পিত্তথলি আমাদের যকৃতের তৈরি পিত্তরস সংরক্ষণ করে। এই পিত্তরস চর্বি হজমে সাহায্য করে। কিন্তু পিত্তরসে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন বা অন্যান্য উপাদান জমে গেলে তা ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে পাথরে পরিণত হয়। শুরুতে এটি বালুর দানার মতো ছোট থাকলেও সময়ের সঙ্গে বড় হতে পারে।
কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
সব গলস্টোন বিপজ্জনক নয়। অনেকেই কোনো উপসর্গ ছাড়াই জীবন কাটান। তবে সমস্যা হয় তখন, যখন পাথরটি পিত্তনালিতে আটকে গিয়ে পিত্তপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়। তখন তীব্র ব্যথা ও গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।
লক্ষণগুলো কী?
পিত্তথলির পাথর সাধারণত কোনো লক্ষণ সৃষ্টি করে না। কিন্তু পাথর আটকে গেলে হঠাৎ উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন-
পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে তীব্র ব্যথা
বমিভাব বা বমি
জ্বর বা ঘাম
পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি
চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)
গাঢ় প্রস্রাব ও হালকা রঙের মল
ব্যথা কেমন হয়?
এই ব্যথাকে অনেক সময় ‘গলস্টোন অ্যাটাক’ বলা হয়। এটি হঠাৎ শুরু হয় এবং বেশ তীব্র হয়। সাধারণত ভারী বা চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর ব্যথা বাড়ে। ব্যথা কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং কখনো কাঁধ, পিঠ বা ডান হাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কেন হয় এই রোগ?
পিত্তথলির পাথর হওয়ার প্রধান কারণ হলো পিত্তরসে ভারসাম্যহীনতা। এর মধ্যে রয়েছে–
অতিরিক্ত কোলেস্টেরল
অতিরিক্ত বিলিরুবিন
পিত্তরসের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা
পিত্তথলির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
কিছু মানুষের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। যেমন-
নারীরা (বিশেষ করে ২০-৫০ বছর বয়সে)।
বেশি ওজন বা স্থূলতা রয়েছে যাদের।
দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করেন যারা।
পরিবারে এ রোগের ইতিহাস থাকলে।
বয়স যাদের বেশি।
কী ধরনের জটিলতা হতে পারে?
যদি পাথর দীর্ঘ সময় আটকে থাকে, তা হলে গুরুতর সমস্যা হতে পারে। যেমন-
পিত্তথলির প্রদাহ (কোলেসিস্টাইটিস)
অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ (প্যানক্রিয়াটাইটিস)
পিত্তনালির সংক্রমণ
জন্ডিস
রক্তে সংক্রমণ (সেপসিস)
কীভাবে ধরা পড়ে?
ডাক্তার সাধারণত রক্ত পরীক্ষা ও আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে এই রোগ নির্ণয় করেন। প্রয়োজনে আরও কিছু বিশেষ পরীক্ষা করা হতে পারে, যেমন এমআরসিপি বা ইআরসিপি।
চিকিৎসা কী?
যদি কোনো উপসর্গ না থাকে, তা হলে অনেক সময় চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসা জরুরি।
সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা হলো পিত্তথলি অপসারণ (অপারেশন)। এই অপারেশন সাধারণত নিরাপদ এবং এর পরেও স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব। কারণ তখন পিত্তরস সরাসরি যকৃৎ থেকে অন্ত্রে প্রবাহিত হয়।
কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ ব্যবহার করে ছোট পাথর গলানোর চেষ্টা করা হয়, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।
লেখক: চিকিৎসক, জেনারেল হাসপাতাল, জামালপুর



