চকোলেট- শুনলেই জিভে পানি চলে আসে, তাই না? কিন্তু তোমরা কি জানো, যে মজার চকোলেট বার বা ক্যান্ডি আমরা খাই, সেগুলোর যাত্রা শুরু হয় একেবারে গাছ থেকে? আজকে চলো, জেনে নিই চকোলেট তৈরির পুরো গল্পটা।
চকোলেট আসে কোকো গাছ থেকে। এই গাছ উষ্ণমণ্ডলীয় দেশগুলোয় জন্মায়। কোকো গাছে বড় বড় রঙিন ফল হয়, যেগুলোকে বলা হয় কোকো পড। দেখতে অনেকটা লম্বাটে বলের মতো। পডের ভেতর থাকে সাদা রঙের নরম মাংসের মধ্যে লুকানো কোকো বীজ- এটাই ভবিষ্যতের চকোলেট!
প্রথমে কৃষকরা পাকা পডগুলো গাছ থেকে নামান। তারপর পড খুলে বীজগুলো বের করা হয়। এবার বীজগুলোকে কয়েকদিন রোদে বা বিশেষ বাক্সে রেখে ফারমেন্টেশন করা হয়। এতে বীজের স্বাদ ঘন হয় এবং সঠিক ঘ্রাণ তৈরি হয়। এরপর আবার রোদে শুকানো হয়, যাতে বীজ শক্ত হয়ে যায়।
সব শুকানো কোকো বীজ বড় বড় কারখানায় পাঠানো হয়। সেখানে প্রথম কাজ হলো বীজগুলোকে ভাজা বা রোস্ট করা। রোস্ট করলেই আসে সেই চেনা চকোলেটের ঘ্রাণ! এরপর বীজের খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের অংশকে বলা হয় কোকো নিভস। এগুলোকে মেশিনে খুব ভালোভাবে পিষে তৈরি করা হয় কোকো লিকর- যা দেখতে পেস্টের মতো।
এই কোকো লিকর থেকেই তৈরি হয় দুটি জিনিস, কোকো পাউডার ও কোকো বাটার। চকোলেট তৈরির সময় কোকো লিকর, কোকো বাটার, দুধ, চিনি আর ভ্যানিলা একসঙ্গে মেশানো হয়। এরপর মিশ্রণটিকে বিশেষ মেশিনে অনেকক্ষণ ধরে নরম ও মসৃণ করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলে কনচিং। এখানে চকোলেটের স্বাদ আর টেক্সচার ঠিক করা হয়।
সবশেষে চকোলেটকে সঠিক তাপমাত্রায় ঠাণ্ডা করা হয়- এটাকে বলে টেম্পারিং। এভাবে চকোলেট হয় শক্ত, চকচকে এবং কামড় দিলে ‘ক্রাঞ্চ!’ শব্দ করে। তারপর মোল্ডে ঢেলে বিভিন্ন আকারে বার, বল, ক্যান্ডি বা চকোলেট বাটন বানানো হয়।
এভাবেই গাছের এক ছোট্ট বীজ থেকে জন্ম নেয় তোমার প্রিয় চকোলেট! তাই পরের বার চকোলেট খাওয়ার সময় মনে রাখবে- এটা শুধু মজা নয়, বরং প্রকৃতি থেকে কারখানা পর্যন্ত এক দুর্দান্ত যাত্রার ফল।