সাহিত্যের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও মেধা না থাকলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো প্রকাশনা দীর্ঘ এক যুগ ধরে চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মিরপুরে সাহিত্য পত্রিকা লেখমালার যুগপূর্তি উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাজধানীর মিরপুরে দিনব্যাপী 'লেখমালা যুগপূর্তি উৎসব' অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে দেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গবেষকরা অংশ নিচ্ছেন।
উৎসবের উদ্বোধনী পর্বে কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামালের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক আতা সরকার, কবি আসাদ মান্নান, গবেষক ড. মোহাম্মদ জয়নুদ্দীন, কবি ফারুক মাহমুদ এবং ত্রৈমাসিক ‘অনুপ্রাণন’-এর সম্পাদক আবু এম ইউসুফ।
মোস্তফা কামাল বলেন, একটি পত্রিকা ১২ বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে অব্যাহত রাখা সাধুবাদের যোগ্য। এই পত্রিকার মাধ্যমে লেখমালার সম্পাদক মামুন মুস্তাফা অনেক নতুন লেখক তৈরি করেছেন। এখানে লিখতে লিখতেই অনেকের হাত পেকেছে।
পত্রিকাটির বৈচিত্র্যময় বিষয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমি দেখলাম তিনি (মামুন মুস্তাফা) ফারসি সাহিত্য নিয়েও কাজ করেছেন। বিদেশি সাহিত্যের সঙ্গে আমাদের পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং সাহিত্যের আদান-প্রদান ঘটিয়ে পাঠকদের সমৃদ্ধ করার এই কাজ মেধা ও মনন ছাড়া সম্ভব নয়।
সাহিত্য পত্রিকা চালানোর আর্থিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে এই কথাসাহিত্যিক বলেন, এ ধরনের কাজ আসলে 'নিজের খেয়ে বনের মেষ তাড়ানোর' মতো। নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে এসব করতে হয়। বিজ্ঞাপন পাওয়া যায় না, আবার লজ্জায় অনেকের কাছে চাওয়াও যায় না। কোনো বিজ্ঞাপন ছাড়াই কাগজ, প্রিন্টিং ও আনুষঙ্গিক খরচ বহন করা সাহিত্যের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুই নয়।
পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করে মোস্তফা কামাল রসিকতা করে বলেন, এসব কাজ করতে গেলে পরিবার থেকেও কথা শুনতে হয়। হয়তো স্ত্রী বলেন, বাসায় ঠিকমতো বাজার করো না, আর এসব করে বেড়াচ্ছ! লেখকদের দ্বারে দ্বারে যেতে হয়, সময় দিতে হয়। এই যে ‘গাধার খাটুনি’ খেটে তিনি প্রকাশনাটি টিকিয়ে রাখছেন, তাকে আমি শ্রদ্ধা জানাই।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কলকাতায় আমি দেখেছি শত বছরের পুরনো লিটল ম্যাগাজিন এখনো টিকে আছে। কিছু সংগ্রাহক আছেন যারা ১৫০ বছর আগের পত্রিকাও সংগ্রহে রেখেছেন। সাহিত্যের এই মানুষগুলো আছে বলেই শিল্প-সাহিত্য বেঁচে থাকে।
পরে শনিবার বেলা ১১টায় ‘বিউটি বোর্ডিংয়ের ধারাবাহিকতা’ শীর্ষক আড্ডা ও মুক্তকথার মধ্য দিয়ে মূল আয়োজন শুরু হয়। দুপুরে ‘এআই যুগে ছোটকাগজের প্রাসঙ্গিকতা’ এবং বিকেলে ‘বাংলাদেশের কবিতার বাঁকবদল: নব্বইয়ের দশক’ শীর্ষক দুটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা বা মুক্তকথার আয়োজন রাখা হয়েছে।
লেখমালার সম্পাদক মামুন মুস্তাফা জানান, যুগপূর্তির এই আয়োজনে শুধু আলোচনা নয়, বরং লেখমালা যুগপূর্তি পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান, কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জয়ন্ত সাহা/নাঈম