননি, কোনও বিষও নয়। সেই নবাবী আমলে মানুষ এত ছোটলোক ছিল না, তা জানিস?
–বিষ নয়, ওষুধ নয়, তবে চোরটা অজ্ঞান হল কী খেয়ে?
–কেন? পান্তোর সঙ্গে কাজী সাহেব মিশিয়ে দিয়েছিলেন এক মুঠো ঘি-চপচপে মোগলাই পোলাও। রাজা বাদশারা যা খেয়ে থাকে।
–সে তো অতি চমৎকার। তাই খেয়ে?
–হুঁ, তাই খেয়ে। আরে, পান্তো-খাওয়া চোরের নাড়িতে মোগলাই জর্দা-পোলাও সহ্য হয় কখনও? মুখে দিয়েই চোরের মাথা ঘুরে গেছে, তিন দিন পরে তার জ্ঞান হয়। আনাড়িরা যদি জর্দা কিংবা দোক্তা খেতে যায়, তাহলে তার যা হয়, তাই।
–যাঃ, বাজে কথা। গল্প তো নয়, স্রেফ গুল। 
–গুল? তবে শুনছিলি কেন বসেবসে? পালা পালা এক্ষুনি এখান থেকে গেট আউট!

কলি 

একটি পিঁপড়ার আত্মজীবনী

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ০১:২৩ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৪, ০১:২৩ পিএম
একটি পিঁপড়ার আত্মজীবনী

লোকে আমাদের লাল পিঁপড়ে বলে ডাকে। কিন্তু এই নামটা আমাদের জাতিগত। আমাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা নাম রয়েছে। যেমন আমার নাম কুট্টুস। আমার জন্ম স্যাঁতস্যাঁতে একটি মাটির ঢিবিতে। জন্মের পর জানতে পারলাম, আমাদের মাটির ঘরে ক্ষণিক আগে কোনো মহামানব জল বিয়োগ করেছেন। ফলে আকাশে প্রচুর রোদ থাকার পরও বন্যার মতো স্রোতে ভেসে গেছে আমাদের ঘর। আমার বাবা-মা ও অন্য প্রতিবেশীরা তখন দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেন। আমাদের প্রতিবাদের ভাষা তার কান অবধি পৌঁছাবে না বলে আমরা ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে অনত্র চলে গেলাম। সেটাও আমাদের পায়ের হিসেবে প্রায় ১০ মাইল দূরে। 

জন্মের পর এ রকম বিধ্বস্ত শরীর নিয়ে আমি খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। এখানে এসে কেউ কেউ নতুন ঘর বানাতে লাগল। আর কেউ গেল খাবারের সন্ধানে। জন্মের পর আমি বুঝতে পেরেছিলাম, আমার পরিবারটি তেমন অবস্থাসম্পন্ন নয়। কারণ আমাদের কোনো খাবারই মজুত ছিল না। তাই আমাকে প্রতিবেশীদের কাছে রেখে বাবা-মা দুজনই গেলেন খাবারের সন্ধানে। বিশেষ করে সামান্য মিষ্টান্নের খোঁজ যদি পায়, কারণ আমার জন্ম উপলক্ষে বাবা-মা কাউকেই মিষ্টিমুখ করাতে পারেননি।

এর পরবর্তী ঘটনা আমার বাবার মুখ থেকে শোনা। বাবা-মা দুজনই হেঁটে প্রায় পাঁচ মাইল পথ অতিক্রম করেছিলেন। হঠাৎ অন্য জাতির (কালো পিঁপড়া) কিছু পিঁপড়েকে মুখে খাবার নিয়ে হন্দদন্ত হয়ে ছুটতে দেখে বাবা-মাও সেদিকে ছুটেছিলেন। কিছু দূর এগোতেই দেখলেন একটি বড় মিষ্টির পলিথিনে অনেক শিরা লেগে আছে। যা দিয়ে দুই জাতির কমপক্ষে ৫০ হাজার পিঁপড়ের খাবারের ব্যবস্থা হতে পারে। বাবা ঠোঙার বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন। মা ঠোঙার ভেতরে গিয়ে শিরা এনে বাবার কাছে দিলেন। দ্বিতীয়বার আনতে যাওয়ার সময় ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা। কোথেকে গুটিকয়েক দুষ্টু ছেলে এসে পলিথিনের ঠোঙায় দিল পানি ভরে। বাবা কোনোমতে দৌড়ে বেঁচেছিলেন। কিন্তু মা পলিথিনের ভেতর থেকে আর বের হতে পারেননি। অথই জলেই তার অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হয়।

এরপর আমরা থাকার নতুন জায়গাও ত্যাগ করলাম। বাবা আর আমি হেঁটে হেঁটে একটা গভীর অরণ্যে প্রবেশ করলাম, যার শেষপ্রান্ত বলে কিছু নেই। আমরা বড় বড় ঘাস গাছের নিচ দিয়ে চলছি। বাবা হঠাৎ হাঁটা থামিয়ে একটি মানুষের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন। তারপর ছুটলেন তার দিকে। আমি প্রশ্ন করতেই তিনি শুধু একটি বাক্য বললেন- তোর মায়ের খুনি।

দেখলাম, বাবা বিশাল একটি পায়ের ওপর উঠে গেছে। দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে একটি আঙুলের ফাঁকে ঢুকে গেলেন। পরমুহূর্তে মানুষটি উঃ করে একটা শব্দ করে বাবাকে আঙুলে তুলে নিয়ে টিপে মেরে ফেলল। এরপর মরদেহটি ছুড়ে ফেলে দিল।

কষ্টে আর ক্ষোভে আমি নিজেকে সামলাতে পারলাম না। আমিও ছুটে গিয়ে মানুষটির অন্য পায়ে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে একটা কামড় বসালাম। আমায় মেরে ফেলার আগেই আমি ঘাসের বনে ঝাঁপ দিলাম। তাই বেঁচে গেলাম।

অনেক ভেবেচিন্তে আমি লিখতে বসেছি। আমাদের কষ্টের কথা শুনে যদি একটি মানুষেরও মনে দয়া হয় তবে অন্তত তার বেখেয়ালে অথবা দুষ্টুমির ছলে হয়তো বলি হবে না আমার মতো নিরীহ কোনো জীব। লেখাটা যখন শেষ করেছি, তখন দূরে পিঁপড়েদের ব্যাপক শোরগোল শোনা যাচ্ছে। হয়তো নতুন কারও ঘর গুঁড়িয়ে গেল কারও পায়ের আঘাতে অথবা পিষে গেল সারি সারি পিঁপড়ে কারও অসাবধানী পায়ের তলে।

জাহ্নবী

এই সময়ের চাওয়া: কামাল হোসাইন

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ০১:২২ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৪, ০১:২২ পিএম
এই সময়ের চাওয়া: কামাল হোসাইন

টাকা দিয়ে এমবি কিনে
চালাই আমি ফোন,
সেটার সময় বেঁধে দিয়ে
বিষাও তুমি মন!

আমার টাকা ইচ্ছেমতো 
করব খরচ আমি,
তুমি কে হে কেটে নেবার
পেয়েছ ফাজলামি?

কোম্পানির এই খামখেয়ালি
চলবে কত আর?
সময় এল গুঁড়িয়ে দিতে
এহেন কারবার।

প্রতিবাদের কণ্ঠ ছাড়ো
এক সুরে ভাইবোন,
আনলিমিটেড ফোনের ডেটা 
চাইছি সাধারণ!

জাহ্নবী

এ যুগের গণিত যেমন হওয়া চাই

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৪, ০৪:৫৭ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৪, ০৫:০১ পিএম
এ যুগের গণিত যেমন হওয়া চাই

যুগের ছেলেমেয়েদের ভয় গণিতে। তাদের ভয় দূর করাতে চাইলে গণিতগুলো রচনা করতে হবে অনেকটা এভাবে। লিখেছেন ফারজানা আলম

মিতুর দেওয়া স্ট্যাটাসে ৫১টি লাইক পড়ল। রুবেলের স্ট্যাটাসে লাইক পড়ল ১৮টি। দুজনের স্ট্যাটাসে মোট কতটি লাইক পড়ল?

একটি মোবাইলের মনিটরের ক্ষেত্রফল ১৮ ইঞ্চি। দৈর্ঘ্য প্রস্থের তিনগুণ। মনিটরটির দৈর্ঘ্য নির্ণয় করো।

ফেসবুক আয়োজিত ফার্মভিলা গেমটির প্রতিযোগিতায় ১ হাজার ২০০ ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করল। যার মধ্যে ছাত্র ৭৩৬ জন। এই ছাত্রদের বর্গাকারে সাজানো যাবে কি? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

ইসমত প্রতি মাসে ৪ জিবি মোবাইল ডাটা কেনে। ৪ জিবি কিনলে সে ৫১২ মেগাবাইট ডাটা মোবাইল কোম্পানি থেকে ফ্রি পায়। এভাবে এক বছর ব্যবহার করলে বছর শেষে ইসমত কত জিবি ডাটা ফ্রি পাবে?

একটি গ্রামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট লাইন আনার জন্য গ্রামবাসী প্রত্যেক পরিবারের কাছ থেকে সমপরিমাণ করে টাকা তোলার সিদ্ধান্ত নিল। গ্রামে ১২৭টি পরিবার আছে এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট লাইন আনতে ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন। প্রত্যেক পরিবার কত টাকা করে দেবে?

দুর্বল ইন্টারনেট সিগন্যালের কারণে ১০ মিনিটের একটি ভিডিও ক্লিপ দেখতে রুমির সময় লাগে ১৮ মিনিট। তিন ঘণ্টার একটি মুভি দেখতে তার কত সময় লাগবে?

মফিজের মোবাইলের ধারণক্ষমতা ১৬ জিবি। সেই মোবাইলে তোলা প্রতিটি ছবির সাইজ দুই মেগাবাইট হলে মফিজ তার মোবাইল দিয়ে মোট কতটি ছবি তুলতে পারবে?

আকবর মিয়া সপ্তাহে তিনবার ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে। বছরে সে কতবার প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করবে?

একটি রাউটার দিয়ে ১২ জন স্মার্টফোন গ্রাহক ওয়াইফাই সংযোগ পেতে পারেন। এই রকম ৭০টি রাউটার দিয়ে কতজন স্মার্টফোন গ্রাহক ওয়াইফাই সংযোগ পাবেন?

গত বছর টুইটারে হিমেলের ২৬৯ জন ফলোয়ার ছিল। এ বছর আরও ১৮৯ জন লোক তাকে ফলো করতে শুরু করল এবং ৫৩ জন তাকে আনফলো করে দিল। হিমেলের বর্তমানে কতজন ফলোয়ার আছে?

একটি ফেসবুক গ্রুপে প্রতি মিনিটে পাঁচজন মেম্বার যোগদান করে এবং দুজন মেম্বার বেরিয়ে যায়। ১০ মিনিট পর গ্রুপে কতজন মেম্বার অ্যাক্টিভ থাকবে?

মিনার মোবাইলে ১৮টি অ্যাপ ইনস্টল করা আছে। রনির মোবাইলে আছে ২২টি অ্যাপ। কার মোবাইলে বেশি অ্যাপ আছে এবং কতটি অ্যাপ বেশি আছে?

কলি

হতাশা কাটানোর উপায়

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৪, ০৪:৫৬ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৪, ০৪:৫৬ পিএম
হতাশা কাটানোর উপায়

ঢাকা শহরের মানুষ এশিয়ায় সবচেয়ে হতাশাগ্রস্ত। এই হতাশা কাটানোর মোক্ষম উপায় জানাচ্ছেন মেহেদী

ঢাকার নাম পাল্টে সিঙ্গাপুর কিংবা দুবাই রাখতে হবে। ঢাকাবাসী যখন বুঝতে পারবে তারা এখন ঢাকা নয়, সিঙ্গাপুর বা দুবাইয়ের বাসিন্দা, তখন অটোমেটিক তাদের হতাশা কেটে যাবে।

হতাশার ওপর ট্যাক্স আরোপ করা যেতে পারে। যে হতাশ হবে তাকে এক হাজার টাকা করে ট্যাক্স দিতে হবে- এমন ঘোষণা দিলে হতাশ হওয়ার আগে ঢাকাবাসী একবার হলেও চিন্তা করবে।

যে প্রতিষ্ঠান জরিপ করে ঢাকাবাসীকে সবচেয়ে হতাশ বলেছে, তাদের ঘুষ দিয়ে জরিপের ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে হবে। এই পদ্ধতি প্রয়োগ করলে ঢাকাবাসীকে কেউ আর ‘সবচেয়ে হতাশ’ বলতে পারবে না।

’হতাশা’কে বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যেতে পারে। যাদের মধ্যে হতাশা নেই, তাদের কাছে হতাশা রপ্তানি করার মাধ্যমে ঢাকাবাসী টাকা ইনকাম করলে অচিরেই তাদের হতাশা কেটে যাবে।

কলি

আবুল মিয়া এবং দৈত্য চিনি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৪, ০৪:৫০ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৪, ০৪:৫২ পিএম
আবুল মিয়া এবং দৈত্য চিনি

আবুল মিয়া যখন বাজার থেকে রওনা হলেন, তখন রাত ১১টা বেজে গেছে। বাজারে তার মিষ্টির দোকান আছে। প্রতিদিন ১০টার মধ্যে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরেন, কিন্তু আজ কাস্টমারের চাপ বেশি থাকায় দেরি হয়ে গেছে।

অন্য দিনের মতো আজও রাস্তার বাতিগুলো বন্ধ। টর্চ লাইটটা না থাকলে ভারি বিপদে পড়তে হতো। তবু ধীরে ধীরে একসময় বাড়ির কাছাকাছি চলে এলেন। হঠাৎ আবুল মিয়া খেয়াল করে দেখেন, রাস্তার পাশে একটা বোতল পড়ে আছে। কী মনে করে সেটিতে লাথি মারতেই এক আজব ঘটনা ঘটল। সেটির মধ্য থেকে শোঁ শোঁ শব্দে ধোঁয়া বের হতে লাগল। তা দেখে আবুল মিয়া দিলেন দৌড়। পাশের বড় আমগাছের গোড়ায় মুহূর্তেই লুকিয়ে পড়লেন। দেখতে লাগলেন কী হয়। একসময় সেই ধোঁয়া বিরাট এক দৈত্যে রূপ নিল। তারপর সেই দৈত্য কয়েকবার এদিক-ওদিক তাকিয়ে চেঁচিয়ে বলল, ‘কে আমাকে বোতলের মধ্য থেকে বের করল রে?’

আবুল মিয়া এতক্ষণ মন্ত্রমুগ্ধের মতো সব দেখছিলেন। হঠাৎ তার মনে হলো, এটা প্রদীপের দৈত্য ছাড়া কেউ না। সে পৃথিবীর বহু মানুষের ইচ্ছা পূরণ করেছে। তার কাছ থেকে লুকিয়ে থাকার কিছু নেই। তার সামনে গেলে সে-ও আমার ইচ্ছা পূরণ করবে।

অগত্যা গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে আবুল মিয়া এক দৌড়ে দৈত্যের কাছে এসে বললেন, ‘ভাই সাহেব, আপনার নাম মনে হয় জিনি? আমি আপনার কথা অনেক শুনেছি। আপনি নাকি সবার ইচ্ছা পূরণ করে থাকেন? আমারও ইচ্ছা পূরণ করেন না!’

আবুল মিয়ার আবদার শুনে দৈত্য কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘দেখুন মহোদয়, আমার নাম জিনি না। আপনি যার কথা বলছেন, তিনি আমার নানা। আজ থেকে আড়াই শ বছর আগে এক ভদ্রলোকের আবদার পালন করতে গিয়ে খনি দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন।’

আবুল মিয়া অবাক। তিনি বললেন, ‘আমি আপনার কথা বুঝলাম না।’

দৈত্য বলল, ‘এক ভদ্রলোক জিনি নানার কাছে দুই শ মণ সোনা চেয়ে বসলেন। নানা তার জন্য সোনা আনতে চীনের এক সোনার খনিতে ঢুকতেই দুর্ঘটনা। সেই দুর্ঘটনায় মাটিচাপা পড়ে আমার নানা নিহত হন।’

দৈত্যের মুখ থেকে জিনির কথা শুনে আবুল মিয়ার মনটাই ভেঙে গেল। তিনি বললেন, ‘তাহলে আপনি কে?’ 
দৈত্য বলল, ‘বললাম তো, আমি জিনি দৈত্যের ছেলের ঘরের নাতি। আমার নাম চিনি।’

আবুল মিয়া বললেন, ‘তাহলে আপনি অন্তত একটা ইচ্ছা পূরণ করেন। আপনার নানা পারলে আপনি পারবেন না কেন? আমার ইচ্ছা, গুলশানে ছয় কাঠা জমির ওপর একটা ডুপ্লেক্স বাড়ি।’

আবুল মিয়ার কথা শুনে চিনি দৈত্য বলল, ‘আমার যদি বাড়ি দেওয়ার ক্ষমতা থাকত, তাহলে আমি কি এই বোতলে বাস করি? আমি নিজেই তো একটা বাড়িতে থাকতাম। সত্যি কথা কী, আমার নানা লোকজনকে এত কিছু দিয়েছে যে নিজের নাতিদের জন্য কিছুই রাখেনি। সে কারণে আমার আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। তিন দিন ধরে এই বোতলের মধ্যে না খেয়ে বসে আছি। আপনি যদি দয়া করে আমাকে এক বেলা নাশতা করান, তাহলে খুব উপকার হয়।’

চিনির কথা শুনে আবুল মিয়া থ। বাড়ি পাবে কী, উল্টো দৈত্যকে ফ্রি খানা খাওয়াতে হচ্ছে। তিনি চিনিকে বললেন, ‘আচ্ছা আচ্ছা, আর বলতে হবে না। আপনার নানা এত ভালো দৈত্য ছিলেন। এত মানুষের উপকার করেছেন। তার নাতিকে এক বেলা খাওয়াতে পারাটা আমার সৌভাগ্য। চলেন আমার বাসায়। কাঁচকলা দিয়ে শিং মাছের তরকারি আছে। একসঙ্গে খাব।’

অগত্যা চিনি দৈত্য তার বোতলের মধ্যে ঢুকে পড়ল। সেই বোতল হাতে নিয়ে আবুল মিয়া বাড়ির দিকে রওনা হলেন।

বাড়ি পৌঁছে বউকে সব খুলে বলার পর তিনি প্রথমে ভয় পেলেও পরে চিনির সঙ্গে মানিয়ে নিলেন। ভরপেট খানা খেয়ে আবুল মিয়া যখন ঘুমাতে যাবেন, তখন চিনি দৈত্য এসে বলল, ‘আবুল ভাই, বলছিলাম কী, আমি আরও একটা সমস্যায় পড়েছি। আপনি যদি সমস্যাটা একটু শুনতেন!’

আবুল মিয়া বিরক্ত হয়ে বিছানা থেকে নেমে বললেন, ‘আবার কী হলো?’

চিনি বলল, ‘হয়েছে কী, আমার গার্লফ্রেন্ড মিডলইস্টে থাকে, মানে দুবাই আর কি। আমি সেখানে যাব যাব করছিলাম, কিন্তু ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে যেতে পারছি না। এদিকে ওর সঙ্গে সাত মাস ধরে কথাবার্তাও হচ্ছে না।’

আবুল মিয়া বললেন, ‘কথা হবে না কেন? একটা মোবাইল কিনে নিলেই পারেন।’

চিনি দৈত্য বলল, ‘সেটাই তো সমস্যা। মোবাইল কেনার মতো পর্যাপ্ত টাকা আমার হাতে নেই। তার ওপর বায়োমেট্রিক নিবন্ধন না থাকলে মোবাইলের সিম কেনা যায় না। আমার তো তা-ও নেই।’

আবুল মিয়া বললেন, ‘দেখেন চিনি ভাই, আপনাকে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত টাকা আমার হাতে নেই। আমি গরিব মানুষ। বাজারে হোটেল চালাই। আমার কাছে কি মোবাইল কিনে দেওয়ার মতো টাকা থাকে, বলেন?’

চিনি দৈত্য বলল, ‘আবুল ভাই, আপনাকে টাকা দিতে হবে না। আপনি যদি আপনার দোকানে আমাকে একটা কাজ দেন, তাহলে এক মাসের বেতন দিয়ে আমি একটা মোবাইল কিনে ফেলতে পারব।’

আবুল মিয়া বললেন, ‘আচ্ছা, ঠিক আছে। এমনিতে আমার দোকানে একজন লোকের দরকার। আপনি থাকলে লোকজন আপনাকে দেখার জন্য হলেও আমার দোকানে আসবে। চা-মিষ্টি খাবে। ঠিক আছে, কাল থেকে আমার দোকানে লেগে যান। হাজার হোক, জিনি দৈত্যের নাতির উপকার করতে পারার মধ্যেও শান্তি আছে।’

কলি