জেলিফিশ এমন এক অদ্ভুত প্রাণী, যাকে দেখলে মনে হয় যেন পানির ভেতরে ভাসমান স্বচ্ছ ছাতা! নামের মধ্যে ‘ফিশ’ থাকলেও আসলে তারা মাছ নয়। তাদের কোনো হাড় নেই, মস্তিষ্ক নেই, এমনকি হৃৎপিণ্ডও নেই। তবুও তারা কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীর সমুদ্রে টিকে আছে। ডাইনোসরেরও আগে তাদের জন্ম!
জেলিফিশ দেখতে কেমন?
জেলিফিশের দেহ নরম ও জেলির মতো স্বচ্ছ। ওপরের অংশটি ছাতার মতো গোল, যাকে বলা হয় ‘বেল’। নিচের দিকে থাকে অনেকগুলো লম্বা শুঁড়। এই শুঁড় দিয়েই তারা খাবার ধরে। কিছু জেলিফিশ ছোট, মাত্র একটি কয়েনের মতো। আবার কিছু জেলিফিশ এত বড় হয় যে, একটি বড় টেবিলের সমান!
তারা কোথায় থাকে?
জেলিফিশ পৃথিবীর প্রায় সব সমুদ্রে পাওয়া যায়—উষ্ণ সমুদ্র থেকে ঠাণ্ডা সমুদ্র পর্যন্ত। এমনকি গভীর সমুদ্রের অন্ধকার জায়গাতেও তারা বাস করে। কিছু প্রজাতি মিঠা পানিতেও থাকে, যেমন নদী বা হ্রদে।
তারা কী খায়?
জেলিফিশ সাধারণত ছোট মাছ, চিংড়ি ও প্ল্যাংকটন খায়। তাদের শুঁড়ে থাকে ছোট ছোট বিষাক্ত কোষ। শুঁড় দিয়ে স্পর্শ করলেই শিকার অসাড় হয়ে যায়। তারপর তারা সহজেই খাবার গিলে ফেলে।
জেলিফিশ কি বিপজ্জনক?
সব জেলিফিশ বিপজ্জনক নয়। বেশির ভাগ জেলিফিশের কামড় মানুষের জন্য খুব বেশি ক্ষতিকর নয়, শুধু একটু জ্বালা বা ব্যথা হতে পারে। তবে কিছু প্রজাতি খুবই বিষাক্ত। যেমন—অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রে পাওয়া যায় বক্স জেলিফিশ, যার বিষ খুব শক্তিশালী। আবার পর্তুগিজ ম্যান ও’ওয়ার দেখতে জেলিফিশের মতো হলেও আসলে আলাদা ধরনের সামুদ্রিক প্রাণী।
জেলিফিশের বিশেষ ক্ষমতা
জেলিফিশের একটি মজার ব্যাপার হলো—তারা নিজের শরীরের বেশির ভাগ অংশই পানি দিয়ে তৈরি, প্রায় ৯৫ শতাংশ! কিছু জেলিফিশ অন্ধকারে জ্বলে উঠতে পারে। একে বলে ‘বায়োলুমিনেসেন্স’। এভাবে তারা শত্রুকে ভয় দেখাতে বা সঙ্গী খুঁজতে পারে। আরও অবাক করা বিষয় হলো, একটি প্রজাতি আছে যার নাম টুরিটোপসিস ডোহরনি। একে অনেকেই ‘অমর জেলিফিশ’ বলে। কারণ এটি বড় হওয়ার পর আবার ছোট অবস্থায় ফিরে যেতে পারে!
জেলিফিশ কীভাবে চলাফেরা করে?
জেলিফিশ খুব ধীরে চলে। তারা তাদের ছাতার মতো অংশ সংকুচিত ও প্রসারিত করে পানির মধ্যে ভেসে বেড়ায়। অনেক সময় স্রোতই তাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়।
জেলিফিশের গুরুত্ব
জেলিফিশ শুধু সুন্দরই নয়, সমুদ্রের পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তারা ছোট প্রাণী খেয়ে সমুদ্রের ভারসাম্য রক্ষা করে। আবার কচ্ছপের মতো কিছু প্রাণীর প্রধান খাবারও হলো জেলিফিশ।
মজার তথ্য
জেলিফিশের কোনো হাড় নেই। তারা ৫০ কোটিরও বেশি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে। কিছু জেলিফিশ অন্ধকারে আলো ছড়াতে পারে। তাদের শরীরের বেশির ভাগই পানি।