ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ২ প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র জনবল নেবে ব্যাংক এশিয়া টুঙ্গিপাড়ায় বিদ্যালয়ের ফ্যান, জানালা, বই-খাতা বিক্রির অভিযোগ শাবনূরকে নিয়ে যা বললেন পূর্ণিমা হাম-উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু নওগাঁয় পানিতে ডুবে ১৩ মাসের শিশুর মৃত্যু টুঙ্গিপাড়ায় এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ পুশইন বন্ধে ভারতকে ১০-১২টি চিঠি দিয়েছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফলাফলের তারিখ ঘোষণা সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু ভাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু সরিষাবাড়ীতে চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা, এলাকাবাসীর তৎপরতায় রক্ষা বিল-ঝিলে পদ্ম ও শাপলার মায়াবী রূপ শরীয়তপুরে মাটি গরম হয়ে ধোঁয়া ওঠা স্থানে গ্যাস নেই: বাপেক্স শার্শায় আওয়ামী লীগ নেতা টিংকু গ্রেপ্তার শক্তিশালী ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান নেতানিয়াহু! মানিকগঞ্জে বাবার মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্ত ছেলে ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃত্যু ১৯, আহত ১৩০ ড. ইউনূসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ প্রতিদিন ১০০ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে : মির্জা ফখরুল মাঠের ফুটবল যখন জীবনের ব্যাধি হয়ে দাঁড়ায় ইসরায়েলের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ইরানের হামলা পাঁচ বছর না খেয়েও যেভাবে বেঁচে থাকে গভীর সমুদ্রের প্রাণী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস খাদে পড়ে নারী-শিশুসহ নিহত ৪ ধামরাইয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা আবারও ম্যাচ চলাকালে মাঠে লুটিয়ে পড়লেন এরিকসেন
Nagad desktop

পুরস্কারের প্রতি আমার মোহ ছিল না

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০১:০৪ পিএম
পুরস্কারের প্রতি আমার মোহ ছিল না
মোহন রায়হান

বইমেলা পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য হিসেবে মেলার পরিকল্পনাটা আমার জানা আছে। আশা করছি, বইমেলা নিয়ে আলোচনায় যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা পালন করলে অবশ্যই সুন্দর হবে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর বইমেলা নিয়ে কিছু দাবি ছিল। বিগত স্বৈরশাসকের যারা দোসর ছিল, তারা অনেক প্রকাশককে নানাভাবে দমন-পীড়ন করেছে। তাদের মেলায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কিছু প্রকাশককে মেলায় স্টল বরাদ্দ দেওয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছিল। এই মুহূর্তে আমরা ফ্যাসিস্টদের মতো আচরণ করতে পারি না। তাই তাদের স্টলের সাইজ কিছুটা ছোট করে দেওয়া হয়েছে। 

এবারের বইমেলায় অয়ন প্রকাশনী থেকে আমার কবিতাসমগ্র বের হবে। পুরস্কার পাওয়ার প্রতি আমার কখনোই কোনো মোহ ছিল না। বাংলাদেশে পুরস্কার পাওয়ার যে প্রক্রিয়া, সেই প্রক্রিয়াকে আমি ঘৃণা করি। যখন যে সরকার আসে, সেই সরকারের তল্পিবাহকরা, পছন্দের লোকেরা ও দলের লোকেরা পুরস্কার পেয়ে থাকেন। আমার মনে হয়, অনেকটা ভুল পথে এসব পুরস্কার দেওয়া হয়। বাংলা একাডেমির পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল। এরপর কিছু পরিবর্তন হলেও মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। 

এবারের জাতীয় কবিতা উৎসব ছিল অনেকটা চ্যালেঞ্জের। আশির দশকে কবিতা পরিষদের প্রথম আহ্বান আমিই করেছিলাম। সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন এবং তার গুম ও খুনের ইতিহাস ধামাচাপা দেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি কবিদের ডেকে নিয়ে ঢাকার ওসমানী উদ্যানে এশীয় কবিতা উৎসবের আহ্বান করেছিলেন। সেটাকে চ্যালেঞ্জ করে তরুণ কবিরা কবিতা উৎসবের আয়োজন করেছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে খোলা প্রান্তরে আমরা জাতীয় কবিতা উৎসবের আয়োজন করি। ‘শৃঙ্খলা মুক্তির জন্য কবিতা’ স্লোগানে কবিতা উৎসবের আয়োজন করেছিলাম। সেই উৎসবে অভূতপূর্ব সাড়া পড়েছিল এবং সারা দেশ থেকে কয়েক শ কবি এসেছিলেন। সেদিন ১০ সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় এ দেশের মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে কবিরা কলম ধরেছেন। গণতন্ত্র ও অধিকারের জন্য কলম ধরেছেন কবিরা। মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা- সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এগোচ্ছিলাম। তারপর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে তাদের পছন্দের লোক দিয়ে কমিটি গঠন করল। বিগত ১৬ বছর শেখ হাসিনার পছন্দের লোকেরা কবিতা পরিষদে ছিলেন। 

বৈষম্য ও কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর যে নিপীড়ন-অত্যাচার হয়েছে, এটাকে সমর্থন করেছে জাতীয় কবিতা পরিষদ। এই সময়ে তারা একটি কথাও বলেননি। এর পক্ষে তারা কলম ধরেছেন এবং শেখ হাসিনা সরকারকে সমর্থন করেছেন। কিন্তু আমরা রাজপথে ছিলাম। এবারের জুলাই বিপ্লবে আমরা রাজপথে ছিলাম। হাসিনার পতনের পর আমাদের শ্রমে-ঘামে গড়া জাতীয় কবিতা পরিষদ পুনর্গঠন করেছি। 

তরুণ লেখকদের বিষয়ে কিছু বলতে চাই। আমি অনেকের লেখা পড়েছি। তাদের লেখা সময়কে ধারণ করছে। তবে তাদের লেখার গঠন ও মান নিয়ে কিছু প্রশ্ন আছে। তাদের আরও বেশি লেখাপড়া করতে হবে। ভালো লিখতে হলে অনেক বেশি পড়তে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। 

লেখক: মোহন রায়হান, কবি ও সভাপতি, জাতীয় কবিতা পরিষদ

অনুলিখন: সানজিদ সকাল

ভারতের সিলেটভাষী অঞ্চলে যৌথ বইমেলার আহ্বান

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
ভারতের সিলেটভাষী অঞ্চলে যৌথ বইমেলার আহ্বান
সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের সঙ্গে চৈতন্য প্রকাশনের প্রকাশকের সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেট অঞ্চলের প্রতিবেশী ও সিলেটভাষী হিসেবে ভারতের শিলচর, আগরতলা ও গৌহাটিতে বইমেলার আয়োজন এবং সিলেটের বইমেলায় ভারতের প্রকাশক, লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের সম্পৃক্ত করতে সিলেটে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে সিলেটে প্রকাশকদের আট দিনব্যাপী বইমেলার প্রেক্ষিতে সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে চৈতন্য প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী প্রকাশক জাহিদুল হক চৌধুরী রাজীব এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাতে দুই বাংলার সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা শিল্পের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিনিময় নিয়ে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় ভারতের শিলচর, আগরতলা ও গৌহাটিতে আয়োজিত বিভিন্ন বইমেলায় বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের প্রকাশকদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা। 

পাশাপাশি সিলেটের বইমেলা ও সাহিত্য আয়োজনগুলোতে ভারতের প্রকাশক, লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ও গুরুত্ব পায়।

প্রকাশক রাজীব চৌধুরী বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি মানুষের হৃদয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী সেতুবন্ধন। সীমান্ত ও ভৌগোলিক দূরত্বের ঊর্ধ্বে উঠে বই, ভাষা ও চিন্তার আদান-প্রদান দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও মানবিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে। 

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের লেখক, পাঠক, গবেষক ও প্রকাশকরা নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন পাঠকগোষ্ঠী এবং বিস্তৃত সাংস্কৃতিক যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলগুলোর মধ্যে সাহিত্যিক মেলবন্ধন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও মত প্রকাশ করা হয়।

প্রসঙ্গত, সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গত ১০ মে থেকে আট দিনব্যাপী বইমেলা চলছে। প্রকাশক পরিষদ সিলেট আয়োজিত এই মেলাটি চলবে ১৮ মে পর্যন্ত। 

বইমেলার আয়োজন করতে গিয়ে বিগত অন্তবর্তী সরকার আমলে বাধার সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকার আমলেও একই রকম বাধার মুখে পড়ে বইমেলা বাতিল করা হয়েছিল। পরে অবশ্য পুলিশ অনুমতি দিলে বইমেলা শুরু হয়।

প্রকাশক জাহিদুল হক চৌধুরী রাজীব খবরের কাগজকে বলেন, সিলেট বইমেলা সফলভাবে সম্পন্নের পর বহির্বিশ্বে সিলেট বইমেলার আয়োজন ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে প্রকাশক পরিষদের। ব্যক্তিগত সৌজন্য সাক্ষাতে এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছি।

অমিয়/

আবারও বইমেলার ধারায় ফিরল সিলেট

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
আবারও বইমেলার ধারায় ফিরল সিলেট
প্রকাশক পরিষদ সিলেটের আয়োজনে গত রবিবার থেকে শুরু হয়েছে আট দিনের বইমেলা। গতকাল সোমবার মেলা প্রাঙ্গণে পাঠকদের ভিড় দেখা যায়। সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে তোলা। ছববরের কাগজ

নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আবারও বইমেলার ধারায় ফিরেছে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়জুড়ে ছিল বাধা, পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকার এলেও সেই প্রতিবন্ধকতা অব্যাহত থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত সব বাধা কাটিয়ে আবারও বইমেলার আয়োজনে ফিরেছে নগরীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ।

গত রবিবার বিকেল ৪টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের মুক্তমঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আট দিনব্যাপী বইমেলা। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

প্রকাশক পরিষদ সিলেটের সভাপতি নাজমুল হক নাজুর সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘আমরা সব সময় সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চাকে উৎসাহিত করি। এতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে আমরা ব্যথিত হই। সিলেটে বইমেলার আয়োজন অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। আশা করি, এই বইমেলা প্রতিবছর নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে সিটি করপোরেশন সব সময় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।’

বইমেলার প্রথম আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বইমেলার ধারা প্রায় এক দশকের পুরোনো। টিলাভূমির আদলে উঁচুতে নির্মিত শহিদ স্মারকস্তম্ভ ও মাঝখানে রক্তিম সূর্যের নকশায় পুনর্নির্মিত শহিদ মিনার উদ্বোধনের পর থেকেই নগরবাসীর দৃষ্টি কাড়ে। ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর উদ্বোধনের পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে একদল বইপ্রেমী তরুণ সেখানে প্রথম বইমেলার আয়োজন করেন। একটি পাঠক সংগঠনের উদ্যোগে তিন দিনের ছোট পরিসরের সেই আয়োজন পরের বছর ২০১৬ সালে আরও বিস্তৃত হয়। এরপর থেকেই শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে সাহিত্য-সংস্কৃতিজনের মিলনমেলা।

শহিদ মিনারে প্রথম বইমেলার পৃষ্ঠপোষক ছিল সিলেট মডেল লাইব্রেরি। পরে যুক্ত হয় সিটি করপোরেশন। প্রথম বইমেলার অন্যতম সংগঠক মোমেন মিয়া বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। আর পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান সিলেট মডেল লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান দেশেই আছেন।

তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘সেই আয়োজনের পর যতবার বইমেলা হয়েছে, ততবারই গর্ববোধ করেছি। কারণ বইমেলার মতো একটি সৃজনশীল আয়োজনের শুরুতে আমারও অংশগ্রহণ ছিল।’

করোনাকালেও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বইমেলার ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েনি। তবে বইমেলার পরিসর বড় করতে প্রকাশক পরিষদ উদ্যোগী হলে একটি মহল নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে শুরু করে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলকে কেন্দ্র করে প্রকাশক পরিষদকে বইমেলার আয়োজন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলে। গত দুই বছর দফায় দফায় উদ্যোগ নিয়েও বইমেলা করা সম্ভব হয়নি। এমনকি নির্বাচিত সরকার আমলেও অনুমতি দিয়ে পরে তা বাতিল করা হয়েছিল। অবশেষে পুনরায় অনুমতি মেলায় গত ১০ মে থেকে শুরু হয় বইমেলা।

প্রকাশনা জগৎ পুরোনো হলেও সিলেটে প্রকাশকদের সাংগঠনিক যাত্রা নতুন। ২০২৩ সালের ১৫ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় প্রকাশক পরিষদ সিলেট। এবারের বইমেলায় অংশ নেওয়া সদস্যভুক্ত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে দোআঁশ, মাছরাঙা, নাগরী, পাপড়ি, গ্রন্থকুটির, ঘাস, দ্যু, গাঙুর, চৈতন্য, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন, চিলেকোঠা, কালান্তর, স্বরবর্ণ, গ্রন্থিক, নোভা, স্বপ্ন ৭১, পাণ্ডুলিপি ও বুনন।

আগামী ১৮ মে পর্যন্ত চলবে বইমেলা। গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিন থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। প্রকাশক পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক সুফি সুফিয়ান জানান, প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলাকালে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, নাটক মঞ্চায়নসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে। গতকাল বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সাংস্কৃতিক আয়োজনে ছিল সংগীত পরিবেশনা ও নতুন বই প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা।

কোথায় হারালো লাল কাঁকড়া সান্দ্রা?

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
কোথায় হারালো লাল কাঁকড়া সান্দ্রা?
লাল কাঁকড়ার বাড়ি

ভোরের সূর্য উঁকি দিতেই ঘুম ভাঙে ছোট্ট লাল কাঁকড়ার। ঝুঁটি করা শিং দুটো আহ্লাদে নাড়ায়। ওর নাম সান্দ্রা।
মায়ের দিকে তাকায় সে। গভীর ঘুমে মা-বাবা। শব্দ না করে আস্তে আস্তে গর্ত থেকে মাথা বের করতেই মা ঘুমজড়ানো গলায় বলেন,
‘সান্দ্রা, বেশিদূর যেও না। আশেপাশেই থাকবে। আজকাল সৈকতে মানুষের খুব আনাগোনা বেড়েছে।’
আচ্ছা, সে যে বাইরে যাবে—এটা মা কীভাবে বুঝল?
মায়েরা তো সবই বুঝে যায়!
বেশি দূর না যাওয়ার অঙ্গীকার করে গর্ত থেকে বেরিয়ে পড়ে সান্দ্রা। তাকে দেখেই পিলপিল করে ছুটে আসে মারি—সান্দ্রার বন্ধু। আট পায়ের ছাপে বালুর ওপর আঁকে যেন আলপনা। পিলপিল করে দৌড়ায় তারা, খিলখিল করে হাসে। তাদের হাসিতে দুলে ওঠে ঝাউবন।
এরপর? শেষ হয়ে যায় খেলা। সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা লাবি আর শ্রেয়ের বাবার ঝুড়িতে ধরা পড়ে সান্দ্রা।
এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গেছ—সান্দ্রা একটি কাঁকড়া। লাল কাঁকড়া। মায়ের কথা না শুনে সৈকতে চলে এসেছিল সে, আর ধরা পড়ে মানুষের হাতে। তবে জানো কী? সেই মানুষ—শ্রেয় ও লাবিদের পরিবার—খুব ভালো। তাই তারা সান্দ্রাকে আবার ছেড়ে দেয়।
আসলে মানুষ কাঁকড়া ধরে খাওয়ার জন্য। তাই কাঁকড়ারা মানুষকে ভয় পায়, তাদের থেকে লুকিয়ে থাকে। কাঁকড়া সান্দ্রা, তার পরিবার আর লাবি-শ্রেয়দের পরিবারকে নিয়ে চমৎকার এক গল্প লিখেছেন লেখক আহমেদ মুশফিকা নাজনীন।
সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গিয়ে তোমরা হয়তো বালিতে কাঁকড়াদের নানান নকশা করতে দেখেছ। আট পায়ের এই সুন্দর প্রাণীটিকে দেখে চমকিত হয়েছ। বাবা-মায়ের সঙ্গে মজা করে খেয়েছ কাঁকড়া ফ্রাইও। কিন্তু এই ছোট্ট প্রাণীটিকে নিয়ে কখনো ভেবেছ কি?
মানুষ দেখলে কেন ভয়ে বালির গর্তে লুকিয়ে পড়ে কাঁকড়ারা? কেন মানুষ তাদের ধরে নিয়ে খায়? মানুষ আর প্রকৃতি কি বন্ধু হতে পারে না?—এমন প্রশ্নগুলোই ভেবেছেন আহমেদ মুশফিকা নাজনীন।
এসব ভাবনা নিয়েই তিনি লিখেছেন শিশুতোষ গল্পের বই ‘লাল কাঁকড়ার বাড়ি’।
বইটিতে দেখা যায়, ছোট্ট লাল কাঁকড়া সান্দ্রা ধরা পড়ে শ্রেয়দের হাতে। পরে নানা বুদ্ধি করে সে আবার ফিরে আসে সৈকতে। লাবি-শ্রেয়ের বাবা তাকে সাহায্য করেন। তারা বুঝতে পারেন, এভাবে কাঁকড়া ধরা ঠিক নয়। প্রকৃতির অন্যান্য প্রাণীরাও একে অন্যকে সাহায্য করে—যেমনটি আমরা টিকটিকি ও মশার ক্ষেত্রে বইটিতে দেখি।
শিশুমনে প্রকৃতির প্রতি মায়া জাগাতেই এই গল্প লেখা। গল্পটি চমৎকার আঙ্গিকে বই আকারে প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড। এর প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করেছেন তাপস সরকার।
তোমাদের যাদের বয়স দশ বা তার বেশি, তারা পড়ে ফেলতে পারো ‘লাল কাঁকড়ার বাড়ি’ বইটি। আর হারিয়ে যেতে পারো সান্দ্রার রঙিন জগতে।

মেলার মুখ এবারের অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রস্তুতির ভিত্তি হয়ে উঠুক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
এবারের অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রস্তুতির ভিত্তি হয়ে উঠুক
দীপংকর দাশ

এবারের একুশে বইমেলা যেন একধরনের দ্বিধা ও অনিশ্চয়তার আবহে পথচলা শুরু করেছিল। বইমেলা নিয়ে নানা শঙ্কা-সংশয়ের কারণে লেখক, প্রকাশক–কেউই খুব একটা প্রস্তুত হতে পারেননি। এমনকি আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু বাংলা একাডেমির প্রস্তুতিতেও ঘাটতি চোখে পড়েছে বলে অনেকেই মনে করেছেন। তবু সব অনিশ্চয়তার মাঝে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে, এও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

তবে এই শঙ্কার কারণে পাঠকরাও বিভ্রান্ত হয়েছেন। ২১ ফেব্রুয়ারিসহ বিশেষ দিনগুলোতে পাঠকরা অনেকে মেলা প্রাঙ্গণে ঘুরে গেছেন। সার্বিকভাবে এবারের মেলায় পাঠকের উপস্থিতি কম, বিক্রিও আশাব্যঞ্জক নয়। এ ছাড়া মেলার শেষ দিকে হঠাৎ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে প্রকাশকরা অর্থনৈতিকভাবে বিরাট ধাক্কা খেলেন। অনেকের পক্ষে হয়তো ঘুরে দাঁড়ানোই কষ্টকর হবে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নীতি গ্রহণ করা জরুরি। সরকারি উদ্যোগে ভালো বই কেনা, স্কুল-কলেজে বই পড়া উৎসাহিত করা, পাঠাগারগুলোর কার্যক্রমকে গতিশীল করা এবং জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নিয়মিত বইমেলার আয়োজন করা–এ রকম নানা উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বই পড়ার সংস্কৃতি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে পারে। সব মিলিয়ে এবারের বইমেলার অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে আগামী বইমেলার প্রস্তুতি নিতে হবে।

রয়্যালটি নিয়ে মাঝে মাঝে কিছু অভিযোগ শোনা যায়। তবে অনেক সময় যেসব বই খুব বেশি বিক্রি হয় না কিংবা যেসব বই লেখক নিজ খরচে প্রকাশ করেন, সেসব ক্ষেত্রে এই ধরনের অভিযোগ বেশি ওঠে। তবে পেশাদার লেখকদের ক্ষেত্রে রয়্যালটি একটি স্বাভাবিক ও স্বীকৃত প্রক্রিয়া। প্রকাশনা জগতে তা যথাযথভাবেই অনুসরণ করা হয়। এ ধরনের সমস্যা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো–লেখক ও প্রকাশকের মধ্যে স্পষ্ট চুক্তি থাকা। লিখিত চুক্তি থাকলে উভয় পক্ষের স্বার্থই সুরক্ষিত থাকে এবং ভুল-বোঝাবুঝির অবকাশ কমে যায়।

বাতিঘর প্রতিবছর বইমেলা শেষ হওয়ার পর পরই পরবর্তী বইমেলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। আমাদের চেষ্টা থাকে সারা বছরই নতুন বই প্রকাশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার। পাঠকের রুচি ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে ভালো মানের পাণ্ডুলিপি নির্বাচন করা হয়। পাণ্ডুলিপি যাচাই, সম্পাদনা, প্রুফ সংশোধন এবং প্রকাশ উপযোগী করে তোলার প্রতিটি ধাপেই আমরা যত্নবান থাকার চেষ্টা করি।

তবু এটি সত্যি যে, বর্তমানে সত্যিকারের ভালো মানের লেখার বড় অভাব। নানা অনিশ্চয়তা ও বাস্তব পরিস্থিতির কারণে এবারের বইমেলায় বাতিঘর ৪০টির মতো বই প্রকাশ করেছে। বাতিঘর প্রকাশনার পাশাপাশি যেহেতু পরিবেশকও, তাই আমরা চেষ্টা করি বইকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে। নিজস্ব কয়েকটি আউটলেটের মাধ্যমে আমরা সরাসরি পাঠকের কাছে পৌঁছাচ্ছি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গেও আমরা আউটলেট করেছি। এ ছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে আমরা পাঠকের কাছে সহজেই পৌঁছে যাচ্ছি।

নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও যেসব পাঠক ও ক্রেতা বইমেলায় আসছেন এবং বই কিনছেন, তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। পাঠকদের বলব, শুধু বইমেলাকে কেন্দ্র করে নয়, সারা বছর বই কিনুন এবং প্রিয়জনদের উপহার দিন। 

দীপংকর দাশ: স্বত্বাধিকারী, বাতিঘর। অনুলিখন: মুসতাক মুকুল।

শেষ মুহূর্তে বই সংগ্রহে মনোযোগী পাঠক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
শেষ মুহূর্তে বই সংগ্রহে মনোযোগী পাঠক
ছবি: খবরের কাগজ

আগের রাতের ঝোড়ো হাওয়া আর শিলাবৃষ্টির ক্ষত তখনো মেলা প্রাঙ্গণের সর্বত্র চোখে পড়ছিল। কোথাও জমে থাকা পানি, কোথাও প্যাচপেচে কাদা। কিন্তু প্রতিকূল প্রকৃতি হার মেনেছে বইপ্রেমীদের কাছে। 

শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কর্দমাক্ত মাঠ মাড়িয়েই পাঠকদের ঢল নামে অমর একুশে বইমেলায়। মেলার শেষভাগে এসে নতুন বইয়ের ঘ্রাণে সব বাধা জয় করে মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তোলেন লেখক-পাঠক দর্শনার্থীরা।

মেলার মাঠের এখানে-ওখানে কাদা জমে গেলেও তা দমাতে পারেনি বই কেনা। বরং সন্ধ্যার পর ইফতার শেষে তরুণদের দলবেঁধে স্টলে স্টলে ঘোরার দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো।

কথা হয় এক তরুণ পাঠকের সঙ্গে। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘মেলার শেষ সময় চলে এসেছে। আবহাওয়া যা-ই হোক, বছরের এই প্রিয় সময়টাতে নতুন বইগুলো সংগ্রহ না করলে চলে না। এবার দারুণ সব বই এসেছে, পছন্দের তালিকা থেকে যতটা সম্ভব সংগ্রহ করছি।’

বৃষ্টির কারণে কিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিকেলের কড়া রোদে বই শুকানোর পাশাপাশি পাঠকদের সেবা দিতে তৎপর ছিলেন কর্মীরা। বিদ্যাপ্রকাশ, পুঁথিনিলয়সহ ক্ষতিগ্রস্ত স্টলগুলোর আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণে কাজ করতে দেখা গেছে বাংলা একাডেমির কর্মীদের।

এবারের মেলায় সবচেয়ে আশার দিক ছিল তরুণ পাঠকদের আগ্রহের পরিবর্তন। কেবল ফিকশন নয়, সিরিয়াস গবেষণা ও সমকালীন সাহিত্যের খোঁজে বিভিন্ন স্টলে তরুণদের আনাগোনা বেশি ছিল। প্রকাশকরা বলছেন, তরুণ প্রজন্মের পাঠাভ্যাসের এই পরিবর্তন মেলাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

শিশুদের জন্য খোলা মঞ্চের পাশে রোদে বই শুকাতে দেখা গেলেও শিশু চত্বরে শিশু-কিশোরদের ভিড় কমেনি। মেলার শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় পাঠকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই জানান দিচ্ছে–সব দুর্যোগ ছাপিয়ে বইয়ের জয়গানই অমর একুশে বইমেলার শেষ কথা।

কাদামাখা পথ পেরিয়ে বিদ্যাপ্রকাশের স্টলে বৈকালিক আড্ডায় মেতে উঠেছিলেন কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল ও মোহিত কামাল। সময় প্রকাশনের স্টলের সামনে দেখা মিলল রহস্য-রোমাঞ্চ লেখক দীপু মাহমুদের। তিনি স্টলের অবকাঠামো নিয়ে কয়েকজন তরুণের সঙ্গে কী যেন শলাপরামর্শ করছিলেন।

গতকাল অমর একুশে বইমেলায় বেশ কয়েকটি নতুন বই এসেছে। টাঙ্গন থেকে এসেছে শামসুল হুদা সম্পাদিত ‘ইলা মিত্রের জন্মশতবর্ষ’; পাঞ্জেরী পাবলিকেশনস এনেছে নাসির আলী মামুনের স্মৃতিচারণামূলক বই ‘যে জীবন যার’ এবং তাশরিক-ই-হাবিবের স্মৃতিচারণামূলক বই ‘কথাশিল্পী শহীদুল জহির’; চন্দ্রবিন্দু এনেছে ময়ুখ চৌধুরীর গবেষণাধর্মী বই ‘ঊনিশ শতকের নবচেতনা ও বাংলা কাব্যের গতিপ্রকৃতি’; অনন্যা এনেছে মুহাম্মদ সামাদের কাব্যগ্রন্থ ‘আমার জীবন সংগ্রামমুখর’; পুঁথিনিলয় এনেছে দিদার হাসানের ভ্রমণকথা ‘দেখা অদেখা’।

চন্দ্রবিন্দু এনেছে চিত্রশিল্পী ও কবি নির্ঝর নৈঃশব্দ্যের নিরীক্ষামূলক প্রথম উপন্যাস ‘সমুদ্রের দিকে’। ৫ আগস্ট ২৪ সালের পরের ঢাকা শহরের এক রাত্রির আখ্যানের এই বই। একটা ডিসটোপিয়ান শহর ছেড়ে সারারাত্রি দুঃস্বপ্নের পেটের ভেতর হেঁটে হেঁটে একজন লেখক-চিত্রী অবশেষে দেখা পায় সমুদ্রের।

বইমেলায় বিক্রি ৮০ শতাংশ কমেছে, দাবি প্রকাশক ঐক্যের
২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় বই বিক্রি গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করেছে প্রকাশকদের সংগঠন প্রকাশক ঐক্য। গতকাল বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান হলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশক ঐক্যের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সামগ্রিকভাবে অন্যান্য স্বাভাবিক বছরের তুলনায় এবারের বই বিক্রি প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে। অংশগ্রহণকারী প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশকের স্টল নির্মাণের প্রাথমিক খরচটুকুও ওঠেনি। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রকাশকের স্টলে ৫ হাজার টাকার বইও বিক্রি হয়নি।

প্রকাশনা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি জানিয়েছে প্রকাশক ঐক্য। এর মধ্যে রয়েছে–ক্ষতিগ্রস্ত প্রকাশকদের সহায়তায় সরকারিভাবে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী প্রকাশকের অন্তত একটি করে মানসম্পন্ন বইয়ের ৩০০ থেকে ৫০০ কপি কেনা, প্রকাশনা খাতের জন্য সরকারি বই ক্রয়ের বাজেট বৃদ্ধি এবং প্রকাশনা সম্পর্কিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। এ ছাড়া স্কুল-কলেজের লাইব্রেরি উন্নয়ন, বন্ধ হয়ে যাওয়া লাইব্রেরি পুনরায় চালু করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘লাইব্রেরি ক্লাস’ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দেশব্যাপী পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে একটি সমন্বিত কর্মসূচি নেওয়ার আহ্বান জানায় প্রকাশক ঐক্য।

গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা 
প্রকাশনা শিল্পে অনন্য অবদানের জন্য এ বছর বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার পাচ্ছে।

২০২৫ সালে বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য কথাপ্রকাশ পাচ্ছে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’। ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্য, প্রথমা, ইউপিএল ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ পাচ্ছে।

২০২৫ সালে গুণমান বিচারে সর্বাধিক শিশুতোষ গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পাঞ্জেরী পাবলিকেশনস পাচ্ছে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’। গুণগতমান বিচারে সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সহজ প্রকাশ পাবে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’। এবারের বইমেলায় নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ক্রিয়েটিভ ঢাকা পাবলিকেশনস, মাত্রা প্রকাশ, বেঙ্গলবুকস ‘শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ পাচ্ছে।

আজ রবিবার বেলা ৩টায় বইমেলার সমাপনী আয়োজনে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রকাশকদের হাতে এসব পুরস্কার তুলে দেবেন।