ডায়রিয়া হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এটি শরীরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে, বিশেষত যদি পানিশূন্যতা হয়। ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন:
১. পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করুন
প্রচুর পরিমাণে পানি, স্যালাইন (ওআরএস), ডাবের পানি অথবা লবণ-চিনি মিশ্রিত পানি পান করুন।
প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর এক গ্লাস স্যালাইন পান করুন।
২. খাদ্য গ্রহণ
সহজপাচ্য খাবার খান, যেমন- ভাত, আলু, কলা, মুড়ি খান। চর্বিযুক্ত ও মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুরা যেন নিয়মিত দুধ পান করে।
৩. বিশ্রাম নিন
শরীর দুর্বল হলে যথেষ্ট বিশ্রাম নিন।
৪. স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন
খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে, বাথরুম ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।
৫. ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতা
সাধারণত ডায়রিয়ার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না, তবে প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। প্রোবায়োটিক বা জিঙ্ক সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উপকারী হতে পারে।
৬. কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন...
২৪ ঘণ্টার বেশি ডায়রিয়া থাকলে।
উচ্চ জ্বর বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা হলে।
শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তিরা খুব দুর্বল হয়ে পড়লে।
যদি পানিশূন্যতার লক্ষণ (মুখ শুষ্ক হওয়া, তৃষ্ণা, প্রস্রাব কমে যাওয়া) দেখা দেয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য
এই তথ্য কোনো ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। ডায়রিয়ার সমস্যা হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিলে ডায়রিয়া দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
খাবার স্যালাইন বানানোর নিয়ম
উপকরণ
১ লিটার (৪ গ্লাস) পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি
আধা চা-চামচ লবণ (প্রায় ৩ গ্রাম)
৬ চা-চামচ চিনি (প্রায় ১৮ গ্রাম)
প্রণালি
প্রথমে পানি ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন এবং ঠান্ডা করুন।
পরিষ্কার একটি পাত্রে পানি নিন।
এতে লবণ এবং চিনি মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়ুন, যতক্ষণ না সম্পূর্ণভাবে গলে যায়।
নিশ্চিত করুন যে লবণ ও চিনি সম্পূর্ণ মিশে গেছে এবং পানির স্বাদ বেশি নোনতা বা বেশি মিষ্টি না হয়।
সতর্কতা
সঠিক পরিমাণ উপকরণ ব্যবহার করুন। লবণ বা চিনি বেশি বা কম হলে তা ক্ষতিকর হতে পারে। গরম পানিতে খাবার স্যালাইন বানাবেন না, অথবা বানানো স্যালাইন গরম করবেন না।


