প্রথম সারির প্রকাশকদের প্রবল আপত্তির পরও আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে বইমেলা আয়োজন করতে যাচ্ছে বইমেলা পরিচালনা কমিটি। তবে এই বইমেলায় প্রথম সারির ৩০০ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে না।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও বাংলা একাডেমির সচিব মো. সেলিম রেজা খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে। আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এনেছি। আমন্ত্রণপত্রও ছাপা হয়ে যাবে দু-এক দিনের মধ্যে।’
তিনি জানান, ৩৫০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এবারের বইমেলায় অংশ নিচ্ছে। সবমিলিয়ে ইউনিট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১৫। এর মধ্যে ১৪টি প্রতিষ্ঠান প্যাভিলিয়ন পেয়েছে। গতবারের বইমেলায় প্যাভিলিয়নের আবেদন জানিয়েও অনেক প্রকাশক পাননি। তবে এবার তারা প্রথম সারির অভিজাত প্রকাশকদের অনুপস্থিতিতে প্যাভিলিয়ন পেয়েছেন।
২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু হওয়ার প্রতিবাদে দেশের খ্যাতিমান প্রথম সারির ৩০০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে না। এতে বইমেলার ইতিহাসে সবচেয়ে নিষ্প্রাণ পরিবেশে এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন বইপ্রেমী পাঠক, লেখকরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব সেলিম রেজা বলেন, ‘আমরা আশা ছাড়ছি না। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি, তাদের বইমেলায় আনতে পারব।’
রমজান মাসে বইমেলা শুরু হলে ‘আর্থিক ক্ষতি’র শঙ্কায় এবারের বইমেলায় যাচ্ছে না খ্যাতিমান ৩০০ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। তারা বলছে, রমজানে রাজধানীর সব স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় দর্শক-পাঠকের সমাগম হবে খুবই কম। বিক্রি ৯০-৯৫ ভাগ কমে যাবে। বিনিয়োগ করা অর্থ বই বিক্রি করে উঠে আসবে না, এমন শঙ্কার কথাও জানিয়েছেন তারা।
বইমেলার আয়োজন পেছাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালককে একাধিকবার চিঠি দিয়েছেন প্রথম সারির এই প্রকাশকরা। কিন্তু বাংলা একাডেমি সব আবেদন অগ্রাহ্য করেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রকাশকরা। তাদের বইমেলায় আনতে স্টল ভাড়ায় ৫৫ শতাংশ অর্থ মওকুফ করার প্রস্তাবও দেয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। কিন্তু প্রকাশকরা বইমেলায় অংশ নিতে রাজি হননি।
গত শনিবার প্রথম সারির প্রকাশকরা বইমেলা পেছানোর আবেদন জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারেক রহমানকে লেখা খোলা চিঠিতে প্রকাশকরা বলেছেন, ‘দেশের ৯০ ভাগ প্রকাশক মনে করছেন এ সময়ে মেলায় অংশগ্রহণ করা হবে ব্যবসায়িক আত্মহত্যার শামিল।’
এ বিষয়ে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অনন্যার প্রকাশক মনিরুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা আগেই জানিয়েছিলাম, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু হলে আমরা অংশ নেব না। প্রথম সারির সব প্রকাশককে বাদ দিলে মেলা কী আর প্রাণবন্ত থাকবে?’
এবার বইয়ের স্টল বরাদ্দে অনিয়ম হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মেলার নীতিমালা ভঙ্গ করে আবেদন না করা সত্ত্বেও অনেক প্রকাশনীকে ডেকে নিয়ে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অনেকের টাকা এখনো নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া গতবার ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে যাদের প্যাভিলিয়ন বাতিল করে তিন বা চার ইউনিটের স্টল বরাদ্দ করা হয়েছিল, তারা এ বছর প্যাভিলিয়ন পাচ্ছে। তাহলে গত বছর নাটকটা কেন করল?’
পরে তিনি জানান, প্রথম সারির প্রকাশকরা ঈদের পরে ঢাকায় একটি ‘বিকল্প বইমেলা’র আয়োজন করবেন বলে পরিকল্পনা করছেন।
এদিকে সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ও সূচীপত্রের প্রকাশক সাঈদ বারী জানান, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই বইমেলা শুরু হবে, এমন কোনো বার্তা এখনো পাননি তিনি। সূচীপত্র ছাড়া অন্য যেসব প্রকাশনী অংশ নিচ্ছে, তারাও কোনো সুস্পষ্ট বার্তা পায়নি।’