ঢাকা ৪ শ্রাবণ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪

‌‘চবির সুনাম বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে চাই’

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৪, ০৮:০৭ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৪, ১১:২০ পিএম
‌‘চবির সুনাম বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে চাই’
ছবি : সংগৃহীত

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার সুনাম বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে চাই। রবিবার (২ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) ক্যাম্পাসে কনভেনশন উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ (যুক্তরাষ্ট্র) এর প্রেসিডেন্ট ও বস্টন ইউএসএ কনভেনশন-২০২৪ এর চেয়ারম্যান রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী একথা বলেন।

আগামী ২৬ জুলাই হার্ভার্ড ক্যাম্পাস এবং ২৭ জুলাই ম্যাসাচুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) ক্যাম্পাসে কনভেনশনের আয়োজন করেছে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ (যুক্তরাষ্ট্র)। 

রবিবার (২ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) ক্যাম্পাসে কনভেনশন উপলক্ষ্যে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ (যুক্তরাষ্ট্র) এর প্রেসিডেন্ট ও বস্টন ইউএসএ কনভেনশন-২০২৪ এর চেয়ারম্যান রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার সুনাম বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে চাই। সে লক্ষ্যে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি এবং এমআইটিতে কনভেনশন-২০২৪ এর আয়োজন। 

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে উঠেছে যা খুবই প্রশংসনীয়। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সকল অ্যালামনাইদেরকে একই মঞ্চে এনে চবি অ্যালামনাইদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি করাই কনভেনশনের অন্যতম লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য। তিনি এই কনভেনশন সফল করার জন্য সবার সর্বাঙ্গীন সহযোগিতা কামনা করেন।

রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী আরও জানান, চবি বস্টন কনভেনশনে-২০২৪ এমআইটি এবং হার্ভার্ড ক্যাম্পাসে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবু তাহের, চবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল কমিটির প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ড. মো. আব্দুল করিম, চবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন এফবিসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম তাদের সন্মতি প্রদান করেছেন। 

এছাড়াও কনভেনশনে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্য আরও উপস্থিত থাকবেন ম্যাসাচুসেট এর সিনেটর, গভর্নর, বস্টন মেয়র, ক্যামব্রিজ মেয়র, এমআইটি প্রেসিডেন্ট, হার্ভার্ড প্রেসিডেন্ট, এবং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এর প্রেসিডেন্ট এছাড়াও বোস্টনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক প্রকৌশলী এবং বিজ্ঞানী।

কনভেনশনে আমন্ত্রিত অতিথিরা বিভিন্ন বিষয়ের উপর সেমিনারে অংশগ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান। কনভেশনে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যলয়ের অতীত ইতিহাস, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে করণীয় বিষয়াদি নিয়ে সেমিনারে আলোচনা করা হবে।

কনভেনশনের শেষ দিন সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় সংগীত পরিবেশন করবেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী সামিনা চৌধুরী, নকিব খান, তাজুল ইসলাম এবং মহিতোষ তালুকদার তাপসের নির্দেশনায় স্বাধীন বাংলা বেতারের গণসংগীত ও লোকজ গানের দলীয় পরিবেশনা, সঙ্গে স্থানীয় এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আগত, চবি অ্যালামনাইদের একক ও দলীয় পরিবেশনা।

চবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ম্যাসাচুসেট এর জেনারাল সেক্রেটারি ও কনভেনশন এর মেম্বার সেক্রেটারি মোহাম্মদ সাইফুর আর চৌধুরী টিপুর সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চাকসুর প্রাক্তন নেত্রী এবং কনভেনশন-২০২৪ সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মেম্বার জমিলা ইলিয়াস চট্টলা, চবি বস্টন কনভেনশনে-২০২৪ এর জয়েন্ট সেক্রেটারি প্রতাপ চন্দ্র শীল, ডাইরেক্টর অব এডুকেশন এন্ড কালচারাল অ্যাফেয়ার্স রাহাতুল আশেকিন রাহী এবং অ্যালামনাই আব্দুল বাসেদ প্রমুখ। 

কোটা আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় জবি শিক্ষক সমিতির প্রতিবাদ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৩:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩৪ পিএম
কোটা আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় জবি শিক্ষক সমিতির প্রতিবাদ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি

কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংঘর্ষে হতাহতদের প্রতি শোক ও সমবেদনা এবং এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষক সমিতি। একইসঙ্গে সরকারের কাছে কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মমিন উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক ড. শেখ মাশরিক হাসানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা গভীর উদ্বেগ ও হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করছি, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। যা সার্বিকভাবে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, মর্মাহত ও শোকাহত এবং এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। উক্ত সহিংসতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ আহত সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতি আমরা সমবেদনা প্রকাশ করছি এবং তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। নিহতদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সহিংস ঘটনায় পরিণত করে যে স্বার্থান্বেষী মহল দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও অরাজকতা সৃষ্টি করেছে এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটিয়েছে জবি শিক্ষক সমিতি বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে। একই সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনে যেসব নিরপরাধ শিক্ষক-শিক্ষার্থী হতাহত হয়েছেন রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের সবার সুচিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করারও দাবি জানাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।’

এতে আরও বলা হয়েছে, “‘চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অদ্য (১৭ জুলাই) জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে পরিষ্কারভাবে বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, আমাদের ছাত্রসমাজ উচ্চ আদালত থেকে ন্যায়বিচারই পাবে। তাদের হতাশ হতে হবে না।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের উপর আস্থা রেখে চলমান সংকটের দ্রুত নিরসন হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”

প্রচলিত কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার চেয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি প্রচলিত কোটা ব্যবস্থার দ্রুত যৌক্তিক ও আইনানুগ সংস্কার করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরিতে সমতার সুযোগ সৃষ্টির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ত্রিশ লাখ বীর শহিদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানহানি হয় এমন কর্ম থেকে বিরত থাকার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

পপি/অমিয়/

নোবিপ্রবি কোটা আন্দোলনের সমর্থনে ১০ ছাত্রলীগ নেতার পদত্যাগ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৩:২৯ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৪:২২ পিএম
কোটা আন্দোলনের সমর্থনে ১০ ছাত্রলীগ নেতার পদত্যাগ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বিভিন্ন হল শাখার ১০ ছাত্রলীগ নেতা পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তারা সবাই চলমান কোটা আন্দোলনের সমর্থক।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত নোবিপ্রবির বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, হযরত বিবি খাদিজা হল ও ভাষা শহিদ আব্দুস সালাম হলে ছাত্রলীগের এসব নেতারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

পদত্যাগী ছাত্রলীগ নেতারা হলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সাংগঠনিক সম্পাদক জুবাইয়া হোসেন ঐশী, হাবিবা সুলতানা রিমা, সানজিদা আক্তার সামিরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সহসভাপতি সানজিদা মীম, সৈয়দা সাবিহা নাওয়ার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফাতিমা নাহিন (নবনী)। হযরত বিবি খাদিজা হলের সহসভাপতি মৃত্তিকা দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক কায়নাত তাছনিয়া, নাহিন বিনতে ওহাব এবং ভাষা শহিদ আব্দুস সালাম হলের উপ-টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বিষয়ক সম্পাদক মো. ইয়াকুব আলী।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এক নেত্রী ফেসবুকে লেখেন, ‘গত ১৫ তারিখ থেকে তিনবার লিখেও পোস্ট করার সাহস পাইনি। আমার ছোট ভাই মাশরাফি হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায়। আমার নিজের ওপর ঘৃণা হচ্ছে। লাশের  পর লাশ ফেলানোর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি ছাত্রলীগকে সমর্থন করিনি। আমি এ সংগঠন থেকে পদত্যাগ করলাম।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘চবিতে পড়া আমার আপন ভাইকে ২৪ ঘন্টা খুঁজে পাইনি। সারারাত আন্দোলনকারীদের মতো আমার বাসার কেউ ঘুমাতে পারেনি। পরে জানলাম আমার ভাই আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। বোন হিসেবে আমি লজ্জিত। ভাইয়ের কাছে মুখ দেখানোর জায়গা নেই আমার। আলহামদুলিল্লাহ আমার ভাই তো বেঁচে আছে। কিন্তু কতো বোনের ভাই তো চিরবিদায় নিচ্ছে। রাজনীতির এ ট্যাগ নিয়ে ঘুরে বেড়ানো আমার কাছে অস্বস্তিরকর। তাই বাধ্য হলাম।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান শুভ খবরের কাগজকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তারা অব্যাহতির আবেদন দিয়েছে। কেউ ব্যক্তিগত কারণে অব্যাহতি চাইলে আমাদের কিছু বলার নাই। এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।’

ইকবাল হোসেন/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

শাবিপ্রবি ফটকে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড-রাবার বুলেট নিক্ষেপ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০২:২৪ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৪:১৭ পিএম
শাবিপ্রবি ফটকে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড-রাবার বুলেট নিক্ষেপ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ফটকে পুলিশের হঠাৎ অ্যাকশনে কোটা সংস্কার আন্দোলনরতদের মহাসড়কে অবস্থান পণ্ড হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১টা ২০ মিনিট হঠাৎ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ফায়ার করে পুলিশ। 

এতে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালনে শাবিপ্রবির প্রধান ফটকের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। 

এ সময় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান দেখে শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া...’  স্লোগানসহ প্রতিবাদী বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। 

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশি অ্যাকশন চলছিল। শিক্ষাথীরা প্রধান ফটকের আশপাশে অবস্থান নিয়ে রয়েছে।

উজ্জ্বল মেহেদী/ইসরাত চৈতী/অমিয়

বেরোবি শিক্ষার্থী নিহত : পুলিশের মামলা, তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৯ এএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ১২:৪১ এএম
বেরোবি শিক্ষার্থী নিহত : পুলিশের মামলা, তদন্ত কমিটি গঠন
নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদ

রংপুরে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবারের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সরকারি কাজে বাধার অভিযোগ এনে অজ্ঞাতদের নামে তাজহাট থানায় মামলা করেছে পুলিশ। তাজহাট থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক বিভুতি ভূষণ বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

এ ঘটনায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) সায়েকুজ্জামান ফারুকীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন মামলা এবং তদন্ত কমিটির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে বুধবার সকাল ১০টায় পীরগঞ্জের বাবনপুরে আবু সাঈদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় আবু সাঈদের বিক্ষুব্ধ সহপাঠী, বন্ধু, শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা অংশ নেন।

আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশকে দায়ী করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শেষে কালো ব্যাচ পড়ে মৌন মিছিল করেন তারা।

বেলা ২টার দিকে বেগম রোকেয়া ১নং গেটকে ‘শহিদ আবু সাঈদ তোরণ’ নামে নামকরণ ও ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।  বিশ্ববিদ্যালয়ের ২নং গেটে আবু সাঈদের গায়েবানা জানাজা শেষে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শেষে এই দাবি করেন তারা। 

পরে তারা সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদত্যাগ, অবিলম্বে  নির্বিচারে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিহত আবু সাঈদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেটকে ‘শহিদ আবু সাঈদ তোরণ’ নামে নামকরণ করতে হবে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি বিজন কুমার চাকী বলেন, ‘আবু সাঈদের মৃত্যুতে আমরা দুঃখিত ব্যথিত লজ্জিত। আমরা বিচার চাই, সুস্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’

বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ মন্ডল বলেন, ‘যেই গুলি করে আমাদের ছাত্রকে হত্যা করেছে তাদের শাস্তি চাই।’  

এদিকে আবু সাঈদের মৃত্যুতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

ইবিতে হল খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৯:০৮ পিএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৯:০৮ পিএম
ইবিতে হল খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম
ছবি : খবরের কাগজ

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকালের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় ভিসির বাসভবনে কর্তৃপক্ষকে এ আলটিমেটাম দেন তারা। শিক্ষার্থীরা আজ হল খোলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।  

এর আগে, বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভিসির বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অবস্থান নেন তারা। এরপর আন্দোলনকারীরা আরও বেশি উত্তেজিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে প্রক্টরিয়াল বডি শিক্ষার্থীদের বুঝানোর চেষ্টা করেন। পরে আন্দোলনকারীদের একটি টিম ভিসি বাসভবনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেন এবং তারা ৩টি দাবি উত্থাপন করেন। 

দাবি ৩টি হলো- হল খোলা রাখতে হবে, আন্দোলনকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। 

এসব দাবি না মানলে শিক্ষার্থীরা তাদের মতো ব্যবস্থা নেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন এবং ভিসি বাসভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর এ দিনের মতো আন্দোলন সমাপ্ত ঘোষণা করেন এবং আগামীকাল পুনরায় আন্দোলনে নামবেন বলে জানান তারা।