ঈশ্বরদী উপজেলায় কম খরচে ভালো ফলন পাওয়ায় গাজর চাষে আগ্রহী হয়েছেন কৃষকরা। এখানে বছরে দুবার গাজর চাষ করা যায়। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। এবার গাজরের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার ৮৪০ টন নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীতে ৯২০ হেক্টর বা ৬ হাজার ৮০০ বিঘা জমিতে গাজর চাষ করা হয়। প্রতিবছর গাজরের চাহিদা বাড়ছে এবং দাম ভালো হওয়ায় এখানে গাজরের আবাদ বাড়ছে। গত বছর গাজরের আবাদ হয়েছিল ৯১০ হেক্টর জমিতে। সাহাপুর, সলিমপুর এবং লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে গাজরের আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়। অন্য চারটি ইউনিয়নে গাজরের আবাদ তুলনামূলকভাবে কম হয়।
কৃষি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, গাজর একটি উচ্চমূল্যের ফসল। বীজ বপনের তিন মাসের মধ্যে গাজর ফসল ওঠানো সম্ভব হয়। এক বিঘা জমিতে গাজর চাষের জন্য খরচ হয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এই খরচের পর চাষিরা গাজর বিক্রি করে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকাও আয় করতে পারেন। ফলে খরচ বাদে প্রতি বিঘায় কৃষকরা ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ করতে সক্ষম হন।
পাকশী ইউনিয়নের গাজরচাষি সেলিম বিশ্বাস বছরে দুবার গাজরের আবাদ করেন। তিনি ৬ বিঘা জমিতে গাজর চাষ করেছেন। এক বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা, আর ৬ বিঘায় তার খরচ হয়েছে ৩ লাখ টাকা।
তিনি জানান, গাজর চাষে খরচ কম, পরিশ্রমও কম, তবে লাভ অনেক বেশি। কৃষকরা জমিতে থাকতেই ব্যাপারীর কাছে গাজর বিক্রি করে দিতে পারেন। তিনি আশা করছেন, প্রতি বিঘা জমির গাজর ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করবেন এবং এতে তার লাভ হবে প্রায় ৩ লাখ টাকা।
জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক শাহীনুজ্জামান সরদার কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার ৬ বিঘা জমিতে জাপানি জাতের অরেঞ্জ কিং ও সাঙ্গো গাজর আবাদ করেছেন।
তিনি জানান, গাজরের চাষের জন্য জমি খুবই উপযোগী। তিনি আশাবাদী, এবার গাজরের ফলন ভালো হবে এবং খরচ বাদে প্রতি বিঘা থেকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার জানিয়েছেন, এখানকার মাটি এবং আবহাওয়া গাজর চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বেলে, দোঁ-আশ মাটি ও সমতল জমিতে গাজর চাষ খুব ভালো হয়। এখানে চাষিরা শুধু চায়নার গাজর নয়, এবার জাপানি জাতের গাজরও চাষ করছেন। পুষ্টিকর ও লাভজনক এই সবজি প্রতিবছর এখানকার কৃষকদের আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগস্ট থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত গাজরের ভরা মৌসুম থাকে। এই সময়ে প্রতিবছর ৯২০ হেক্টর জমিতে গাজর চাষ করা হয়। এ বছর গাজরের মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার ৮৪০ টন নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে প্রতি হেক্টর জমি থেকে গাজরের উৎপাদন হবে ২৭ টন।