অনেক দিন আগের কথা। সে সময় কারওয়ানবাজারে মুক্তকণ্ঠ পত্রিকায় কাজ করি। কারওয়ানবাজারে সব সময়ই একটা ভীতিকর অবস্থা বিরাজ ছিল। অফিসের সামনেই সড়ক। বের হলেই কারওয়ানবাজার মোড়ে বাস এসে থামে। চোখের পলকেই চলন্ত গাড়ি থেকে মোবাইল ঘড়ি ছোঁ মেরে নিয়ে যাচ্ছে।
তখন বসুন্ধরা মার্কেটের বিরাট কর্মযজ্ঞ চলছিল। এলাকাটির আশপাশে রেললাইন ধরে অনেক বস্তি ছিল তখন। তাই মাদকাসক্ত পকেটমারের দৌরাত্ম্য ছিল চোখে পড়ার মতো। পকেটমারদের গ্রুপ থাকত। টোকাই আর ছিন্নমূল শিশু-কিশোরদের টার্গেট করে পকেট কাটার প্রশিক্ষণ দিত তাদের দলনেতা। কীভাবে দুই আঙুল দিয়ে পকেট থেকে শক্তভাবে টাকা তুলে নিয়ে দলের অন্য একজনকে দিয়ে সরে পড়তে হয়। ধরা পড়ার পর কীভাবে মরে যাওয়ার ভান করা লাগে এসবই থাকত তাদের কঠোর প্রশিক্ষণে।
অফিস থেকে দুপুরের খাবার খেতে বের হয়েছি অমনি চোখে পড়ল চলন্ত গাড়ি থেকে লুকিং গ্লাস খুলে নেওয়ার দৃশ্য। এমনই অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হতে হয়েছে কারওয়ানবাজারে।
এবার আসলে গল্পে আসা যাক। একজন ভদ্রলোক কারওয়ানবাজারে গেছেন পকেটমার ধরবেন বলে। পাঞ্জাবি পরে তিনি বাজারের অলিগলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন যাতে করে অতি সহজেই পকেটমার পকেট কাটতে পারে আর তিনি খপ করে ধরে ফেলতে পারেন। তার বড় ইচ্ছা পকেটমার ধরেই ছাড়বেন। ঘণ্টাখানেক ঘুরলেও তার পকেটে তো কেউ হাত দিচ্ছিল না। তিনি পকেটমারদের ওপর চরম নাখোশ হলেন। বারবার কাঁচাবাজার আর মাছবাজারে চক্কর খেতে লাগলেন। একসময় বিরক্ত হয়ে বলতে লাগলেন, শুনেছি এখানে কত পকেটমার রয়েছে। কই? তারা তো আমার পকেট কাটতে পারল না। পাশেই দাঁড়ানো ছিল পকেটমারের দলনেতা। বললেন, ‘ভাই, এত বড় কথা কইয়েন না। পকেটমার ছেঁড়া টাকা নেয় না’। তিনি হেসে দিয়ে আরও বললেন, ‘ভাই আপনি আমাদের পকেটমার নিয়ে আজেবাজে কথা বলবেন না। বাজারে ফকিরের মতো একটা ছেঁড়া ৫০০ টাকার নোট নিয়ে এসেছেন; যা দিয়ে কিছু কেনা যাবে না। আপনার ডান পকেটের টাকা এখন বাম পকেটে আছে। পকেটমার ছেঁড়া টাকা ধরে না।’ এ কথা শুনে ভদ্রলোকের তো আক্কেল গুড়ুম!
অগত্যা পকেটে হাত দিয়ে বেহুঁশ হওয়ার মতো অবস্থা হলো ভদ্রলোকের। ঠিকই তো, তিনি ডান পকেটেই টাকা রেখেছিলেন, পকেটমার টাকা হাতিয়ে কিছুক্ষণ তার কাছে রেখে দেখেন এ ছেঁড়া টাকা চালানো বড়ই কঠিন কাজ হবে। তাই অগত্যা যার টাকা তার পকেটে রেখে দিয়েছেন।
এ ঘটনাটিই বলে দেয় একসময় কারওয়ানবাজার ও এর আশপাশ এলাকা ছিল পকেটমার আর ছিনতাইয়ের স্বর্গরাজ্য।
অলিউর রহমান ফিরোজ
মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার
মুন্সীগঞ্জ
তারেক
.jpg)
.jpg)