নানা রহস্যে ভরা আমাদের এই পৃথিবী। এর প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি পরতে রয়েছে একের পর এক চমক। আলাদা-আলাদা বৈশিষ্ট্য নিয়ে এ পৃথিবীতে রয়েছে কোটি খানেক পশু-পাখি, প্রাণী ও গাছের প্রজাতি। সবাই জানি পাখির আশ্রয় হচ্ছে গাছ। গাছে পাখিরা থাকে, বাসা বাঁধে। কিন্তু এমন একটি গাছ আছে, যে গাছে বসলেই পাখিরা মারা যায়।
গাছটির নাম পিসোনিয়া। এই গাছটি ‘বার্ড ক্যাচার’ নামেও পরিচিত। সাধারণত, প্রায় সব গাছ থেকেই আশপাশের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে সুগন্ধী কিছু যৌগ যা আকর্ষণ করে পোকা-মাকড়দের। গাছের মধুও আকৃষ্ট করে পাখিদের। পিসোনিয়া গাছেরও এই বৈশিষ্ট্য আছে।
পিসোনিয়া পরিবারবর্গের অন্তর্ভুক্ত গাছগুলো দেখতে নিরীহ মনে হলেও এই গাছগুলোর রয়েছে মারাত্মক এক রহস্য। গাছগুলোর শেকড়ের মাঝে খোঁজ করে দেখুন; হয়তো পেয়ে যাবেন ছোট ছোট নরম হাড়ের বিশাল ভাণ্ডার!
কারণ দেখতে যতই নিরীহ লাগুক, পিসোনিয়া গাছের আরেক নাম ‘পাখি ধরা গাছ’।
এ ধরনের গাছগুলোতে এক ধরনের আঠালো বীজ শুঁটি উৎপন্ন হয়, যা পোকামাকড়কে আকৃষ্ট করে নিজের আঠার জালে আটকে ফেলে। পাখি যেহেতু পোকা খায়, তাই গাছে আটকে থাকা পোকা খেতে গিয়ে প্রায়ই তারাও আটকে যায় গাছের সঙ্গে।
অনেকগুলো বীজ গায়ে একসঙ্গে আটকে গেলে ভারের চোটে পাখিগুলো মাটিতে পড়ে যায়, উড়তে পারে না। সেগুলো তখন মাটিতে পড়ে থেকে খাবারের অভাবেই মারা যায়, যদি না তার আগেই কাঁকড়া বা অন্য কোনো প্রাণী তাদের খেয়ে ফেলে।

কখনো আবার গাছের ডালেই আটকে থাকে ছোট পাখিগুলো। সেখানেই মারা যায়, সেখানেই শুকিয়ে মমি হয়ে যায় তাদের দেহ।
এতদিন ধারণা করা হতো, পিসোনিয়া গাছগুলো হয়তো মৃত পাখির দেহ থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে। অথবা মৃতদেহগুলো সার হিসেবে ব্যবহার হয়। কিন্তু ইউনিভার্সিটি অব ভিক্টোরিয়ার ইকোলজিস্ট অ্যালান বার্গার তার গবেষণায় দেখেন, এই দুটি ধারণার একটিও ঠিক নয়। গাছগুলো পাখিদের আকৃষ্ট করে বংশবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে, যেন তাদের গায়ে বীজ আটকে পাঠিয়ে দিতে পারে দূরের কোনো এলাকায়।
কিন্তু পাখি যদি উড়তেই না পারে তবে এই কৌশল কী কাজে দেবে? আসলে পাখি হত্যা গাছটির কৌশলের অংশ নয়। শুঁটির গুচ্ছ থেকে গায়ে লেগে যাওয়া বীজের সংখ্যা বেশি হয়ে গেলেই পাখি আটকে যায়। কম পরিমাণে বীজ আটকালে গাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বীজ নিয়ে উড়ে যেতে পারে পাখি।
তাছাড়া পিসোনিয়া গণভুক্ত গাছগুলোর বংশবৃদ্ধির প্রধান পদ্ধতি হলো ভাঙা ডাল থেকে নতুন গাছ। বীজ থেকে বংশবৃদ্ধির কৌশলটি শুধু দূরবর্তী স্থানে ছড়িয়ে যাওয়ার জন্য। তাই বংশবৃদ্ধিতে কোনো সমস্যা হয় না গাছগুলোর।
পিসোনিয়া ‘ক্যাচ বার্ড ট্রি’ বা ‘বার্ডলাইম ট্রি’ নামেও পরিচিত। এই গাছে বছরে দুবার ফুল হয়। প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এই গাছ দেখা যায়।
তারেক/
.jpg)