এক ছিল মোটা জিলাপি। সে যেমন মোটা, তেমনই রসাল।
আর এক ছিল চিকন জিলাপি। সে যেমন চিকনা, তেমনই শুকনা।
একদিন পথে ওদের দেখা হলো। চিকন জিলাপিকে দেখে মোটা জিলাপির কী হাসি! হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতে লাগল।
মোটা জিলাপিকে দেখে চিকন জিলাপিও হাসল। হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতে লাগল।
মোটা জিলাপি বলল, তুমি কে গো ভায়া?
চিকন জিলাপি বলল, কেন আমাকে বুঝি চিনতে পারছ না! আমি তো তোমার মতোই জিলাপি।
মোটা জিলাপি আবারও হাসতে লাগল। হাসতে হাসতে বলল, কি তুমিও জিলাপি! তুমি জিলাপি হলে আমি কী তাহলে?
চিকন জিলাপি বলল, কেন তুমিও জিলাপি। কিন্তু তুমি যে মোটু! বাপরে বাপ!
মোটা জিলাপি বলল, হাসালে চিকু। তুমি আমাকে সত্যিই হাসালে! এই লিকলিকে শরীরে নিজেকে জিলাপি ভাবছ! তুমি তো ভায়া বড়ই বোকা!
চিকন জিলাপি বলল, রসের সিরায় দেওয়ার আগেই আমি চলে এসেছি। তা না হলে আমিও মোটা হয়ে যেতাম। মোটু আমার একদম ভালো লাগে না! চিকন থাকার কত সুবিধা!
মোটা জিলাপি বলল, তাই নাকি চিকু! একবার রসের সিরায় নেমেই দেখতে! আমার মতো এমন স্বাস্থ্য পাওয়া অত সহজ না! ভাগ্য লাগে, বুঝেছ; ভাগ্য।
চিকন জিলাপি চুপ করে থাকল। নিজের শরীরের দিকে একবার তাকিয়ে নিল।
মোটা জিলাপি বলল, কী দেখছ গো ভায়া? শুকনা শরীরে রসের ছিটেফোঁটাও তো নেই! দেখে মনে হয় জিলাপির জীবন্ত কঙ্কাল।
চিকন জিলাপি বলল, থাক ভাই; আমি এতেই অনেক ভালো আছি। চলতে ফিরতে আমার কোনো অসুবিধা হচ্ছে না! ইচ্ছে হলেই লাফাতে পারি। দৌড়াতে পারি।
জিলাপি দুটি একটি গাছের নিচে বসল। এক সময় দুজনেই ঘুমিয়ে পড়ল।
একটা পিঁপড়া এল। আরও একটা। তারপর আরও একটা। এভাবে আরও অনেক পিঁপড়া এল। সবাই জড়ো হলো মোটা জিলাপির কাছে। মিষ্টি রসের ঘ্রাণ পেয়েই ওরা ছুটে এসেছে। তারপর মনের সুখে মিষ্টি রস খেতে শুরু করল। চিকন জিলাপির দিকে কেউ ফিরেও তাকাল না।
রস খেতে খেতে একদম শুকনা বানিয়ে দিল। ব্যথায় পুরো শরীর অবশ হয়ে গেল। তারপর পিঁপড়ারা মুখ মুছতে মুছতে চলে গেল।
চিকন জিলাপির ঘুম ভাঙলো। জেগেই দেখল, মোটা জিলাপি মাটির সঙ্গে মিশে আছে।
চিকন জিলাপি মোটা জিলাপিকে ডাকতে লাগল। ও মোটু জিলাপি, ওঠো। তোমার কী হলো গো ভায়া?
মোটা জিলাপি আস্তে আস্তে নড়েচড়ে বসল। চিকন জিলাপিকে বলল, তুমি ঠিকই বলেছ ভাই। চিকন থাকার সুবিধা অনেক। রস ছিল বলেই ওরা আমাকে খেয়ে নিল। তোমার মতো শুকনা থাকলে কি আর খেত!
চিকন জিলাপি বলল, দুঃখ পেও না ভাই। চলো আমরা দোকানে ফিরে যাই।
চিকন জিলাপি মোটা জিলাপির কঙ্কাল কাঁধে তুলে নিল। তারপর হেঁটে চলল দোকানের দিকে।