ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩১, রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪

ঈদে ঢাকায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের আপ্যায়ন করবে জবি

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৪, ১২:৩৬ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৪, ১২:৩৬ এএম
ঈদে ঢাকায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের আপ্যায়ন করবে জবি
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বাড়ি যেতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য ঈদের দিন ঢাকায় ও ছাত্রী হলে অবস্থানরত সব শিক্ষার্থীদের আপ্যায়ন করাবে প্রশাসন। এর জন্য ৫টি খাসির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ জুন) বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। তিনি বলেন, ঈদে ঢাকায় অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হবে। হলের শিক্ষার্থীদের এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের তালিকা করতে প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছি।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঈদের দিন অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি যেতে পারে না। অনেকে হলে থাকে। এর মধ্যে ভিন্ন ধর্মের শিক্ষার্থীরাও রয়েছে। ঈদে বাড়ি যেতে না পারায় কেউ যেন আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় সে জন্য উপাচার্য সবার জন্য দুপুরে খাবারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ জন্য ৫টি খাসির ব্যবস্থা করা হয়েছে। থাকবে পোলাও, ডিমের কোরমাসহ আরও নানা পদের খাবার। ক্যাম্পাসে বা ঢাকায় অবস্থানরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও এ আপ্যায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে জবিতে প্রথমবারের মতো নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।

কোটা সংস্কার দাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ, শাহবাগে এক ঘণ্টা অবরোধ

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ১০:৪৮ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ১০:৪৮ পিএম
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ,
শাহবাগে এক ঘণ্টা অবরোধ
ছবি: খবরের কাগজ

সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংস্কারের দাবিতে শুক্রবারও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা শুক্রবার (১২ জুলাই) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করতে এসে এক ঘণ্টা শাহবাগ অবরোধ করে রাখেন। এ সময় ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আগামীকাল শনিবার (১৩ জুলাই) অনলাইন-অফলাইনে প্রতিনিধি সম্মেলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে শাহবাগ ত্যাগ করেন তারা। প্রতিনিধি সম্মেলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে শাহবাগ ত্যাগ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এদিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

শাহবাগে সমাবেশে আবু বাকের মজুমদার বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, শেকৃবিসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ভাইবোনদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আগামীকাল (আজ) সারা দেশে অনলাইন-অফলাইনে প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। পরে সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে জানানো হবে।’

আরেক সমন্বয়ক মাহিন সরকার বলেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্র আমাদের আবেগ নিয়ে ফুটবল খেলছে। একবার সংসদ, একবার হাইকোর্টে পাঠাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে আমাদের আবেগ বুঝতে হবে। সংসদে আইন পাস করে কোটা সংস্কার না করলে আন্দোলন চলবে।’

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে যান শিক্ষার্থীরা। পরে ৫টা ২০ মিনিটের দিকে শাহবাগে অবরোধ করেন তারা।

সংখ্যালঘু জাতিসত্তাদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের দাবি

সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু জাতিসত্তাদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে ঢাকাস্থ জুম্ম শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধনে এ দাবি জানান তারা। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে অনেক সংকটের মধ্যে পার হতে হয়। দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো এখানকার শিক্ষার্থীরা সমান সুযোগ-সুবিধা পান না। অনেক চড়াই-উতরাই পার করে তাদের শিক্ষা অর্জন করতে হয়। সমাজের এই অনগ্রসর জাতির জন্য সরকারি চাকরিতে তাদের ৫ শতাংশ কোটা বহাল রাখা যৌক্তিক।’

হামলার প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ মিছিল

জবি প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এর আগে বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলা থেকে বের হয়ে বাংলা বাজার মোড় ঘুরে মূল ফটকের সামনে এসে শেষ হয়। মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা সারা দেশে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল যেন মহাসমুদ্র

চবি সংবাদদাতা জানান, কোটা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ ও জড়িতের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও ছাত্র সমাবেশ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও চবি অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মহাসমুদ্রে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম শহর।

শুক্রবার বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর স্টেশনে একত্রিত হন চবি ও চট্টগ্রামের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নগরীর ২ নম্বর গেট হয়ে প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, জামালখান, কাজীর দেউরী, লালখান বাজার, জিইসি হয়ে পুনরায় ২ নং গেট এলাকায় জড়ো হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অবস্থান করেন। 

বিক্ষেভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমার ভাইকে আঘাত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমার ভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে,’ একাত্তরের পথ ধরো, বাংলা ব্লকেড সফল করো’, ব্লকেড ব্লকেড, বাংলা ব্লকেড’, ‘দফা এক দাবি এক, কোটা নট কাম ব্যাক’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ মিছিল ও ছাত্র সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করার সময় পুলিশ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা করে। আমরা এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা সংশ্লিষ্টদের আরও জানিয়ে দিতে চাই, আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছি, হামলা-মামলা দিয়ে আমাদের রাজপথ থেকে কেউ সরাতে পারবে না। আমরা চাই অতিদ্রুত আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হোক। আমরা পড়াশোনায় ফেরত যেতে চাই। যেহেতু এটা স্পষ্ট যে কোটা সংস্কার সরকারের নিয়ন্ত্রণে, তাই সরকারকে দ্রুত সংসদের অধিবেশন ডেকে কোটার যৌক্তিক সংস্কার করতে হবে। প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের জন্য সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের বেশি কোনো কোটা রাখা যাবে না।’

এদিকে নগরীর ২ নং গেটে অবস্থান করার পরে পুলিশ ফোর্স দেখে তাদের দিকে তেড়ে যান কোটাবিরোধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশকে উদ্দেশ করো ‘ভুয়া, ভুয়া’ দুয়োধ্বনি দিতে থাকেন তারা।

আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ

ইবি সংবাদদাতা জানান, গত বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন জায়গায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। বিক্ষোভটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালের পাদদেশে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘একাত্তরের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘বায়ান্নর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না’, ‘ভয় দেখিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না’, ‘হামলা করে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

রাজশাহীতে রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ

রাবি প্রতিনিধি জানান, রাজশাহীতে রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশনবাজারসংলগ্ন ঢাকা-রাজশাহী রেললাইন অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বিকেল ৪টায় দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্যারিস রোড হয়ে বিভিন্ন আবাসিক হল ঘুরে ক্যাম্পাসসংলগ্ন স্টেশনবাজার এলাকায় যাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন। বিক্ষোভে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত একই জায়গায় রেললাইন অবরোধ করা হয়।

ঢাবি ছাত্রপক্ষের আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহ, সদস্যসচিব জুবায়ের হাসিব

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৯:০৪ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৯:০৫ পিএম
ঢাবি ছাত্রপক্ষের আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহ, সদস্যসচিব জুবায়ের হাসিব
খালিদ সাইফুল্লাহ জিহাদ (বামে), জুবায়ের হাসিব। ছবি: সংগৃহীত

খালিদ সাইফুল্লাহ জিহাদকে আহ্বায়ক এবং জুবায়ের হাসিবকে সদস্যসচিব করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার ১১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ।

শুক্রবার (১২ জুলাই) অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিকেল ৫টায় ঢাবির এ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এসময় সারাদেশে চলমান কোটা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের প্রতি সংহতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে ৬ দফা দাবি পেশ করেছে নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ।  

কমিটি ঘোষণাকালে কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক আকিব হাসান বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির আঁতুড়ঘর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি অধিকার আদায়ের গণ-আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আমি বিশ্বাস করি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত অঙ্গীকারকে বুকে ধারণ করে নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।

কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সদস্যসচিব সারাফ আনজুম বিভা বলেন, স্বাধীনতার তিন মূলনীতি– সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের আলোকে শিক্ষার্থীদের রাজনীতি সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই সংগঠনের মূল লক্ষ্য। সে লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাবে।

নবনির্বাচিত আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহ জিহাদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের সম্মান-মর্যাদা এবং সামাজিক নিরাপত্তা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে। রাষ্ট্র কোনো অবস্থাতেই বৈষম্য প্রদর্শন করবে না- এ অঙ্গীকারেই জীবন-মরণপণ করে সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধাগণ। রাষ্ট্রকে বৈষম্যহীন করাই ছিল তাদের স্বপ্ন। সুতরাং কোটা সংস্কারের প্রশ্নে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় কোনো বৈষম্যের ঠাঁই হবে না।  

সদস্যসচিব জুবায়ের হাসিব বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও সমস্যা সমাধানে ৬ দফা দাবি পেশ করেছি। আবাসন, নিরাপদ ক্যাম্পাস, চাকুরির নিশ্চয়তার মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধাগুলো শিক্ষার্থীদের অধিকার। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবছর পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের মৌলিক কোনো সমস্যার সমাধান হয়নি। আগামী দিনে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে ছাত্রপক্ষ।

এসময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন, সহকারী অর্থ সম্পাদক তানজিনা জুঁই, অর্পিতা শিরিন স্বর্ণা, খালিদ হাসান প্রান্ত, রফিকুল সৌরভ, হৃদয় আহমেদ সানী, আসিফ আদনান, ফারজানা রুপন্তি, সৈকত ইসলাম প্রমুখ।

শফিক/এমএ/

কুবিতে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৬:৪৬ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৬:৪৬ পিএম
কুবিতে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন
ছবি: খবরের কাগজ

কোটা সংস্কার আন্দোলনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সাংবাদিক পুলিশি হামলার শিকার হয়েছেন। এই ঘটনায় বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা। 

শুক্রবার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যের পাদদেশে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইকবাল হাসানের সভাপতিত্বে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি দেশকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শারমিন আক্তার কেয়া বলেন, ‘গতকাল আনসার ক্যাম্পের সামনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপরও পুলিশ হামলা চালায়। তাৎক্ষণিক হামলার প্রতিবাদ করলে পুলিশ জানায়, তদন্ত সাপেক্ষে তারা সেটার বিচার করবে। আমরাও চাই, এটার সুষ্ঠু বিচার হোক। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হোক।’ 

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইকবাল হাসান বলেন, ‘আমার তিন সহকর্মী আহত হয়েছেন। তা ছাড়া একাধিক সাংবাদিককে পুলিশ মানসিকভাবে হেনস্তা করেছে, যা গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার চেষ্টা বলে আমাদের কাছে দৃশ্যমান। সাংবাদিকদের ওপর এই হামলা এবং হেনস্তার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাই বেলা ৩টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করতে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং পরে হামলা করে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক আমাদের সময়ের অনন মজুমদার, চ্যানেল আইয়ের সৌরভ সিদ্দিকী, ক্যাম্পাস টাইমসের আল শাহরিয়ার অন্তু আহত হন।

প্রত্যয় স্কিম ৩ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলন চলছেই, নেই আলোচনার উদ্যোগ

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ১২:১৯ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ১২:২০ এএম
৩ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলন চলছেই, নেই আলোচনার উদ্যোগ

সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিমে অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবিতে গত ১ জুলাই থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলছে দেশের ৪০ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের উচ্চ মহলে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে আগামী সপ্তাহের মধ্যে একটি আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া এই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের উচ্চ মহলে আমাদের এখনো অফিশিয়ালি কোনো আলোচনা হয়নি। তবে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী দেশে না থাকায় এতদিন আমাদের আন্দোলনে তিনি মনোযোগ দিতে পারেননি। এখন তিনি দেশে এসেছেন, আমরা আশাবাদী যে আগামী সপ্তাহের মধ্যে আমাদের সঙ্গে আলোচনা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয় একাত্মতা পোষণ করে একযোগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। আমাদের দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরছি না। সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলমান থাকবে।’

এদিকে প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে ঢাবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

গত ১৩ মার্চ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, “যে সকল শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ১ জুলাই তারিখের পর যোগদান করবেন তাদের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ‘প্রত্যয় স্কিম’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার জন্য বিদ্যমান অবসর সুবিধাসংক্রান্ত বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে না।”

আরিফ জাওয়াদ/এমএ/

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ‘ওয়াক দ্য টক’

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ১০:০৬ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ১০:০৬ পিএম
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ‘ওয়াক দ্য টক’
ছবি : খবরের কাগজ

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে ‘সুস্থ জীবন, সুস্থ পরিবার’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে হাঁটার গুরুত্ব জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস সোসাইটির (বিএমএসএস) ‘ওয়াক দ্য টক’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশের আটটি বিভাগের ৪০টি মেডিকেল কলেজের ৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দিবসটি উপলক্ষে সচেতনতামূলক একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহিদ মিনার থেকে জগন্নাথ হলের পাশের রাস্তা হয়ে পুনরায় শহিদ মিনারে এসে শেষ হয়। এতে সাত শতাধিক মেডিকেল শিক্ষার্থী অংশ নেন।

এর আগে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘ওয়াক দ্য টক’ কর্মসূচির ওপর আলোচনা সভা হয়। এতে অংশ নেন স্টেট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নওজিয়া ইয়াসমিন, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি ডা. আবু জামিল ফয়সাল ও চেয়ারম্যান ডা. আবতাব উদ্দিন। সভায় বক্তারা হাঁটার মাধ্যমে স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা বার্তা জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নিয়মিত হাঁটার তাগিদ দেন তারা।

দেশে দ্বিতীয়বারে মতো ওয়াক দ্য টক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে ডব্লিউএইচওর সহযোগিতায় বিএমএসএস ২০২৩ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম ঐতিহাসিক ওয়াক দ্য টক-এর আয়োজন করেছিল।