প্রতিবছর মেলার প্রথম দিকে পাঠক সমাবেশ কম হয়। প্রথম সপ্তাহটা একটু ঢিলেঢালা থাকে। মাঝামাঝি পর্যায়ে গিয়ে ভিড় বাড়ে। কিন্তু এবার শুরু থেকেই ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। এর একটা কারণও থাকতে পারে। এবার অনেক স্টল হয়েছে। কনজাসটেড হয়ে গেছে জায়গাটা। তাই লোকজন বেশি বেশি মনে হতে পারে। তবে শুক্রবার (গতকাল) ছুটির দিন থাকায় স্বাভাবিকভাবেই প্রচুর পাঠক-দর্শনার্থী এসেছেন।
আমরা তো সারা বছর বই প্রকাশ করি। আমরা ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে প্রায় ৬০টির মতো বই প্রকাশ করেছি। সারা বছরে প্রকাশ করেছি প্রায় ১০০টি। এই বইগুলোর সবই আমরা মেলায় নিয়ে এসেছি। দু-একটা বই, আমার ধারণা, দু-এক দিনের মধ্যে চলে আসবে। বইমেলায় এবার আমরা সব ধরনের বই প্রকাশ করেছি।
উপন্যাস আছে বেশ কয়েকটি। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে আছেন মোস্তফা কামাল ও ইমদাদুল হক মিলন। এর বাইরে আমরা বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য বই প্রকাশ করেছি। জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতির ওপর একটা বই প্রকাশ করেছি। বিষয় ভাগ করে করেছি। ম্যাট পেপারে চার রঙে ছাপা। কে এম রাজিব ছবি তুলে বইটির পাণ্ডুলিপি তৈরি করে দিয়েছেন। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বই করেছি। খালেদা জিয়ার ওপর গবেষণামূলক বই। লিখেছেন, মহিউদ্দিন আহমেদ। বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য বই আছে আমাদের এই মেলাতেই। নৃতত্ত্বের ওপর একটি বই আসছে। স্বকৃত নোমানের ‘নির্বাচিত গল্প’ করেছি। ইমদাদুল হক মিলনের ছোটদের একটা বই আছে, ভালো।
একটা কথা বলি। এখন প্রকাশনার ধরনটা চেঞ্জ হয়ে গেছে। এর সঙ্গে আমরা খাপ খাওয়াতে পারছি না। ধরেন, আমরা যখন প্রকাশনা করি তখন বিষয় নিয়ে ভাবি। সারা বছর সাজাই। কিন্তু এখন যারা প্রকাশক হয়েছেন, তরুণ বন্ধুরা আমার, তারা শুধু ফেসবুককেন্দ্রিক বই প্রকাশ করেন। এগুলোকে আমরা লেখাও বলি না, লেখকও বলি না। জাস্ট এল, বিক্রি হলো, শেষ হলো। আসলে একজন প্রকাশকের দায়িত্ব হচ্ছে লেখকের সৃজনশীলতাকে বিকশিত করা। আমি আরেকটি বইয়ের কথা ভুলে গিয়েছিলাম বলতে। এবার আমাদের মেয়েরা সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনল, নারী ফুটবলাররা, তাদের নিয়ে একটা বই করেছি- ‘স্বপ্নছোঁয়া আমাদের কন্যারা’। লেখক সুদীপ্ত আনন্দ। তিনি একজন স্পোর্টস রিপোর্টার। আমি মনে করেছি, এই মেয়েদের ইতিহাসের অংশ করে রাখা উচিত। হতদরিদ্র এবং খুব কষ্ট করে যে মেয়েরা ফুটবল খেলে আমাদের জাতীয় গৌরব বয়ে এনেছে, তাদের কোনো মূল্যায়ন নেই। সেই ত্যাগী, লড়াকু মেয়েদের কথা ভেবে বইটি করেছি। একজন প্রকাশের কাজই তো হচ্ছে এই ধরনের বই করা। দেখুন, আপনি কথা বলেন, দেখবেন, হুট করে একজন বই বিক্রি করে চলে গেল, কী বই প্রকাশ করছেন, কেন করছেন, ভাবলেই কষ্ট হয়।
আমার প্রকাশনী থেকে একই সঙ্গে গবেষণামূলক ও সৃজনশীল বই বের করি। এই ধরনের লেখাই আমরা চাই। এটাই আমাদের কাজ। হয়তো আমরা থাকব না, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম থাকবে। তাদের জন্যই আপনাদের মতো লেখকদের বই করে যেতে চাই। আলু-পটোলের ব্যবসা করলে অনেক হয়তো লাভ হতো, কিন্তু বই প্রকাশেই আমার আনন্দ।