অনেক দিন আগের কথা। তখন আকাশে উড়ার কথা মানুষ শুধু স্বপ্নেই ভাবত। কিন্তু অরভিল রাইট ও উইলবার রাইট নামে দুই ভাই ঠিক করলেন, তারা এমন একটি যন্ত্র বানাবেন, যা মানুষকে আকাশে উড়তে সাহায্য করবে।
রাইট ভাইরা তখন সাইকেল সারাইয়ের দোকানে কাজ করতেন। তারা ভাবলেন, সাইকেলের মতোই যদি একটা হালকা কাঠামো তৈরি করা যায়, আর সেটায় পাখা লাগিয়ে ঠিকমতো চালাতে পারলে হয়তো আকাশে উড়াও সম্ভব হবে।
তারা দিন-রাত পরিশ্রম করতে লাগলেন। অবশেষে তারা একটি উড়োজাহাজ বানালেন। তবে চালু করতেই সেটা ভেঙে গেল। আবার বানালেন, আবার ভাঙল! কিন্তু তারা হাল ছাড়েননি। বারবার চেষ্টা করেছেন। তারা জানতেন, একদিন ঠিকই সফল হবে।
১৯০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর, আমেরিকার কিটি হক নামের জায়গায় তারা তৈরি করলেন তাদের সবচেয়ে নতুন উড়োজাহাজ, নাম দিলেন ‘ফ্লায়ার’। সে দিন চারবার তারা চেষ্টা করলেন। প্রথমবার অরভিল উড়াল দিলেন মাত্র ১২ সেকেন্ডের জন্য এবং পাড়ি দিলেন ১২০ ফুট দূরত্ব। শুনতে ছোট মনে হলেও, এটাই ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম সফল উড়োজাহাজের উড্ডয়ন!
তারপর উইলবার চালালেন, তিনি আরও বেশি সময় উড়লেন। শেষে চতুর্থবার, ফ্লায়ার আকাশে ছিল ৫৯ সেকেন্ড এবং ৮৫২ ফুট দূরত্ব অতিক্রম করল! সবাই তাকিয়ে দেখল মানুষ এখন সত্যিই আকাশে উড়তে পারে।
রাইট ভাইদের এই সাফল্য পৃথিবীকে বদলে দিল। আজ আমরা বড় বড় উড়োজাহাজে চড়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঘুরে বেড়াই, বিমানে খাবার খাই, জানালা দিয়ে মেঘ দেখি- সবকিছু সম্ভব হয়েছে ওই দুই ভাইয়ের চেষ্টা আর ধৈর্যের জন্য।
ভাবো তো, যদি তারা ভয় পেতেন, ‘আকাশে উড়তে গিয়ে পড়ে গেলে কী হবে?’ তাহলে কি আজ আমাদের উড়োজাহাজ থাকত?
মনে রেখ, স্বপ্ন দেখতে হবে বড়, আর চেষ্টা করতে হবে মন দিয়ে। কখনো হাল ছাড়া যাবে না। হয়তো একদিন তুমিও এমন কিছু আবিষ্কার করবে, যা সবাইকে তাক লাগিয়ে দেবে!
শেষে একটাই কথা, সাহসী হও, কল্পনা করো, আর পরিশ্রম করে যাও। রাইট ভাইদের মতো তুমিও একদিন আকাশ ছুঁতে পারবে।